দিল্লিতে ছাত্র আন্দোলন, সোনম ওয়াংচুকের অনশন এবং পুলিশি পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক। সোমবার যন্তর মন্তর এলাকায় বিক্ষোভ চলাকালীন পুলিশের লাঠিচার্জের একাধিক ভিডিও সামনে আসার পর বিষয়টি নিয়ে সরব হন বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি। বলিউডের শাবানা আজমি, সোনাক্ষী সিনহা, রীতেশ দেশমুখ, নাসিরুদ্দিন শাহ-সহ একাধিক তারকা প্রতিবাদ জানিয়েছেন। টলিউড থেকেও কয়েকজন শিল্পী এই ঘটনায় নিজেদের মত প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মধ্যেই অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্রের একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। যদিও তিনি কোনও রাজনৈতিক দলের নাম উল্লেখ করেননি, তবুও তাঁর বক্তব্যে চারপাশের পরিস্থিতি নিয়ে গভীর মানসিক আঘাতের ইঙ্গিত স্পষ্ট।
এদিকে দু’দিন আগে, শনিবার ভোরে অনশনরত সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুককে হঠাৎ করেই তুলে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। তাঁর স্ত্রী গীতাঞ্জলি জে আংমো দাবি করেন, সফদরজং হাসপাতালে তাঁকে কার্যত বেআইনিভাবে আটকে রাখা হয়েছে। হাসপাতালেই অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন সোনম। সোমবার তাঁর অনশন ভাঙার কথা থাকলেও, ছাত্রছাত্রীদের উপর পুলিশের লাঠিচার্জের প্রতিবাদে তিনি অনশন না ভাঙার সিদ্ধান্ত নেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই সামাজিক মাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। বিভিন্ন মহল থেকে এই ঘটনার নিন্দা করা হয় এবং আন্দোলনের প্রতি সংহতিও জানানো হয়।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই শ্রীলেখা মিত্র নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি আবেগঘন বার্তা পোস্ট করেন। তিনি লেখেন, ‘চারপাশের সবকিছু দেখে আমি ক্লান্ত—নির্যাতন, নিষ্ঠুরতা, ভণ্ডামি, আর মানুষের একের পর এক অন্যায়, যা আমাদের সবাইকে ধীরে ধীরে নৈতিক অধঃপতনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। শুধু ইচ্ছে করে কোনো গাছের ছায়ায় মাথা রেখে চিরদিনের জন্য বিশ্রাম নিই, আর এই ঘৃণা ও হিংসায় ভরা পৃথিবীকে দেখার জন্য আর কখনও চোখ না খুলি। সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের কাছে আমার একটাই প্রার্থনা— তিনি যেন আমাকে এই সবকিছু থেকে মুক্তি দেন। অবশেষে যেন শান্তিতে বিশ্রাম পাই।’ তাঁর এই পোস্ট প্রকাশ্যে আসতেই অনুরাগীদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়। অনেকেই তাঁর মানসিক অবস্থার প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেন।
শ্রীলেখার পোস্টে এক নেটিজেন মন্তব্য করে লেখেন, ‘প্রতিটি অনুভূতির মধ্যে নিজেকে এতটা ডুবিয়ে দিও না। মনে মনে নিজেকে যেন একটা ড্রোনে বসিয়ে নিয়ে অনেক ওপরে, মহাশূন্য থেকে পৃথিবীটাকে কিছুক্ষণ দেখো। আমি এভাবেই ভাবার চেষ্টা করি। এতে অনেক কিছু পরিষ্কার হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত আমরা সবাই এই পৃথিবীতে কেবল পথচলতি পথিক—কিছুটা সময়ের জন্য এসেছি, তারপর আবার চলে যাব।’ সেই মন্তব্যের জবাবে অভিনেত্রী আরও একবার নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, ‘কজন ছাত্র আত্মহত্যা করলে, কজন অনশনরত মানুষ মারা গেলে এটা কেটে যাবে?’ তাঁর এই উত্তরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক মাধ্যমে এবং তা নিয়ে শুরু হয় নতুন করে আলোচনা।
সোমবার যন্তর মন্তর থেকে শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ শুরু হলেও পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে সাধারণ পোশাক পরা কয়েকজন ব্যক্তিকেও লাঠি হাতে আন্দোলনকারীদের মারধর করতে দেখা যায়। তাঁদের গায়ে পুলিশ বা র্যাফের পোশাক ছিল না বলেও অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করা হয় বলেও জানা যায়। একইসঙ্গে দিল্লির একাধিক এলাকায় জ্যামার বসানো হয় এবং বেশ কিছু মেট্রো স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়, যার ফলে দিনভর উত্তেজনা বজায় থাকে।
আরও পড়ুনঃ “যা নেই তা নয়, যা আছে তা নিয়েই খুশি!” ১৮০ টাকার ঘড়িতেই সুখ, আজও গড়িয়ার গলিতে নাইটি কিনতে যান! ব্র্যান্ডে কোনও মোহ নেই, জনপ্রিয় অভিনেত্রী হয়েও কেন এত সাধারণ জীবনযাপন করেন চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায়? গ্ল্যামারের ভিড়েও মাটির মানুষ, স্ত্রীর স্বচ্ছ জীবনযাপনের নেপথ্যের গল্প শোনালেন কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়!
অন্যদিকে আন্দোলনকারী সংগঠনের একটি প্রতিনিধি দল সোমবার কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী তথা বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি জেপি নাড্ডার সঙ্গে বৈঠক করে। সেখানে তিন দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলির মধ্যে রয়েছে সোনম ওয়াংচুকের নিঃশর্ত মুক্তি, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের পর আত্মহত্যাকারী পড়ুয়াদের পরিবারের জন্য এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ। দলের মুখপাত্র অশুতোষ রাঙ্কা জানান, জেপি নাড্ডা বিষয়টি নিয়ে সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করার জন্য কিছুটা সময় চেয়েছেন। পাশাপাশি আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চলতেই থাকবে।






