বাংলাদেশের সিনেমার ইতিহাসে ‘বেদের মেয়ে জ্যোৎস্না’ একটি বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে। ১৯৮৯ সালে তোজাম্মেল হক বকুলের পরিচালনায় মুক্তি পাওয়া এই ছবি দীর্ঘদিন বাংলাদেশের অন্যতম ব্যবসাসফল সিনেমা হিসেবে পরিচিত ছিল। জ্যোৎস্না ও রাজপুত্র কাঞ্চনের প্রেমের গল্প নিয়ে তৈরি ছবিতে জ্যোৎস্নার পালিত মায়ের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন অনামিকা সাহা। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সেই ছবিতে কাজের অভিজ্ঞতা এবং সেই সময়ের নানা স্মৃতি তুলে ধরেছেন অভিনেত্রী।
অনামিকা জানান, বিয়ের পর প্রায় ছয় বছর অভিনয় থেকে দূরে ছিলেন তিনি। একদিন জুহি চাওলার জন্য ডাবিং করতে গিয়ে স্টুডিওর বাইরে তাঁর সঙ্গে এক ব্যক্তির পরিচয় হয়। সেখান থেকেই বাংলাদেশের একটি ছবিতে অভিনয়ের প্রস্তাব পান তিনি। তবে শ্বশুরবাড়ির অনুমতি ছাড়া কাজ করা সম্ভব ছিল না। তাই বাংলাদেশের প্রযোজকদের নিজের শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে অনুমতি নেওয়ার কথা বলেন অনামিকা। পরদিন তাঁরা সবজি, ফল ও মিষ্টি নিয়ে তাঁর বাড়িতে হাজির হন।
শ্বশুরবাড়ির তরফে অনুমতি পাওয়ার পর অবশেষে অভিনয়ে ফেরার সুযোগ পান অনামিকা। অভিনেত্রীর কথায়, দীর্ঘ ছয় বছর পর আবার ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর সুযোগ পেয়ে তিনি ভীষণ খুশি হয়েছিলেন। ‘বেদের মেয়ে জ্যোৎস্না’ মুক্তির পর ছবিটি বিপুল জনপ্রিয়তা পায় এবং ব্যবসার দিক থেকেও বড় সাফল্য অর্জন করে। জ্যোৎস্নার চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন অঞ্জু ঘোষ এবং রাজপুত্র কাঞ্চনের ভূমিকায় ছিলেন ইলিয়াস কাঞ্চন। ছবির জনপ্রিয়তা আজও দর্শকদের মনে রয়েছে।
তবে এই ছবিতে অভিনয় করার সিদ্ধান্ত নিয়ে তখন কম কটাক্ষ শুনতে হয়নি অনামিকাকে। অভিনেত্রীর দাবি, সেই সময় দেবশ্রী রায়ও তাঁকে প্রশ্ন করেছিলেন, ‘অনামিকাদি, তোমার বর কি তোমাকে খেতে দেয় না?’ অনামিকার বক্তব্য অনুযায়ী, দেবশ্রী বাংলাদেশের ছবিকে যাত্রাপালার সঙ্গে তুলনা করে সেখানে কাজ করা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন। যদিও সেই সব মন্তব্যকে পিছনে ফেলে ছবিতে অভিনয় করেন অনামিকা। পরে সিনেমাটি যে বিরাট সাফল্য পায়, সেটিই হয়ে ওঠে সেই সময়ের অন্যতম বড় জবাব।
আরও পড়ুনঃ “বিজেপি সবচেয়ে বড় অশুভ শক্তি…অভয়ার বিচার এখনও হচ্ছে না!” কৌশিক সেনের বি*স্ফোরক মন্তব্যে তোলপাড়! “ধান্দাবাজটা আবার খোলস থেকে বেরিয়েছে, পুরোপুরি বামমনস্ক”, “বাংলার মানুষই ভোট দিয়ে ক্ষমতায় বসিয়েছে, এটা গণতন্ত্রেরই অপমান” অভিনেতাকে পাল্টা কটাক্ষ নেটিজেনদের!
অনামিকা আরও জানান, ‘বেদের মেয়ে জ্যোৎস্না’ এতটাই সফল হয়েছিল যে প্রযোজক বিপুল অর্থ উপার্জন করেছিলেন। তাঁর দাবি, ছবির ব্যবসায়িক সাফল্যের পর প্রযোজক আর নতুন ছবি তৈরি করেননি। এক সময় যে কাজ নিয়ে তাঁকে নানা প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছিল, সেই ছবিই শেষ পর্যন্ত বড় হিট হয়ে ওঠে। বহু বছর পর সেই অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে অনামিকা সাহা তুলে ধরেছেন তাঁর অভিনয়ে ফেরার গল্প এবং ‘বেদের মেয়ে জ্যোৎস্না’র সঙ্গে জড়িয়ে থাকা নানা স্মৃতি।






‘ইস্! তোমার বর কি তোমাকে খেতে দেয় না?’ ছয় বছর পর্দার বাইরে থাকার পর ফের অভিনয়ে ফিরতেই বর্ষীয়ান অভিনেত্রী অনামিকা সাহাকে কেন দেবশ্রী রায় মুখ থেকে এমন অপমানজনক প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছিল? নেপথ্যে কোন ছবি, জানলে চমকাবেন!