সোমবার দুপুরে হঠাৎই সমাজ মাধ্যম এবং বিভিন্ন মহলে একটি খবর ছড়িয়ে পড়ে। অভিনেত্রী অঙ্কিতা চক্রবর্তীর পর এবার নাকি পরিচালক দেবালয় ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে আইনের দ্বারস্থ হচ্ছেন সোহিনী সরকার। খবর ছড়াতেই স্বাভাবিকভাবেই শুরু হয় নানান জল্পনা। কী কারণে অভিনেত্রী এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে থাকে। জল্পনার সূত্র ধরে দাবি করা হয়, ‘ইন্দুবালা ভাতের হোটেল’ খ্যাত পরিচালকের বিরুদ্ধে নাকি অশালীন আচরণের অভিযোগ তুলেছেন সোহিনী। বিষয়টি নিয়ে সত্যিই এমন কোনও ঘটনা ঘটেছে কি না, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়। তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই এই খবরের সত্যতা নিয়ে সামনে আসে সম্পূর্ণ ভিন্ন তথ্য।
বিষয়টি পরিষ্কার করতে সোহিনী সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁর আপ্তসহায়ক পুরো খবরটিকেই ভুল বলে জানান। তাঁর কথায়, “এই বিষয়টা একদমই ভুল। সোহিনীর সঙ্গে এরকম কিছু হয়নি। অঙ্কিতার সঙ্গে হয়েছে। সোহিনীর এটা নিয়ে কোনও বক্তব্য নেই। যা রটেছে সম্পূর্ণ ভুল।” তিনি আরও স্পষ্ট করে দেন, দেবালয় ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে সোহিনী কোনও আইনি পদক্ষেপ করছেন না। এমনকী আদালতে গিয়ে কোনও বয়ান দেওয়ার কথাও তাঁর নেই বলে জানানো হয়। অর্থাৎ যে খবরকে কেন্দ্র করে আচমকা এত আলোচনা শুরু হয়েছিল, তার সঙ্গে সোহিনীর কোনও যোগ নেই। ভুয়ো খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পরই অভিনেত্রীর তরফ থেকে বিষয়টি পরিষ্কার করা হয়। ফলে মুহূর্তের মধ্যে তৈরি হওয়া জল্পনাতেও কার্যত ইতি পড়ে।
অন্যদিকে, এই খবরের বিষয়ে দেবালয় ভট্টাচার্যের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়। বিষয়টি শুনে তিনিও বিস্ময় প্রকাশ করেন এবং সোহিনীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের কথা জানান। পরিচালক বলেন, “সোহিনীর সঙ্গে আমি অনেক কাজ করেছি। আমরা খুবই ভাল বন্ধু। আমি তো শুনে অবাকই হয়েছিলাম যে ও এরকম বলেছে!” ভুয়ো খবর নিয়ে নিজের উদ্বেগের কথাও জানান তিনি। দেবালয়ের কথায়, “সংবাদ মাধ্যমকে একটু দায়িত্বশীল হতে হবে। অনেক ক্ষতি হয়ে যায় মানুষের। অনেক কষ্ট করে নিজের জায়গা তৈরি করেছি তো, এই ধরনের খবরে অনেক ক্ষতি হয়ে যায়।” এরপর তিনি আরও দাবি করেন, “এটা করানো হচ্ছে কোথাও থেকে। কেউ করছেন।” পরিচালকের এই বক্তব্যের পর বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
প্রসঙ্গত, সোহিনী সরকার এবং দেবালয় ভট্টাচার্যের একসঙ্গে কাজের ইতিহাস বেশ পুরনো। ২০১৮ সালে মুক্তি পাওয়া দেবালয় পরিচালিত ছবি ‘বিদায় ব্যোমকেশ’-এ অভিনয় করেছিলেন সোহিনী। ছবিতে আবির চট্টোপাধ্যায়ের বিপরীতে সত্যবতীর চরিত্রে দেখা গিয়েছিল তাঁকে। এরপর ফের দেবালয়ের পরিচালনায় একটি সিরিজে কাজ করেন অভিনেত্রী। ২০২০ সালে মুক্তি পাওয়া থ্রিলারধর্মী ‘পবিত্র পাপী’ সিরিজে মুখ্য ভূমিকায় ছিলেন বিক্রম চট্টোপাধ্যায়, সোহিনী সরকার এবং সৌরভ দাস। ফলে কাজের সূত্রে পরিচালক এবং অভিনেত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিনের পরিচয় রয়েছে। এই কারণেই হঠাৎ তাঁদের নিয়ে এমন একটি খবর ছড়িয়ে পড়ায় বিষয়টি আরও বেশি নজর কেড়েছে। টলিউডে সোহিনী সরকার যেমন পরিচিত মুখ, তেমনই গত এক দশকে নিজের আলাদা পরিচয় তৈরি করেছেন দেবালয় ভট্টাচার্য।
আরও পড়ুনঃ টলিপাড়ায় তোলপাড়! অঙ্কিতা চক্রবর্তীর পর এবার সোহিনী সরকার! পরিচালক দেবালয় ভট্টাচার্যের বিরু’দ্ধে শ্লী*লতাহানির অভিযোগে আলিপুর আদালতে নিজের বক্তব্য ও অভিযোগ জানালেন তিনি? ঠিক কী ঘটেছে অন্তঃসত্ত্বা অভিনেত্রীর সঙ্গে?
বিভিন্ন ধরনের গল্প নিয়ে কাজ করে বারবার দর্শকদের চমকে দিয়েছেন তিনি। ‘সিনেমাওয়ালা’, ‘রোগা হওয়ার সহজ উপায়’, ‘ড্রাকুলা স্যার’ থেকে শুরু করে ‘স্বপনকুমারের বাদামী হায়নার কবলে’ এবং ‘ইন্দুবালা ভাতের হোটেল’ তাঁর উল্লেখযোগ্য কাজের তালিকায় রয়েছে। অন্যদিকে, সোহিনীও দীর্ঘদিন ধরে বাংলা চলচ্চিত্র এবং সিরিজের পরিচিত অভিনেত্রী হিসেবে কাজ করছেন। দুজনের কাজের দীর্ঘ সম্পর্কের মাঝেই সোমবারের এই খবর আচমকাই নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল। তবে অভিনেত্রীর আপ্তসহায়কের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, দেবালয়ের বিরুদ্ধে সোহিনীর কোনও অভিযোগ নেই। প্রসঙ্গত এদিনর অভিযোগ এবং আদালতে যেতে পারেন এমন কথা প্রকাশিত হয় সর্বপ্রথম দা ওয়াল নিউজের ওয়েবসাইটে। এর পরেই আগুনের গতিতে ছড়িয়ে পড়ে খবরটি। এখন প্রশ্ন, এমন একটি ভুল খবর কীভাবে এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ল এবং এর পিছনে আসল কারণই বা কী?






