“শেষ ৩৯ দিনের সময় আসছে…” “আমার মেয়েটার মৃ’ত্যুর জন্য কীভাবে আপনার ছেলে ও ভাই দায়ী, এবার বাধ্য হয়েই বলছি…” স্ক্রিনশট দেখে আর চুপ থাকতে পারলেন না সায়নীর মা, বাধ্য হয়েই মুখ খুললেন মলি চক্রবর্তী! ক্ষো’ভে ফেটে পড়ে ফাঁস করলেন চাঞ্চল্যকর তথ্য! বি*স্ফোরক অভিযোগে তোলপাড় নেটপাড়া!

সোশ্যাল মিডিয়ার পরিচিত মুখ সায়নী চক্রবর্তীর মৃ’ত্যুর পর এখনও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেনি তাঁর পরিবার। কয়েকদিন আগেই একটি ভিডিও বার্তায় মেয়েকে হারানোর অসহ্য য’ন্ত্রণা, বাড়ির সকলের মানসিক অবস্থা এবং সায়নীর রেখে যাওয়া অবলা প্রাণীদের নিয়ে আবেগঘন কথা বলেছিলেন মা মলি চক্রবর্তী (molee Chakraborty)। সেই ভিডিওতে তিনি বলেছিলেন, “আমার মেয়েটা চলে গেল…একজন সন্তানহারা মায়ের অভিশাপ রইল, বেঁচে থেকে তিলে তিলে মরবি তুই!” সেই ভিডিও ঘিরে নেটমাধ্যমেও আবেগঘন প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছিল। এরপর রথযাত্রার দিন ফের একটি নতুন ভিডিও প্রকাশ করেন মলি। সেখানে তিনি জানান, প্রতি বছর রথের দিন তাঁদের বাড়িতে আনন্দের পরিবেশ থাকলেও এবার সবকিছু বদলে গিয়েছে।

মেয়ের অভাব প্রতিটি মুহূর্তে অনুভব করছেন তিনি। তাই মন ভালো না থাকলেও সুন্দরীকে এনে স্নান করিয়েছেন এবং নিজের হাতে ভালো খাবার খাইয়েছেন। ভিডিওতে মলি বলেন, “প্রতিবছর রথযাত্রার দিন অনেক আনন্দ করি, কিন্তু এই বছর সবকিছু পাল্টে গেছে। মনটা মানছিল না, তাই সুন্দরীকে এনে একটু স্নান করিয়ে, ভালো-মন্দ খাওয়ার খাওয়ালাম। আসলে সুন্দরীকে যখন খেতে দিই, ওইটুকু সময়ই ওর মুখে আনন্দ দেখতে পাই, ও খেতে তো খুব ভালবাসে। আপনাদের সবাইকেও জানাই অসংখ্য ধন্যবাদ, এইভাবেই পাশে থাকবেন। আপনাদের ভালো কথাগুলো আমাকে রোজ অনুপ্রেরণা দিচ্ছে বেঁচে থাকতে। তবে, এবার বাধ্য হয়েই বেশকিছু কথা বলল। পরশুদিন আমার ওহাটসঅ্যাপে একটি পোস্টের স্ক্রিনশট আসে, সেখানে দেখলাম একটা পরিবারের ছবি এবং বেশকিছু কথা লেখা আছে।

আমি অবাক হয়ে গেলাম সেই ছবির মধ্যে একজনের মুখে হাসি! কী করে হাসিটা বেরোচ্ছে আমি জানি না। এরই সঙ্গে লিখেছে, ‘শেষ ৩৯ দিনের সময় আসছে…’ আর কী সময় আসবে? ৩৯ দিন নিজের ছেলেকে দেখতে পারেননি বলে যে এত ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন, একবারও ভেবে দেখেছেন আমার মেয়েটা যে সারা জীবনের মতো চলে গেছে? আর সেটার জন্য কোথাও না কোথাও আপনার এবং ভাই দায়ী আছে। চার বছর তাঁর সঙ্গে ভালবাসার মিথ্যে নাটক করে, কোনও কারণ ছাড়াই তাঁকে শেষে করে দিয়ে বলেছে মানসিক ভারসাম্যহীন…এতটাই তাঁকে ভেঙে দিয়েছিল যে সে নিজেকে শেষ করে নিল।” একই বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, “আর আমার শিক্ষার কথা বলছেন?

