বিনোদন জগতে এমন বহু শিল্পী রয়েছেন, যাঁদের অভিনয়ের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও বছরের পর বছর নানা আলোচনা, বিতর্ক ও রটনা চলে। পর্দার বাইরের সম্পর্ক, ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত কিংবা জীবনের কঠিন অধ্যায় অনেক সময় তাঁদের শিল্পীসত্তাকেও ছাপিয়ে যায়। সময়ের সঙ্গে সত্য-মিথ্যার সীমারেখা অস্পষ্ট হয়ে গেলেও সেইসব গল্পই হয়ে ওঠে জনমানসে তাঁদের পরিচয়ের অন্যতম অংশ।
বাংলা চলচ্চিত্রের এমনই এক বহুল আলোচিত অভিনেত্রী ছিলেন সুপ্রিয়া দেবী। অভিনয় দক্ষতা, ব্যক্তিত্ব এবং পর্দায় স্বতন্ত্র উপস্থিতির জন্য তিনি দর্শকের কাছে বিশেষ জায়গা তৈরি করেছিলেন। ‘বেনু’ নামে পরিচিত এই অভিনেত্রীর জীবন ছিল সংগ্রাম, সাফল্য, ভালোবাসা এবং বিতর্কে ভরা। বিশেষত মহানায়ক উত্তম কুমারের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক তাঁকে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনার কেন্দ্রে রেখেছিল।
তবে সুপ্রিয়া দেবীর জীবনের গল্প শুধুমাত্র উত্তম কুমারের সঙ্গে সম্পর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। শৈশব থেকেই তাঁকে কঠিন পরিস্থিতির সঙ্গে লড়াই করতে হয়েছিল। দেশভাগ ও অস্থিরতার সময়ে পরিবার নিয়ে বার্মা থেকে কলকাতায় আসার পথও ছিল অত্যন্ত কঠিন। পরবর্তীতে অভিনয় জগতে প্রবেশ করে ‘আম্রপালী’-সহ একাধিক ছবিতে নিজের প্রতিভার পরিচয় দেন তিনি। তাঁর অভিনয়ের প্রশংসা করেছিলেন দর্শক ও চলচ্চিত্র মহল।
উত্তম কুমারের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক অবশ্য তাঁর ব্যক্তিগত জীবনকে অন্য মাত্রা দেয়। প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, ১৯৬৩ সালে তাঁদের সম্পর্ক আরও গভীর হয় এবং পরবর্তীতে তাঁরা একসঙ্গে থাকতে শুরু করেন। উত্তম কুমারের প্রথম স্ত্রী গৌরী দেবীর সঙ্গে তাঁর বিবাহবিচ্ছেদ কখনও হয়নি। ফলে সুপ্রিয়া দেবীকে ঘিরে ‘তৃতীয় নারী’সহ নানা তকমা তৈরি হয়। কিন্তু এই সম্পর্কের পেছনের বাস্তবতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা আলোচনা রয়েছে।
উত্তম কুমারের সঙ্গে থাকার সময় সুপ্রিয়া তাঁর সঙ্গী হিসেবে যেমন পাশে ছিলেন, তেমনই তাঁর কাজ ও ব্যক্তিজীবনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন বলে বিভিন্ন স্মৃতিচারণে উঠে এসেছে। তাঁর রান্না করা থেকে শুরু করে শুটিংয়ে সঙ্গ দেওয়া সবকিছুর মধ্যেই ছিল গভীর ব্যক্তিগত টান। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, এই সম্পর্কের কারণে কি নিজের অভিনয়জীবনের সম্ভাবনাকে কিছুটা পিছনে সরিয়ে দিয়েছিলেন সুপ্রিয়া?
আরও পড়ুনঃ সে একটা সময়, যখন সন্ধ্যা নামলেই টিভির সামনে জমত গোটা পাড়া, গল্পের সঙ্গে মিশে যেত বাস্তবের হাসি-কান্না! ‘জন্মভূমি’র সেই সোনালি দিনের আবেগ আজও দর্শকের মনে অমলিন! বদলে যাওয়া পরিবার আর ব্যস্ত জীবনের ভিড়ে হারিয়ে যাওয়া সেই আন্তরিকতার গল্প কি বাংলা ধারাবাহিকে আর কোনওদিন ফিরবে না?
‘মেঘে ঢাকা তারা’, ‘কোমল গান্ধার’, ‘স্বরলিপি’ ও ‘সব্যসাচী’-র মতো ছবিতে তাঁর অভিনয় আজও আলোচিত। অথচ উত্তম কুমারের ছায়ায় তাঁর নিজের শিল্পীসত্তা অনেক সময় আড়ালে পড়ে যায়। ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিতর্কের বাইরে দাঁড়িয়ে দেখলে সুপ্রিয়া দেবীর জীবন আসলে এক সংগ্রামী অভিনেত্রীর গল্প যিনি প্রতিকূলতা পেরিয়ে বাংলা চলচ্চিত্রে নিজের আলাদা পরিচয় তৈরি করেছিলেন।






