বাংলা সিনেমা এবং টেলিভিশনের পরিচিত মুখ চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও দর্শকদের কৌতূহল কম নয়। দীর্ঘদিন ধরে পরিচালক কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক এবং দাম্পত্য বহু মানুষের কাছে অনুপ্রেরণা। তবে অনেকেরই অজানা, জীবনের শুরুতে বিয়ে নিয়ে তাঁর ভাবনা ছিল একেবারেই আলাদা। সম্প্রতি শ্রীময়ী পিউকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের ছোটবেলার সেই অজানা ইচ্ছার কথা খোলাখুলি জানিয়েছেন অভিনেত্রী। তাঁর কথায়, জীবনের পরিকল্পনা একরকম থাকলেও বাস্তব অনেক সময় সম্পূর্ণ ভিন্ন পথে নিয়ে যায় মানুষকে।
চূর্ণী জানান, ছোটবেলা থেকেই তিনি বিয়ে করার কথা ভাবতেন না। বরং তাঁর ইচ্ছে ছিল ‘নান’ হয়ে মানুষের সেবায় নিজের জীবন উৎসর্গ করবেন। তিনি স্পষ্ট করেন, এই সিদ্ধান্তের পিছনে কোনও ধর্মীয় কারণ ছিল না। খ্রিস্টান ধর্মের প্রতি বিশেষ আকর্ষণের জন্য নয়, বরং প্রকৃতির কাছাকাছি থেকে সাধারণ মানুষের পাশে থাকার স্বপ্নই তাঁকে এমন ভাবতে শিখিয়েছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জীবনের গতিপথ বদলে যায় এবং সেই স্বপ্ন অন্য রূপ নেয়। পড়াশোনার জন্য কলকাতায় এসে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পরই কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়।
থিয়েটারের প্রতি দু’জনের সমান টান থেকেই প্রথমে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। পরে কৌশিকই প্রথম ভালোবাসার কথা জানান। যদিও শুরুতে চূর্ণী সেই সম্পর্কে রাজি ছিলেন না, ধীরে ধীরে তাঁদের সম্পর্ক আরও গভীর হয়। শেষ পর্যন্ত ১৯৯৩ সালের ১৬ জানুয়ারি তাঁরা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। যে মানুষটিকে একসময় শুধুই ‘কৌশিকদা’ বলে চিনতেন, তিনিই পরবর্তীকালে হয়ে ওঠেন তাঁর জীবনসঙ্গী। চূর্ণীর কথাতেই স্পষ্ট, বিয়ে নিয়ে প্রথমে দ্বিধা থাকলেও পরে সেই সম্পর্ককে তিনি আন্তরিকভাবে গ্রহণ করেছেন। অন্যদিকে কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ও বহুবার জানিয়েছেন, স্ত্রীকে তিনি সবসময় বিশেষ গুরুত্ব দেন।
দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনে কাজ, পরিবার এবং পারস্পরিক বোঝাপড়ার মধ্যেই এগিয়ে গিয়েছেন তাঁরা। বর্তমানে তাঁদের ছেলে উজানও চলচ্চিত্র পরিচালনার জগতে নিজের পথচলা শুরু করেছেন। আগামী ২৪ জুলাই মুক্তি পেতে চলেছে উজানের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্যের ছবি ‘কাতুকুতু বুড়ো’, যা নিয়ে পরিবারেও রয়েছে আলাদা উচ্ছ্বাস। এদিকে কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের পরিচালিত নতুন ছবি ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’ও প্রেক্ষাগৃহে চলছে। এই ছবিতে অভিনয় করেছেন কৌশিক সেন, জয়া আহসান এবং চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায়।
আরও পড়ুনঃ “আমরা সারারাত ঘর থেকে বেরোতেই পারিনি, না খেয়ে কাটিয়েছি…পরের দিন সকালে শুনি বহু মানুষের মৃ’ত্যু হয়েছে!” এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে মানুষ আসলে কতটা ক্ষুদ্র? কী এমন ভয়ংকর অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিলেন স্ত্রী এবং মেয়েকে নিয়ে বাদশা মৈত্র, যা এক রাতেই জীবন সম্পর্কে বদলে দিয়েছিল ভাবনাকে? অভিনেতা শোনালেন সেই গল্প!
২০২৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘অর্ধাঙ্গিনী’ যেখানে শেষ হয়েছিল, নতুন ছবির গল্প সেখান থেকেই এগিয়েছে। একদিকে নতুন ছবির সাফল্য, অন্যদিকে ছেলের পরিচালনায় প্রথম ছবি মুক্তির অপেক্ষা, সব মিলিয়ে এখন ব্যস্ত সময় কাটছে চূর্ণী ও কৌশিকের পরিবারের। আর সেই সময়েই অভিনেত্রীর ছোটবেলার এই অজানা স্বপ্নের কথা সামনে আসায় নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে অনুরাগীদের মধ্যে।






