বিগ বস বাংলার ঘরে ক্যাপ্টেন্সি টাস্ক ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। কাঠের ঘোড়ায় চড়ে প্রতিযোগিতার সময় নন্দিনী দত্তের ধাক্কায় গুরুতরভাবে আহত হন অভিনেত্রী সৃজলা গুহ। ঘটনার পর থেকেই এই শারীরিক আঘাত নিয়ে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক। শুধু বিগ বসের ঘরেই নয়, বিষয়টি নিয়ে দুই অভিনেত্রীর প্রচার দলও প্রকাশ্যে নিজেদের অবস্থান জানিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, প্রতিযোগিতার সময় নন্দিনীর আচরণ প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি আক্রমণাত্মক ছিল। ঘটনার পর সৃজলার কান্না এবং যন্ত্রণার দৃশ্য প্রকাশ্যে আসতেই দর্শকদের মধ্যেও প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। এরপর নন্দিনীর প্রচার দলের ক্ষমা চাওয়ার পরও বিতর্ক থামেনি, বরং সৃজলার দলের পাল্টা বক্তব্যে তা আরও বেড়েছে।
ঘটনার শুরু ক্যাপ্টেন্সি টাস্কের শেষ পর্বে। খেলা শুরুর আগে বিগ বসের তরফে স্পষ্টভাবে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছিল, কাউকে ধাক্কা দেওয়া বা গায়ে হাত তোলা যাবে না। এমনকি কাউকে নামানোর সময় অতিরিক্ত বা নিয়ন্ত্রণের বাইরে গিয়ে শক্তি প্রয়োগ করতেও নিষেধ করা হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগ, খেলা শুরু হওয়ার পর সেই সতর্কতার তোয়াক্কা করেননি নন্দিনী। সৃজলার সঙ্গে কথা বলার সময় আচমকাই তাঁর ভারী কাঠের ঘোড়াটি উল্টে দেন নন্দিনী বলে অভিযোগ। এর ফলে কাঠের ঘোড়ার সঙ্গে মেঝেতে জোরে আছড়ে পড়েন সৃজলা। আঘাত পাওয়ার পর যন্ত্রণায় কাঁদতে শুরু করেন তিনি এবং কিছু সময়ের জন্য নড়াচড়াও করতে পারছিলেন না বলে দেখা যায়।
এই ঘটনার পর বিগ বসের ঘরের পরিস্থিতিও দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সহ প্রতিযোগী সোহিনী নন্দিনীর আচরণ দেখে প্রকাশ্যেই ক্ষোভ জানান। তিনি বলেন, ‘‘এভাবে খেলার নামে সব ধরনের সীমা পার করে যাওয়া মেনে নেওয়া যায় না।’’ পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে বুঝতে পেরে বিগ বস কর্তৃপক্ষ হস্তক্ষেপ করে। এরপর সৃজলাকে স্টোর রুমে নিয়ে গিয়ে তাঁর জরুরি চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। টেলিভিশনের পর্দায় সেই দৃশ্য সামনে আসার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও শুরু হয় তীব্র প্রতিক্রিয়া। অনেকেই নন্দিনীকে বয়কট করার পাশাপাশি তাঁকে অনুষ্ঠান থেকে সরিয়ে দেওয়ার দাবিও জানান।
