সবাইকে হাসিয়ে, মাতিয়ে রাখা নিরঞ্জন হঠাৎ ভেঙে পড়লেন ‘বিগ বস বাংলা’র ঘরে! ঝিলমকে জড়িয়ে কান্না, কীসের এত ভয় ‘লাফটারসেন’-এর?

বিগ বস বাংলার শুরু থেকেই নানা ঘটনা নিয়ে জমে উঠেছে খেলা। কখনও প্রতিযোগীদের মধ্যে ঝামেলা, আবার কখনও তৈরি হচ্ছে বন্ধুত্বের নতুন সমীকরণ। এরই মধ্যে দর্শকদের নজর কেড়েছে ‘লাফটারসেন’ নিরঞ্জন মণ্ডলের আবেগপ্রবণ মুহূর্ত। জয়িতা ডাগআউটে যাওয়ার পর আচমকাই ভেঙে পড়তে দেখা যায় তাঁকে। কিছুদিন আগেই তরমুজ কাটাকে কেন্দ্র করে জয়িতা ও নিরঞ্জনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়েছিল। তরমুজ কাটার পদ্ধতি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন নিরঞ্জন। সেখান থেকেই শুরু হয় বচসা। যদিও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় এবং নিরঞ্জন নিজে জয়িতার কাছে গিয়ে ক্ষমা চেয়ে নেন। জয়িতাও নিজের ভুল স্বীকার করে নেন।

তবে সেই ঘটনার পরেও তাঁদের সম্পর্কের আবেগঘন অধ্যায় যেন শেষ হয়নি। তরমুজ কাটার বিষয়টি নিয়ে মনামীর কাছে নিজের ক্ষোভের কথা জানিয়েছিলেন জয়িতা। সেখানে তিনি দাবি করেন, তিনি অত্যন্ত পরিশীলিত এবং ভালোভাবে গড়ে ওঠা পরিবেশ থেকে এসেছেন। এরপর নিরঞ্জনকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করে ব্যঙ্গাত্মক অঙ্গভঙ্গিও করেন তিনি। জয়িতার এমন আচরণে সঙ্গে সঙ্গে আপত্তি জানান মনামী। ঠিক সেই সময় সেখানে এসে নিরঞ্জন পিছন থেকে জয়িতাকে জড়িয়ে ধরেন। তিনি ক্ষমা চেয়ে স্পষ্ট করে জানান, জয়িতাকে আঘাত করার কোনও উদ্দেশ্য তাঁর ছিল না। প্রথমে কিছুটা চমকে গেলেও পরে নিজের আচরণের জন্য ক্ষমা চান জয়িতাও। ফলে তৎক্ষণাৎ সেই মনোমালিন্যের অবসান ঘটে।

এরপরই আসে ডাগআউটের পর্ব। বিগ বসের নিয়ম অনুযায়ী, মোট ছ’জন প্রতিযোগীকে ডাগআউটে পাঠানো হয়েছে। তাঁদের মধ্য থেকেই ঠিক হবে কারা আবার মূল ঘরে ফিরে আসবেন এবং কে খেলা থেকে বাদ পড়বেন। সেই নিয়ম মেনেই প্রতিযোগীরা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী নমিনেশন করেছেন। ডাগআউটে যাওয়া ছ’জনের মধ্যে ছিলেন জয়িতাও। জয়িতা মূল ঘর ছেড়ে ডাগআউটে চলে যেতেই নিরঞ্জনের মন খারাপ হয়ে যায়। তাঁকে একা একা কথা বলতে দেখা যায়। এরপর সেখানে ঝিলম গুপ্ত আসতেই আর নিজের আবেগ সামলে রাখতে পারেননি নিরঞ্জন। ঝিলমকে জড়িয়ে ধরে হাউহাউ করে কেঁদে ফেলেন তিনি।

নিরঞ্জনের এমন আচরণ দেখে ঝিলমও তাঁকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। বারবার কী হয়েছে জানতে চাইলেও নিরঞ্জন কোনও স্পষ্ট উত্তর দেননি। কারণ নমিনেশনের নিয়ম অনুযায়ী, সেই মুহূর্তে বিষয়টি প্রকাশ করে বলা তাঁর পক্ষে সম্ভব ছিল না। ফলে নিরঞ্জনের আচরণ দেখে তাঁর সতীর্থদের পাশাপাশি দর্শকদের মনেও প্রশ্ন তৈরি হয়। জয়িতা ডাগআউটে যাওয়ার জন্যই কি এতটা ভেঙে পড়েছিলেন তিনি, নাকি এর পিছনে রয়েছে আরও কোনও ভয়? যদিও নিরঞ্জনের আবেগ দেখে স্পষ্ট হয়, বিষয়টি শুধু জয়িতার ডাগআউটে যাওয়া নিয়ে সাধারণ মন খারাপের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বিগ বসের নিয়ম এবং খেলার পরবর্তী পরিস্থিতিই তাঁকে বেশি চিন্তায় ফেলেছে।

আরও পড়ুনঃ ‘মহাপাগলগুলো সব আমাকে দেখতে এসেছে, কী আর বলব!’ মাচা শো-তে গান গেয়ে ফের নেটপাড়ায় চরম কটা’ক্ষ ও ট্রো’লিংয়ের মুখে ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত! অভিনেত্রী ঘুরিয়ে দিলেন জবাবও?

আসলে খেলা যত এগোবে, ততই প্রতিযোগীদের সামনে কঠিন সিদ্ধান্ত আসতে পারে। নিরঞ্জনের ভয়, ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে যেখানে নিজের কাছের মানুষকেই প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখতে হবে। শুধু তাই নয়, প্রয়োজন হলে সেই কাছের মানুষটির বিরুদ্ধেই ভোট দিতে হতে পারে। এই ভাবনাই তাঁকে ভিতর থেকে নাড়িয়ে দিয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। জয়িতার সঙ্গে সাম্প্রতিক বচসার পর তাঁদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি মিটে গেলেও, খেলার নিয়ম যে আবেগের সম্পর্ককে কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলতে পারে, সেটাই নিরঞ্জনের আশঙ্কা। তাই জয়িতা ডাগআউটে যাওয়ার পর তাঁর এই কান্না দর্শকদের সামনে ‘লাফটারসেন’-এর একেবারে অন্য রূপ তুলে ধরল।

You cannot copy content of this page