“তুমি কটা বাচ্চার জন্ম দিয়েছ, কতজনকে ডাক্তার বানিয়েছ?” “নিজের মা হোক বা অন্য কারও মা, অপমান করে দিলেই তো মিলিয়নে ভিউ, সাফল্যের মাপকাঠি!” “ভিউসের নেশায় মানবিকতার সীমা ভুলেছ, তুমি জানো কী ডিজার্ভ করো?” অভয়ার মাকে ‘মা হওয়ার অযোগ্য’, ‘প্যানপ্যানে’ কটা’ক্ষে বিতর্ক আরজে প্রিয়াঙ্কা! সন্তানহারা মাকে অপমানে বি’স্ফোরক চাঁদনী গাঙ্গুলী! একহাত নিয়ে কী বললেন?

সন্তানহারা এক মায়ের ন্যায়বিচারের লড়াই থেকে রাজনীতির ময়দান, অভয়ার মা ‘রত্না দেবনাথ’কে (Ratna Debnath) ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিতর্ক যেন থামছেই না। বারুইপুরের একটি ঘটনা নিয়ে তাঁর সাম্প্রতিক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই নানা মহলে সমালোচনা শুরু হয়েছিল। সেই আবহেই কনটেন্ট ক্রিয়েটর আরজে প্রিয়াঙ্কার একটি ভিডিও নতুন করে বিতর্ক উস্কে দেয়। ভিডিওতে তিনি অভয়ার মাকে নিয়ে একাধিক কটাক্ষপূর্ণ মন্তব্য করেন, যা মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়। তবে সেই ভিডিও ঘিরেই এবার উল্টো সমালোচনার মুখে পড়েছেন প্রিয়াঙ্কা। আর এবার তাঁকে প্রকাশ্যে আক্রমণ করলেন জনপ্রিয় নৃত্যশিল্পী ও কোরিওগ্রাফার চাঁদনী গাঙ্গুলী (Chandni Ganguly)।

ভাইরাল ভিডিওতে আরজে প্রিয়াঙ্কাকে বলতে শোনা যায়, রাজনীতিতে এলে মানুষ বদলে যায়। অভয়ার মায়ের ছবি দেখিয়ে তিনি তাঁকে ‘প্যানপ্যানে’ বলে কটাক্ষ করেন এবং দাবি করেন, তিনি নাকি একজন ভালো মা হওয়ারও যোগ্য নন। এমনকি তিনি প্রশ্ন তোলেন, অভয়ার মা আদৌ সহানুভূতি অর্জনের চেষ্টা করছেন নাকি রাজনীতি করছেন। ভিডিওর একাধিক মন্তব্যকে ঘিরে নেটিজেনদের একাংশ ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁদের অভিযোগ, একজন সন্তানহারা মায়ের ব্যক্তিগত যন্ত্রণা ও দীর্ঘদিনের ন্যায়বিচারের লড়াইকে এভাবে বিদ্রূপ করা অত্যন্ত অমানবিক এবং অসংবেদনশীল। এই বিতর্কের মধ্যেই নিজের সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করেন চাঁদনী গাঙ্গুলী।

ভিডিওর শুরুতেই তিনি বর্তমান সোশ্যাল মিডিয়া সংস্কৃতির কড়া সমালোচনা করেন। চাঁদনীর কথায়, “এখন যার যত বেশি ফলোয়ার, সে তত বেশি যা খুশি বলার লাইসেন্স পেয়ে যায়। নিজের মা হোক বা অন্য কারও মা, কাউকে অপমান করে দিলেই যদি কনটেন্টে মিলিয়ন ভিউ আসে, তাহলে সেটাই যেন এখন সাফল্যের মাপকাঠি।” যদিও তিনি মজার ছলেই বলেন, প্রিয়াঙ্কার ব্যক্তিগতভাবে খুব একটা দোষ নেই। তাঁর মতে, সমাজে এই ধরনের কনটেন্টের চাহিদা তৈরি হয়েছে বলেই অনেক কনটেন্ট ক্রিয়েটর এমন ভিডিও বানাতে উৎসাহিত হন। এরপর চাঁদনী সরাসরি প্রিয়াঙ্কার উদ্দেশে প্রশ্ন তোলেন।