পরিস্থিতি বুঝতে পেরে সকালেই নন্দিনীর প্রচার সচিবরা বিষয়টি নিয়ে বিবৃতি দেন। তাঁদের তরফে ঘটনাটিকে অনিচ্ছাকৃত এবং দুর্ভাগ্যজনক দুর্ঘটনা হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়। পাশাপাশি সৃজলা এবং তাঁর পরিবারের কাছে ক্ষমাও চাওয়া হয় বলে জানা যায়। কিন্তু নন্দিনী শিবিরের এই ব্যাখ্যা এবং ক্ষমা চাওয়ার পরেও বিতর্ক থামেনি। বরং এবার সরাসরি পাল্টা বক্তব্য প্রকাশ করে সৃজলার নিজস্ব প্রচার দল। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নন্দিনীর নাম উল্লেখ না করেই তাঁরা একটি কড়া বিবৃতি প্রকাশ করেন। সেখানে শুধু কাঠের ঘোড়ার ঘটনা নয়, ঘরের ভিতরে ঘটে যাওয়া আরও কিছু অভিযোগের কথাও সামনে আনা হয়। সৃজলার দলের বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁরা সাধারণত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যক্তিগত মতামত প্রকাশ বা বিতর্কে জড়ানো থেকে দূরে থাকেন।
কিন্তু গতকালের ঘটনাগুলি সৃজলার ভক্ত, পরিবার এবং কাছের মানুষদের হতাশ ও বিস্মিত করেছে বলে জানানো হয়। তাঁদের বক্তব্য, ‘‘কৌশল বা খেলার পরিকল্পনা বোঝা যায়, কিন্তু কারও ব্যক্তিগত জিনিস নষ্ট করার হুমকি দেওয়া কোনও খেলার অংশ হতে পারে না।’’ আরও বলা হয়, ‘‘কোনও প্রতিযোগীর খাবারে অ্যালার্জি রয়েছে জেনেও তাকে সেই খাবার খাওয়ানোর পরিকল্পনা করা, যাতে সে অসুস্থ হয়ে পড়ে, তাকেও খেলার কৌশল বলা যায় না।’’ সৃজলার দলের দাবি, এই ঘটনাগুলিকে শুধুমাত্র খেলার ফল হিসেবে দেখানো হলেও বিষয়গুলি তাঁদের কাছে অত্যন্ত গুরুতর। তাঁদের কথায়, ‘‘এগুলো শুধু খেলার কৌশল নয়, বরং একজন মানুষের প্রকৃত আচরণ সম্পর্কে ধারণা দেয়।’’ এই বক্তব্যের মাধ্যমে নন্দিনীর প্রচার দলের ক্ষমা চাওয়ার অবস্থানও তাঁরা কার্যত প্রত্যাখ্যান করেছেন।
আরও পড়ুনঃ “খেলা কখনও মানবতার ঊর্ধ্বে নয়”, “তুমি অত্যন্ত ঘৃ’ণ্য, তোমার বাবা-মায়ের লজ্জা পাওয়া উচিত!” “নন্দিনীর এই নোং*রা দিকটা আগেই দেখেছি, সেদিন আমার সঙ্গে মেকআপ রুমে…” বিগ বসের ঘরে নন্দিনীর হিং’সার শিকার হয়ে জখ*ম সৃজলা? মুখ খুললেন দুই ক্ষু’ব্ধ সহ অভিনেত্রী অনামিকা ও সঙ্ঘশ্রী, নন্দিনীকে নিয়ে তীব্র পোস্টে উঠে এল বি*স্ফোরক বার্তা?
সৃজলার দল আরও স্পষ্ট করে জানিয়েছে, নন্দিনীর কাছ থেকে কোনও ক্ষমা তাঁরা গ্রহণ করছেন না। তাঁদের বক্তব্য, ‘‘এই ধরনের আচরণের কোনও ব্যাখ্যা বা যুক্তিই আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।’’ পাশাপাশি তাঁরা জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে তাঁদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল সৃজলার সুস্থ থাকা। তাঁদের কথায়, ‘‘সৃজলার ভালো থাকাই আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং আমরা সবসময় তাঁর পাশে থাকব।’’ অন্যদিকে চোট সামলে সৃজলা আবার খেলায় ফিরেছেন বলেও জানা গিয়েছে। তবে এই ঘটনার পর বিগ বসের ঘরের ভিতরের উত্তেজনার পাশাপাশি বাইরে দুই পক্ষের প্রচার দলের সংঘাতও নতুন মাত্রা পেয়েছে। ক্ষমা চাওয়া থেকে তা প্রত্যাখ্যান, সব মিলিয়ে এবার এই বিতর্কের পরবর্তী মোড়ের দিকেই নজর দর্শকদের।






