টেলিভিশনের পর্দায় কখনও দুষ্টু-মিষ্টি চরিত্রে, কখনও স্নেহময়ী মায়ের ভূমিকায় দর্শকের মন জয় করেছেন অভিনেত্রী সুচন্দ্রা বন্দ্যোপাধ্যায়। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে একাধিক জনপ্রিয় চরিত্রে কাজ করার পাশাপাশি নিজের অভিনয়ের ধরন এবং ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও বরাবরই স্পষ্টবাদী তিনি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অভিনয়জীবনের শুরু থেকে ইন্ডাস্ট্রির ওঠাপড়া, দীর্ঘ বিরতি, অর্থনৈতিক পরিকল্পনা, চরিত্র প্রস্তুতি, প্রেম এবং ব্যক্তিগত পছন্দ একাধিক বিষয় নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন অভিনেত্রী।
অভিনয়ের প্রতি সুচন্দ্রার ভালোবাসার শুরু ছোটবেলা থেকেই। স্কুল ও পাড়ার নাটকে অভিনয় করার পর শিক্ষক রঞ্জিত স্যারের পরামর্শে তিনি পরাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলে থিয়েটারে যোগ দেন। সেখান থেকেই শুরু হয় তাঁর পেশাদার গ্রুপ থিয়েটারের পথচলা। পরবর্তীতে অবন্তিতা চক্রবর্তীর দল-সহ একাধিক নাট্যদলে কাজ করেন। থিয়েটারের অভিজ্ঞতাই তাঁকে টেলিভিশনের অডিশনে আত্মবিশ্বাস জোগায়। পরাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরামর্শেই একটি সিরিয়ালের অডিশন দেন এবং প্রথমবারেই নির্বাচিত হন। সুচন্দ্রার কথায়, থিয়েটারের ব্যাকগ্রাউন্ড তাঁর টেলিভিশন যাত্রায় “খুব কাজে লেগেছিল”। এমনকি অভিনয়ের জন্য সেন্ট্রাল গভর্নমেন্টের একটি ক্যাজুয়াল চাকরিও ছেড়ে দিয়েছিলেন তিনি। সেই সিদ্ধান্তে পরিবার, বিশেষ করে তাঁর বাবা, তাঁকে পূর্ণ সমর্থন করেছিলেন।
তবে অভিনয়জীবন সবসময় মসৃণ ছিল না। ‘রানী রাসমণি’-তে একটি জনপ্রিয় নেতিবাচক চরিত্রে অভিনয়ের পরও প্রায় আড়াই বছর কাজের বাইরে ছিলেন সুচন্দ্রা। কেন সেই বিরতি এসেছিল, তা জানার চেষ্টা পর্যন্ত করেননি তিনি। বরং সেই সময়টাকে কাজে লাগিয়েছেন সিনেমা দেখা, পড়াশোনা ও ঘোরাঘুরিতে। তাঁর মতে, “ফ্রাস্ট্রেশনকে আমি জায়গাই দিইনি।” ইন্ডাস্ট্রি থেকে পাওয়া সবচেয়ে বড় শিক্ষার কথাও জানিয়েছেন তিনি “ইন্ডাস্ট্রি আমাকে ধৈর্য ধরতে শিখিয়েছে।” তাঁর বিশ্বাস, নিজের মধ্যে সত্যিকারের যোগ্যতা থাকলে একদিন না একদিন ইন্ডাস্ট্রি তার মূল্য দেবে। একইসঙ্গে নতুনদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, অন্য কারও সঙ্গে নিজেকে তুলনা না করে নিজের পরিচয়কে আরও শক্তিশালী করাই সাফল্যের পথ।
আরও পড়ুন: “ও ইন্ডাস্ট্রির দালাল, মেয়েদের ক্লায়েন্ট জোগাড় করে দেয়!” “সেই মেয়ের নামের সঙ্গে ‘পতি*তা’ শব্দ জুড়ে…” স্যান্ডি সাহাকে নিয়ে বি*স্ফোরক মা সিরিয়াল খ্যাত তিথি বসু! হঠাৎ কেন বললেন ‘আজ থেকে শুধুই ঘৃণা করব’? জানালেন কী ঘটেছে?
জনপ্রিয়তা পাওয়ার পর অর্থনৈতিক ভুলের অভিজ্ঞতাও শেয়ার করেছেন সুচন্দ্রা। একটি সিরিয়াল হিট হওয়ার পর সেটিকেই নিজের ব্যক্তিগত সাফল্য ভেবে বড় গাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি। পরে বুঝেছেন, “সিরিয়ালটা হিট, চরিত্রটা হিট” শুধু অভিনেত্রী হিসেবে নিজের সাফল্য নয়। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এখন ইএমআই-নির্ভর খরচের বদলে আগে টাকা জমিয়ে প্রয়োজনীয় জিনিস কেনার পক্ষপাতী তিনি। তাঁর কথায়, “স্ট্রাগলটাকে এনজয়। যদি তুমি স্ট্রাগলটাকে এনজয় করতে না পারো, ইন্ডাস্ট্রি ইজ নট ফর ইউ।” নিজের জীবনযাপনও তিনি সাদাসিধে রাখতে পছন্দ করেন। পাশাপাশি অভিনয়ের বাইরে রান্না, ব্লগিং এবং ব্যবসার সঙ্গেও যুক্ত রয়েছেন।
চরিত্রের প্রস্তুতি নিয়েও নিজের অভিনয়পদ্ধতির কথা জানিয়েছেন সুচন্দ্রা। কোনও চরিত্রে অভিনয়ের আগে শুধু সংলাপ নয়, চরিত্রটির অতীত, পরিবার, আর্থিক অবস্থা, রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশ সবকিছু কল্পনা করে নেন তিনি। তাঁর মতে, “চরিত্রটা ছোট থেকে তার জার্নিটা” ভাবলে চরিত্রটি ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। প্রেম ও সম্পর্কের ক্ষেত্রেও তাঁর অবস্থান স্পষ্ট “জেন্ডার বায়াস? নেভার এভার।” বর্তমানে ধারাবাহিকের পাশাপাশি নতুনভাবে ভিডিও ও ব্লগিং নিয়েও কাজ করছেন তিনি। ভবিষ্যতের পরিকল্পনা নিয়ে অবশ্য নির্দিষ্ট কোনও ‘স্বপ্নের চরিত্র’-এর কথা বলেননি। বরং সুচন্দ্রার দর্শন, যে চরিত্রই আসুক, সেটাকেই নিজের সেরাটা দিয়ে “স্বপ্নের মতো ভালো” করে তোলার চেষ্টা করবেন।






