দেব, রচনা, জুন, শতাব্দী ও সায়নীদের সাংসদ পদ বাতিল? তৃণমূলের শনির দশা শুরু হতেই বাসা বদল! ঘাসফুলের টিকিটে লোকসভায় জয়ী হয়েও এনসিপিআইয়ে যোগ! স্পিকারের সঙ্গে বৈঠকের পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত? মান-সম্মান খুইয়ে এবার কোথায় যাবেন ‘ভালো তৃণমূল’রা?

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর তৃণমূল কংগ্রেসে বড়সড় ভাঙন দেখা দিয়েছে। তৃণমূলের টিকিটে লোকসভা নির্বাচনে জয়ী হওয়া ২০ জন সাংসদ দল ছেড়ে ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অফ ইন্ডিয়া বা এনসিপিআইয়ে যোগ দিয়েছেন। এই ২০ জনের মধ্যে রয়েছেন টলিউডের একাধিক পরিচিত মুখও। অভিনেতা দেব অধিকারী, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, জুন মালিয়া, সায়নী ঘোষ এবং বর্ষীয়ান অভিনেত্রী শতাব্দী রায় রয়েছেন এই শিবিরে। ২০২৬ সালের জুনে বিদ্রোহী সাংসদরা এনসিপিআইয়ের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার কথা ঘোষণা করেন। এরপর থেকেই তাঁদের সাংসদ পদ এবং দলবদলের সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে এই বিষয়ে একাধিক আবেদনও জমা পড়েছে।

অন্যদিকে, বিদ্রোহী সাংসদদের আলাদা করে বসার অনুমতি ইতিমধ্যেই দেওয়া হয়েছে। তবে তাঁদের এনসিপিআইয়ের সঙ্গে যোগদানকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত এখনও বাকি। এই পরিস্থিতিতেই লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে ছিলেন তৃণমূলের সাংসদরাও। তৃণমূলের তরফে ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদের সদস্যপদ খারিজের দাবি জানিয়ে আলাদা আলাদা আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। অভিষেকের বক্তব্য, তৃণমূলের প্রতীকে জয়ী হয়ে কোনও সাংসদ যদি স্বেচ্ছায় সেই দলের সদস্যপদ ছেড়ে অন্য দলে যোগ দেন, তাহলে দলবদল বিরোধী আইনের আওতায় তাঁর সাংসদ পদ খারিজ হওয়া উচিত।

তাঁর দাবি, সংবিধানের বিধান অনুযায়ী বিষয়টি স্পষ্ট এবং এনসিপিআইয়ে যোগ দেওয়ার অর্থই হল তৃণমূলের সদস্যপদ ছেড়ে দেওয়া। তাই যে প্রতীকে জয়ী হয়ে তাঁরা সংসদে এসেছেন, সেই দলের বাইরে গিয়ে অন্য রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর তাঁদের সদস্যপদ বহাল থাকার প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। এই দাবির ভিত্তিতেই স্পিকারের কাছে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আর্জি জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, বিষয়টি নিয়ে এনসিপিআই সাংসদদের অবস্থান সম্পূর্ণ আলাদা। দলের সংসদীয় নেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, স্পিকার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন না কারণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো কিছু নেই। তাঁর কথায়, “নিচ্ছে না মানে নিতে পারছেন না। সিদ্ধান্ত কিছু নেওয়ার নেই। সেকারণেই নিচ্ছে না।”

সুদীপ আরও বলেন, স্পিকারের হাতে যদি তাঁদের সদস্যপদ খারিজ করার সুযোগ থাকত এবং তৃণমূলের দাবিতে যুক্তি থাকত, তাহলে নিশ্চয়ই সিদ্ধান্ত নেওয়া যেত। তাঁর মতে, একটি দলকে ধরে রাখার জন্যই এমন কিছু কথা বলা হচ্ছে এবং এনসিপিআই সাংসদরা এই পরিস্থিতি নিয়ে চিন্তিত নন। তিনি আরও দাবি করেন, নতুন সংসদ ভবনে প্রথম দিন থেকেই তিনি প্রথম সারিতে বসেছেন, কারণ দীর্ঘদিন তৃণমূলের সংসদীয় দলের নেতা ছিলেন। এমনকি তিনি অসুস্থ থাকাকালীন বা গ্রেফতার থাকার সময়ও তাঁর প্রথম সারির আসন বদল করা হয়নি বলে জানান। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সেখানে বসেছিলেন এবং তাতেও তিনি আপত্তি করেননি।

আসন বদলের প্রসঙ্গেও বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন সুদীপ। তাঁর দাবি, ২৮ জন তৃণমূল সাংসদের মধ্যে ২০ জন আলাদা হয়ে যাওয়ার পর সংসদে তাঁদের অবস্থানও বদলেছে। তিনি জানান, স্পিকারের কাছে বিষয়টি জানানো হলে প্রথম সারির আসন ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। সুদীপের মতে, ২০ জন সাংসদের দলনেতা হিসেবে তাঁর প্রথম সারিতে থাকার বিষয়টি স্পিকার নিশ্চয়ই বিবেচনা করেছেন। এদিকে, বিদ্রোহী শিবিরে টলিউডের যে মুখগুলি রয়েছেন, তাঁদের মধ্যে দেব, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, জুন মালিয়া এবং সায়নী ঘোষের নাম বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। শতাব্দী রায়ও এই শিবিরের অন্যতম পরিচিত অভিনেত্রী সাংসদ। এই তারকা সাংসদদের তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআইয়ের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার ঘটনাই রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও বড় মাত্রা দিয়েছে। ফলে তাঁদের সাংসদ পদ শেষ পর্যন্ত বহাল থাকবে, নাকি দলবদল বিরোধী আইনে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা হবে, তা নিয়েও কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ “অভিনয় যেন প্রবহমান নদী…যে পাত্রেই রাখা হোক না কেন, তারই আকার ধারণ করতে পারে!” “সংবেদ’নশীল দৃশ্যেও দু’জনেই পাল্লা দিয়ে নিজেদের সেরাটা দিচ্ছে!” পারুলের কোলে মাথা রেখে অঝোরে কাঁ’দছে রায়ান, খুলে বলছে অতীতের যন্ত্র’ণা! ‘পরিণীতা’র সাম্প্রতিক পর্বে ঈশানী-উদয়ের অভিনয়ে মুগ্ধ সকলে! প্রশংসায় পঞ্চমুখ নেটপাড়া, আপনাদের কেমন লাগছে?

এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, ২০ জন সাংসদের ভবিষ্যৎ নিয়ে শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেবেন লোকসভার স্পিকার? সূত্রের খবর, ওম বিড়লা জানিয়েছেন, চলতি অধিবেশন শেষের পথে এবং আগামী অধিবেশনে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। অর্থাৎ এই মুহূর্তে তাঁদের সাংসদ পদ খারিজ হচ্ছে না, আবার এনসিপিআইয়ের সঙ্গে তাঁদের যোগদানও স্পিকারের তরফে চূড়ান্ত স্বীকৃতি পায়নি। তবে তাঁরা ইতিমধ্যেই আলাদা আসনে বসছেন এবং এনসিপিআই সাংসদ হিসেবে সংসদীয় কার্যকলাপে অংশ নিচ্ছেন। অন্যদিকে, তৃণমূল দ্রুত সিদ্ধান্তের দাবি জানিয়ে চলেছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি এবং সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাল্টা বক্তব্যে বিষয়টি আরও উত্তপ্ত হয়েছে। এখন আগামী অধিবেশনে স্পিকার কোন সিদ্ধান্ত নেন, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

You cannot copy content of this page