“ঘনি*ষ্ঠ হতে পারি না বলেই কি কাজ নেই?” “সহকর্মীদের নিয়মিত পর্দায় দেখে হিংসে হয়…কিন্তু দিনের শেষে আয়নার সামনে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারি!” ২ বছর ধারাবাহিকে সুযোগ নেই, স্বজনপোষণ নিয়ে বি*স্ফোরক আয়েশা ভট্টাচার্য! অভিনেত্রীর অভিযোগের তীর কার দিকে?

একসময় শিশুশিল্পী হিসেবে বাংলা বিনোদন জগতে নিজের জায়গা তৈরি করেছিলেন আয়েশা ভট্টাচার্য। প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, জিৎদের মতো জনপ্রিয় তারকাদের সঙ্গে ছোট বয়সেই অভিনয় করেছেন তিনি। পরবর্তীকালে বাংলা ধারাবাহিকেও নিয়মিত মুখ হয়ে উঠেছিলেন এই অভিনেত্রী। কিন্তু গত প্রায় দুই বছর ধরে কোনও মেগা ধারাবাহিকে দেখা যাচ্ছে না তাঁকে। সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে নিজের এই দীর্ঘ কর্মহীনতার কথা প্রকাশ্যে এনেছেন আয়েশা। শুধু কাজ না পাওয়ার আক্ষেপ নয়, ইন্ডাস্ট্রির অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়েও নিজের ক্ষোভ জানিয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে আলোচনা।

আয়েশা জানিয়েছেন, প্রতিদিনই তিনি একটি ভালো কাজের ফোনের অপেক্ষায় থাকেন। ফোন আসে, ছবি চাওয়া হয়, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই কাজ আর হয় না। এমন ঘটনাও ঘটেছে, যেখানে দুদিন পর থেকেই শুটিং শুরু হওয়ার কথা জেনেও হঠাৎ তাঁকে জানানো হয়েছে যে তিনি আর কাজটিতে থাকছেন না। এই অনিশ্চয়তা যে তাঁকে কষ্ট দেয়, তা স্পষ্ট করেছেন অভিনেত্রী। পাশাপাশি তিনি জানিয়েছেন, তাঁর বাবা-মায়ের পাশে দাঁড়ানোর মতো আর কেউ নেই। তাই ঘরে বসে থেকে পরিস্থিতির সঙ্গে আপস করার সুযোগও তাঁর নেই। অন্য অভিনেত্রীদের নিয়মিত পর্দায় দেখতে তাঁর কষ্ট হয়, এমনকী হিংসেও হয় বলে অকপটে স্বীকার করেছেন তিনি।

তবে কাজের অভাব তাঁকে থামিয়ে দেয়নি। ধারাবাহিকে নিয়মিত সুযোগ না পাওয়ার মধ্যেই নিজের জন্য নতুন পরিচয় তৈরি করার চেষ্টা করছেন আয়েশা। অভিনয়ের পাশাপাশি নাচ শেখানো এবং সমাজমাধ্যমে বিষয়ভিত্তিক ভিডিও তৈরি করার কাজ শুরু করেছেন তিনি। তাঁর দাবি, ধীরে ধীরে এই নতুন কাজেও তিনি এগোতে পারছেন। মা-বাবার মুখে হাসি ফোটানোই এখন তাঁর অন্যতম বড় লক্ষ্য। সেই কারণেই যত কঠিন পরিস্থিতিই আসুক, লড়াই চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, একটু একটু করে তিনি পারছেন এবং আগামী দিনেও আরও পারবেন, কারণ সংসারের দায়িত্ব তাঁকেই নিতে হবে।

ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ পাওয়ার পিছনে সম্পর্কের গুরুত্ব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন আয়েশা। তাঁর বক্তব্য, টেলিভিশন থেকে দূরে থাকার জন্য কি তিনিই দায়ী? নাকি কারও সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি করতে না পারা কিংবা বিশেষ সময় কাটাতে না পারার কারণেই তাঁকে কাজ থেকে দূরে রাখা হচ্ছে? এই প্রশ্নের উত্তর তিনি নিজেও জানেন না বলে জানিয়েছেন। তবে একই সঙ্গে তাঁর কথায় আত্মবিশ্বাসও স্পষ্ট। তিনি মনে করেন, অন্যদের মতো সেই সম্পর্কগুলি তৈরি করতে না পারলেও অন্তত দিনের শেষে আয়নার সামনে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারেন। নিজের সততা এবং বাবা-মায়ের দেওয়া শিক্ষার উপর তাঁর এখনও পূর্ণ আস্থা রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ “এবারে ‘না’ বলতে বাধ্য হলাম, কারণ…”, প্রথম দুই সিজনে তিনিই ছিলেন ‘বিগ বস বাংলা’র কণ্ঠ! তাহলে সৌরভের ‘বিগ বস’এ কেন কন্ঠ দিতে নারাজ সোহন বন্দ্যোপাধ্যায়? প্রবীণ অভিনেতা জানালেন কোন কারণ?

দীর্ঘ সময় কাজ না পাওয়ার কষ্ট থাকলেও হার মানতে নারাজ আয়েশা ভট্টাচার্য। সহকর্মীদের নিয়মিত পর্দায় দেখে তাঁর খারাপ লাগে, এমনকি কখনও হিংসেও হয়, কিন্তু সেই অনুভূতিকে নিজের পথের বাধা হতে দিতে চান না তিনি। বরং নতুন কাজের সন্ধানের পাশাপাশি নিজের দক্ষতার অন্য দিকগুলিকেও কাজে লাগাচ্ছেন। তাঁর বিশ্বাস, জীবনে পরিস্থিতি সবসময় একরকম থাকে না এবং ভাগ্যের চাকা একদিন ঘুরবেই। তাই দুই বছর ধরে ধারাবাহিকে কাজ না থাকলেও অভিনয় ছেড়ে দেওয়ার কোনও প্রশ্নই নেই। নিজের লড়াই চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে ফের ভালো চরিত্রে দর্শকদের সামনে ফিরতে চান এই অভিনেত্রী।

You cannot copy content of this page