বলেছেন নাকি এমন শিক্ষা নেই যে কাউকে অভিশাপ দেবেন…আজকে যদি আমার জায়গায় আপনারা হতেন, কী করতেন? আর আমিও দিতাম না, যদি দেখতাম এই খবরটা পাওয়ার পর আপনার ছেলে বা পরিবারের মানুষরা এই অসময়ে আমাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। উল্টে সে পালিয়ে গেছে, মানুষ কখনও পালায় যখন ভয় থাকে? নিশ্চই জানে নিজের দোষটা! আপনাদের কী শিক্ষা আছে? ছেলে ঘরে বসে মদ খায়, কোনও শাসন করেন না! মায়ের মন্দিরে বসেও তো আপনার ছেলে নেশা করে, সেটা কী শিক্ষার মধ্যে পড়ে? যেখানে আমি আর আমার মেয়েকে কোনদিনও দেখতে পারব না…আপনারা পার্টি করছেন, নাচ-গান চলছে বাড়িতে!

রান্না হচ্ছে, দলে দলে বান্ধবীরা আসছে। অসৎ কাজ করেও যে এত বড় বড় করা…আমি তো আজও বলছি আপনার ছেলে কোনদিনও সুখী হবে না! আমার মেয়ে কি ছিল, সেটা সবাই জানে। তাই আর উল্টোপাল্টা কথা বলে নিজেদের ছোট করবেন না!” তাঁর এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সমাজমাধ্যমে। প্রসঙ্গত, সায়নী চক্রবর্তীর মৃ’ত্যুর পর থেকেই ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়। পরিবার শুরু থেকেই অভিযোগ করে আসছে, দীর্ঘদিনের সম্পর্কের নানান ঘটনার জেরেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন সায়নী। আগের ভিডিওতেই মলি জানিয়েছিলেন, অভিযুক্তকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে আইন শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেবে, তা বিচার প্রক্রিয়ার উপরেই নির্ভর করছে।

আরও পড়ুনঃ “অভিষেক দাকে সফট টার্গেট বানানো হয়েছে…রোজ চারটে-পাঁচটা করে কেস দিচ্ছে!” “অভিষেক দা কর্মীদের সঙ্গে ‘বাবা বাছা’ করে কথা বলেন”, ‘৪ তারিখের পর তৃণমূল ক্ষমতায় থাকলে কি একই রকম করতে পারত?’ অভিষেকের ‘ঔদ্ধত্য’ ঘিরে সমালোচনায় বি*স্ফোরক ময়না বন্দ্যোপাধ্যায়! রচনা-শতাব্দীদের মন্তব্যে কড়া জবাবে কী বললেন?

একই সঙ্গে তিনি একজন সন্তানহারা মায়ের অভিশাপের কথাও প্রকাশ্যে বলেছিলেন, যা নিয়ে তখনও বিস্তর আলোচনা হয়েছিল। নতুন ভিডিওতেও সেই ক্ষোভ এবং যন্ত্রণা স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। এদিকে, সব প্রতিকূলতার মধ্যেও সায়নীর রেখে যাওয়া অবলা প্রাণীদের দেখাশোনা করাকেই এখন নিজের প্রধান দায়িত্ব বলে জানিয়েছেন মলি চক্রবর্তী। ব্যক্তিগত শোক কাটিয়ে ওঠা এখনও তাঁর পক্ষে সম্ভব হয়নি, তবু প্রাণীগুলোর জন্যই নিজেকে শক্ত রাখার চেষ্টা করছেন। পাশাপাশি, যাঁরা এই কঠিন সময়ে তাঁর পাশে রয়েছেন, তাঁদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তিনি। মেয়ের স্মৃতি, তার ভালোবাসা এবং তার অসমাপ্ত দায়িত্ব নিয়েই সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন সায়নীর মা।

You cannot copy content of this page