তিনি বলেন, “অভয়ার মাকে নিয়ে এত কথা বলছ, কিন্তু তুমি কি একবারও ভেবেছ তোমার বাবা-মা এই ভিডিও দেখে কী অনুভব করছেন? তাঁদের কি খারাপ লাগে না?” এরপর নিজেই সেই প্রশ্নের উত্তরও দেন চাঁদনী। তাঁর বক্তব্য, “হয়তো বাবা-মার খারাপ লাগে, কিন্তু সেটা প্রকাশ করার ক্ষমতা তাঁদের নেই। কারণ তাঁদের তো মিলিয়ন মিলিয়ন ফলোয়ার নেই। আজকাল সোশ্যাল মিডিয়ায় জনপ্রিয়তা থাকলেই যেন সব কথা বলার অধিকার পাওয়া যায়।” চাঁদনীর এই মন্তব্য ইতিমধ্যেই নেটমাধ্যমে ব্যাপকভাবে শেয়ার হতে শুরু করেছে। ভালো মা হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে আনার জন্যও প্রিয়াঙ্কাকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন চাঁদনী।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, “ভালো মা হওয়ার সংজ্ঞা কী? একজন মা যিনি নিজের মেয়েকে ডাক্তার বানিয়েছেন, তাঁকে কীভাবে খারাপ মা বলা যায়?” এরপর তিনি আরও বলেন, “তুমি কতজন সন্তানকে মানুষ করেছ? কতজনকে ডাক্তার বানিয়েছ যে একজন মাকে এইভাবে বিচার করছ?” চাঁদনীর দাবি, রত্না দেবনাথ রাজনীতিতে এসেছেন কোনও ক্ষমতার লোভে নয়, বরং মেয়ের মৃত্যুর বিচার পাওয়ার তাগিদে। তিনি বলেন, “আজ তিনি রাজনীতিতে আছেন, কিন্তু সেটা তাঁর সৌভাগ্য নয়, দুর্ভাগ্য। কারণ মেয়েকে হারানোর যন্ত্রণা থেকেই তাঁকে এই পথে আসতে হয়েছে।” পাশাপাশি চাঁদনী মন্তব্য করেন, অভয়ার মা প্রতিদিন মানসিকভাবে অপমানের শিকার হন। সমাজের একাংশ তাঁকে বারবার শুনিয়ে দেয় যে তিনি নাকি সহানুভূতি কাজে লাগিয়ে রাজনীতি করছেন, যা একজন মায়ের জন্য অত্যন্ত কষ্টের।

আরও পড়ুনঃ “জোর করে আমাকে কেউ পছন্দ করুক, সেটা চাই না…বন্ধুত্বও সবার সঙ্গে করা উচিত না!” জোর করে নয়, মন থেকে তৈরি হওয়া সম্পর্কতেই বিশ্বাসী হানি বাফনা! কী ঘটেছে তাঁর জীবনে? কোন তিক্ত অভিজ্ঞতার স্মৃতি ভাগ করে এমন মন্তব্য করলেন অভিনেতা?

ভিডিওর শেষাংশে চাঁদনী আরও তীব্র ভাষায় প্রিয়াঙ্কার সমালোচনা করেন। তাঁর কথায়, “রত্না দেবনাথ পেশাদার রাজনীতিবিদ নন। তাই হয়তো অনেক সময় তিনি সরলভাবে মনের কথা বলে ফেলেন। তিনি মিথ্যেকে সুন্দর করে সাজিয়ে বলতে পারেন না, আর সেই কারণেই ট্রোলের শিকার হন।” এরপর প্রিয়াঙ্কার ‘ছি’ মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে চাঁদনী বলেন, “তুমি জানো তুমি কী ডিজার্ভ করো? একটা কষিয়ে থাপ্পড়। তোমার মা যদি অনেক আগেই সেই থাপ্পড়টা মারতেন, তাহলে হয়তো আজ একজন সন্তানহারা মাকে এভাবে অপমান করতে না।” চাঁদনীর এই ভিডিও সামনে আসার পর নতুন করে শুরু হয়েছে বিতর্ক। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই তাঁর বক্তব্যকে সমর্থন করেছেন, আবার কেউ কেউ বিষয়টিকে আরও উত্তেজনা বাড়ানোর চেষ্টা বলেও মন্তব্য করেছেন।

You cannot copy content of this page