বাংলা বিনোদন জগতের জনপ্রিয় অভিনেতা ও লেখক রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকস্মিক মৃত্যু এখনও অনেকের মনে গভীর ছাপ রেখে গিয়েছে। ২০২৬ সালের ২৯ মার্চ মাত্র ৪৩ বছর বয়সে মৃত্যু হয় তাঁর। ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গ সীমান্তের তালসারি সমুদ্র সৈকতে একটি টেলিভিশন ধারাবাহিকের শুটিং চলাকালীন জলে ডুবে মৃত্যু হয় অভিনেতার। মা, দাদা, স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার এবং ছেলে সহজকে রেখে চলে যান তিনি। তবে রাহুলের মৃত্যুর কয়েক মাস পর তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সামনে এল বিস্ফোরক দাবি। মডেল ও অভিনেত্রী মৌমিতা পণ্ডিত জানিয়েছেন, মৃত্যুর আগে তাঁর সঙ্গে রাহুলের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এই দাবি প্রকাশ্যে আসতেই নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে অভিনেতার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে। নিজের হোয়াটসঅ্যাপে একটি সিসিটিভি ফুটেজও শেয়ার করেছেন মৌমিতা।
সেই ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, রাহুল তাঁর গালে আবির মাখিয়ে দিচ্ছেন। মৌমিতার দাবি, চলতি বছরের দোলের দিনের সেই মুহূর্তের ফুটেজ এটি। তাঁর কথায়, সারা রাত শুটিং করার পরও রাহুল নিজে বাইক চালিয়ে তাঁর কাছে এসেছিলেন আবির মাখাতে। মৌমিতা জানিয়েছেন, স্বামী অরিদীপ্তর মৃত্যুর পর তিনি রং খেলা বন্ধ করে দিয়েছিলেন। কিন্তু চলতি বছরের দোলে রাহুল নিজের হাতে তাঁকে আবির মাখিয়ে দেন। এরপর দুজনে বাইকে করে শহরের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরেছিলেন এবং একসঙ্গে চাও খেয়েছিলেন বলেও দাবি করেছেন তিনি। মৌমিতার বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁদের সম্পর্ক শুধুমাত্র বন্ধুত্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। বরং ধীরে ধীরে তাঁদের মধ্যে গভীর ভালোবাসার সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল।
মৌমিতার আরও দাবি, তাঁরা দুজনে নিজেদের সম্পর্ককে প্রকাশ্যে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্তও নিয়েছিলেন। অর্থাৎ একসঙ্গে তাঁদের ভালোবাসার কথা সকলের সামনে জানানোর পরিকল্পনা ছিল। এমনকি রাহুলের মৃত্যুর দিনও তাঁদের মধ্যে যোগাযোগ ছিল বলে জানিয়েছেন তিনি। শেষ শটের জন্য জলে নামার আগে রাহুলের সঙ্গে তাঁর ফোনে কথা হয়েছিল। শুধু তাই নয়, তার আগের রাতেও দুজনে দীর্ঘ সময় ভিডিও কলে কথা বলেছিলেন বলে দাবি মৌমিতার। তাঁর কথায়, রাহুলের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্কের কথা প্রকাশ্যে না বললে সেটি রাহুলের প্রতি অসম্মান করা হবে। মৌমিতা বলেন, ‘আমাদের প্রেমটা যদি স্বীকার না করি, তবে রাহুলকে অসম্মান করা হবে। প্রেম তো সবচেয়ে বড় বিপ্লব, আমাদের প্রেমের চেয়ে বড় বিপ্লব আর কিছু হতে পারে না।’
রাহুলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক কীভাবে তৈরি হয়েছিল, সেই প্রসঙ্গেও কথা বলেছেন মৌমিতা। তাঁর প্রয়াত স্বামী অরিদীপ্ত এবং রাহুল ছিলেন দীর্ঘদিনের বন্ধু। অরিদীপ্তর মৃত্যুর পর রাহুলের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ আরও বাড়ে বলে জানিয়েছেন তিনি। এরপর উত্তরবঙ্গে একটি সিনেমার শুটিংয়ে গিয়ে দুজনের মধ্যে পারস্পরিক নির্ভরতা তৈরি হয়েছিল বলে দাবি করেন মৌমিতা। অন্যদিকে, রাহুলের দাম্পত্য জীবন নিয়েও রয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। প্রায় বছরখানেক আগে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা আদালত থেকে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদের মামলা তুলে নিয়েছিলেন। তাঁদের বক্তব্য ছিল, ছেলে সহজের কথা ভেবে নিজেদের সম্পর্ককে স্বাভাবিক করে তুলতে চান তাঁরা। অর্থাৎ বিচ্ছেদের মামলা প্রত্যাহারের পর তাঁদের মধ্যে সম্পর্কের সমীকরণও বদলেছিল।
রাহুলের মৃত্যুর পর প্রিয়াঙ্কাই ছেলেকে এবং শাশুড়িকে সামলানোর পাশাপাশি থানা ও পুলিশের নানা কাজের জন্য ছুটে বেড়িয়েছিলেন। কিন্তু তারপরেও তাঁকে নিয়ে সমাজমাধ্যমে নানা কটাক্ষ করা হয়। এমনকি রাহুলের শেষযাত্রায় প্রিয়াঙ্কার চোখে জল দেখা যায়নি কেন, তা নিয়েও নেটপাড়ায় শুরু হয়েছিল নানা বিশ্লেষণ। এই প্রসঙ্গে প্রিয়াঙ্কা এবং রাহুলের সম্পর্ক নিয়েও নিজের বক্তব্য জানিয়েছেন মৌমিতা। তাঁর দাবি, তাঁদের দুজনের মধ্যে খুব সুন্দর একটি বন্ধুত্বের সম্পর্ক ছিল। প্রিয়াঙ্কা রাহুলের জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একজন মানুষ ছিলেন বলেও স্বীকার করেছেন তিনি। অর্থাৎ রাহুলের জীবনে প্রিয়াঙ্কার গুরুত্ব নিয়ে কোনও প্রশ্ন তুলতে চাননি মৌমিতা।
আরও পড়ুনঃ আর কোনও ভিক্ষে নয়, এবার বিচার ছিনিয়ে নেবে তিলোত্তমা! শ্বশুরবাড়ির চোখে ধুলো দিয়ে অপরাধীকে ফাঁসাতে কী মাস্টারপ্ল্যান তমসার? পালানোর সব পথ বন্ধ, এবার নিজের মুখেই সবটা স্বীকার করবে প্রতাপ? জমে উঠেছে ‘তিলোত্তমা’, আসছে নতুন মোড়! জেনে নিন, কী হতে চলেছে ধারাবাহিকের আসন্ন পর্বে?
তবে একইসঙ্গে নিজের সঙ্গে রাহুলের সম্পর্ক নিয়েও একটি বিষয় স্পষ্ট করতে চেয়েছেন তিনি। মৌমিতার কথায়, রাহুল তাঁকে ভালোবেসে তাঁর কাছে আসার সময় কাউকে ধোঁকা দেননি। নিজের সম্পর্কের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য, ‘ওদের মধ্যে খুব সুন্দর একটা বন্ধুত্বের সম্পর্ক ছিল। প্রিয়াঙ্কা ওর জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একজন মানুষ। তবে রাহুল কাউকে ধোঁকা দিয়ে আমার কাছে আসেনি, এটুকুই বলতে পারি।’ মৌমিতার এই দাবি প্রকাশ্যে আসার পর রাহুলের ব্যক্তিগত জীবন, তাঁর সঙ্গে প্রিয়াঙ্কার সম্পর্ক এবং মৃত্যুর আগে তাঁর জীবনের সমীকরণ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। একদিকে রয়েছে প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা, অন্যদিকে মৃত্যুর আগে মৌমিতার সঙ্গে প্রেমের দাবি। সব মিলিয়ে রাহুলের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নতুন এক অধ্যায় সামনে এসেছে।






