বিগ বস বাংলা ৩ শুরু হতেই গায়িকা দেবলীনা নন্দীকে ঘিরে পুরনো জল্পনা আবারও সামনে আসে। শোয়ে তাঁকে দেখা যেতে পারে, এমন আলোচনা চলছিল বেশ কিছুদিন ধরেই। এমনকি জুলাই মাসে দেবলীনা নন্দীকে বিগ বস বাংলায় যোগ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলেও বিভিন্ন রিপোর্টে প্রকাশিত হয়েছিল। কিন্তু ৩০ অগাস্ট শো শুরু হওয়ার পর প্রতিযোগীদের তালিকায় তাঁর নাম দেখা যায়নি। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, সুযোগ পেয়েও কেন বিগ বসের ঘরে গেলেন না গায়িকা? এবার সেই প্রশ্নের উত্তর নিজেই দিয়েছেন দেবলীনা। সমাজ মাধ্যমে একটি পোস্ট করে তিনি জানিয়েছেন, জেনে বুঝেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
দেবলীনা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তাঁর কাছে প্রচার এবং টাকা পয়সার চেয়ে মানসিক ও শারীরিক সুস্থতা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাই জনপ্রিয় একটি রিয়্যালিটি শোয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকলেও শুধুমাত্র প্রচার বা পারিশ্রমিকের কথা ভেবে তিনি সিদ্ধান্ত নেননি। তাঁর কথায়, ‘পাবলিসিটি আর টাকা-পয়সার থেকে মানসিক ও শারীরিক সুস্থতা বেশি জরুরি।’ বারবার তাঁকে বিগ বসে না যাওয়ার কারণ জানতে চাওয়া হচ্ছিল। সেই কারণেই সমাজ মাধ্যমের পোস্টে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন গায়িকা। তাঁর বক্তব্যে বোঝা গিয়েছে, কোনও চাপ বা বাধ্যবাধকতার কারণে নয়, নিজের ভালো থাকার কথা ভেবেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
বিগ বসের ঘরে যাঁরা ইতিমধ্যেই প্রবেশ করেছেন, তাঁদের নিয়েও যথেষ্ট সম্মানজনক মন্তব্য করেছেন দেবলীনা। তিনি মনে করেন, যাঁরা এই ধরনের প্রতিযোগিতায় অংশ নেন, তাঁরা মানসিকভাবে যথেষ্ট শক্ত। কিন্তু নিজের ক্ষেত্রে তিনি মনে করেছেন, এই মুহূর্তে ওই পরিবেশের জন্য তিনি প্রস্তুত নন। বিগ বসের ঘরে থাকা, প্রতিযোগিতার চাপ সামলানো এবং সেই পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার মতো মানসিক প্রস্তুতি তাঁর ছিল না বলেই জানিয়েছেন গায়িকা। নিজের এই সীমাবদ্ধতাটা বুঝতে পেরেই তিনি পিছিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেন। অর্থাৎ, বড় সুযোগ হাতছাড়া হলেও নিজের মানসিক শান্তির সঙ্গে কোনও আপস করতে চাননি দেবলীনা।
তবে এবারের বিগ বস বাংলা থেকে একেবারে দূরে থাকছেন না দেবলীনা নন্দী। তাঁর এক বন্ধু এবারের প্রতিযোগীদের তালিকায় রয়েছেন। তাই নিজে ঘরের সদস্য না হলেও টেলিভিশনের ওপার থেকে বন্ধুর যাত্রা দেখবেন গায়িকা। বন্ধুর খেলা এবং পুরো অনুষ্ঠান দর্শক হিসেবে উপভোগ করার কথাই জানিয়েছেন তিনি। ফলে বিগ বসে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তের পরেও শোয়ের সঙ্গে তাঁর একটা ব্যক্তিগত যোগ থাকছে। নিজের জায়গা থেকে এই অভিজ্ঞতাকে দেখার সুযোগও পাচ্ছেন দেবলীনা। একই সঙ্গে তাঁর সিদ্ধান্ত আরও একবার স্পষ্ট করে দিয়েছে, জনপ্রিয় কোনও মঞ্চে থাকার চেয়ে নিজের স্বস্তি ও সুস্থতাকেই তিনি এই মুহূর্তে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।
এদিকে ৩০ অগাস্ট থেকেই শুরু হয়েছে বিগ বস বাংলা ৩। এবারের সঞ্চালকের দায়িত্বে রয়েছেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। মোট ১৫ জন প্রতিযোগীকে নিয়ে শুরু হয়েছে এই নতুন মরশুম। প্রতিযোগীদের তালিকায় রয়েছেন ভরত কল, দুর্নিবার সাহা, সোহিনী পাল, নিরঞ্জন মণ্ডল, সৃজলা গুহ, শন বন্দ্যোপাধ্যায়, নন্দিনী দত্ত, সায়ক চক্রবর্তী, ডিজাইনার তনুশ্রী রায় দাস, অনিন্দ্য সেনগুপ্ত, দীপেন্দু বিশ্বাস, সোনামণি সাহা, আলেকজান্দ্রা টেলর, ঝিলম গুপ্ত এবং জয়িতা চক্রবর্তী। শো শুরুর আগে দেবলীনার নাম নিয়ে যতই জল্পনা থাকুক, শেষ পর্যন্ত তিনি প্রতিযোগী হননি। বরং নিজের সিদ্ধান্তেই সেই সুযোগ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।
আরও পড়ুনঃ মাত্র ১৬ বছর বয়সেই বাড়ি ছাড়তে হয়েছিল সৃজলা গুহকে! বাবা মায়ের ছত্রছায়া ছাড়াই একা লড়াই, বিগ বসের মঞ্চে নিজের জীবনের কঠিন অধ্যায় ভাগ করলেন অভিনেত্রী? বাধ্য হয়েই ঘরছাড়া, কিশোরী বয়সের সেই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে কী ছিল কারণ?
বিগ বসের মতো বড় মঞ্চে যাওয়ার সুযোগ পেয়েও পিছিয়ে আসা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে। তবে দেবলীনার বক্তব্যে তাঁর সিদ্ধান্তের কারণ স্পষ্ট। তিনি মনে করেন, প্রচার বা অর্থের চেয়ে নিজের মানসিক ও শারীরিক সুস্থতাকে গুরুত্ব দেওয়াই এই মুহূর্তে বেশি প্রয়োজন। যাঁরা বিগ বসে গিয়েছেন, তাঁদের মানসিক শক্তির প্রশংসা করেও নিজের প্রস্তুতির অভাবের কথা স্বীকার করেছেন তিনি। তাই সুযোগ থাকা সত্ত্বেও নিজের ভালো থাকাকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন গায়িকা। এখন নিজে প্রতিযোগী না হয়ে টেলিভিশনের সামনে বসেই বন্ধুর খেলা দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দেবলীনা নন্দী।






