বিনোদন জগতের ঝলমলে আলো, ক্যামেরার ফ্ল্যাশ আর পর্দায় হাসিমুখ দেখেই অনেক সময় অভিনেতা-অভিনেত্রীদের জীবনকে সহজ ও স্বচ্ছন্দ বলে মনে হয় কিন্তু সেই চাকচিক্যের আড়ালেও যে কতটা ব্যক্তিগত লড়াই, অভাব, দায়িত্ব আর না বলা কষ্ট লুকিয়ে থাকতে পারে, তা অনেকেরই অজানা থাকে পর্দায় যাঁদের দেখে দর্শক বিনোদন পান, তাঁদের বাস্তব জীবনেও কখনও কখনও কঠিন পরিস্থিতির সঙ্গে লড়াই করতে হয় আর সেই বাস্তব ছবিই এবার সামনে এসেছে তরুণ অভিনেতা অনিন্দ্য সেনগুপ্তের জীবনে।
দীর্ঘ প্রায় এক দশক ধরে টলিউডের সঙ্গে যুক্ত অনিন্দ্য সেনগুপ্ত একাধিক সিনেমা ও ওয়েব সিরিজে অভিনয় করে নিজের পরিচিতি তৈরি করেছেন ‘উড়ান’, ‘কারক সিং’, ‘ব্রহ্মার্জুন’, ‘তাহাদের কথা’, ‘নিহারিকা’, ‘অতি উত্তম’, ‘এক্সপ্রেম’-এর মতো ছবিতে কাজ করেছেন তিনি পাশাপাশি ‘খুঁজেছি তোকে’, ‘রাতবেতে’, ‘খোলামকুচি’, ‘পাঁচ ফোড়ণ’, ‘হোস্টেল ডেজ’-এর মতো ওয়েব সিরিজেও দেখা গিয়েছে তাঁকে তবে সম্প্রতি অভিনয়ের থেকেও বেশি আলোচনায় তিনি উঠে এসেছেন ‘বিগ বস বাংলা’-য় অংশ নেওয়ার কারণে।
আর এই শোয়ের মঞ্চেই ধীরে ধীরে প্রকাশ্যে এসেছে অনিন্দ্যের জীবনের এমন এক অধ্যায়, যা শুনে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছেন অনেক দর্শক স্কুলজীবন শেষ হওয়ার আগেই পরিবারের পাশে দাঁড়াতে কাজ শুরু করেছিলেন তিনি সংবাদমাধ্যমে সঞ্চালকের কাজ করতে করতেই নাটকের সঙ্গে পরিচয়, তারপর ধীরে ধীরে অভিনয়ের জগতে পা রাখা কিন্তু ২০১০ সালে বাবার মৃত্যুর পর থেকেই তাঁর জীবনে নেমে আসে বড় পরিবর্তন এর আগেই মা-বাবার বিচ্ছেদ হয়েছিল পরে মা দ্বিতীয়বার বিয়ে করেন আর বর্তমানে সেই সৎ বাবার বাড়িতেই থাকতে হয় অনিন্দ্যকে নিজের নামে আলাদা বাড়িও নেই।
সবচেয়ে বেশি আবেগের জায়গাটি তৈরি হয়েছে সৎ বাবার অসুস্থতার কথা সামনে আসার পর তাঁর চিকিৎসার খরচ থেকে শুরু করে সংসারের একাধিক দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিতে হয়েছে অভিনেতাকে অথচ টলিউডে কাজ করে সেই পরিমাণ অর্থ উপার্জন করা সম্ভব হচ্ছে না বলেই জানিয়েছেন তিনি ফলে আর্থিক প্রয়োজনও ‘বিগ বস বাংলা’-য় আসার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে তাঁর জীবনে এখানেই শেষ নয়, মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তার কারণে ঘুমের ওষুধ খেতে হয় বলেও জানিয়েছেন অনিন্দ্য যার প্রভাব পড়ে তাঁর দৈনন্দিন জীবনেও।
আরও পড়ুনঃ “তোমার কাজের কী হবে?” মৃ’ত্যুশয্যায় শুয়েও ছিল স্ত্রীকে নিয়ে চিন্তা! স্বামীকে হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন, জ্যোতিপ্রসাদ বসুর শেষ দিনগুলোর কথা বলতে গিয়ে গলা ধরে এল মা মাসি কিচেনের দিদা, সুমিতা বসুর! ৪৭ বছরের সঙ্গীর কোন শেষ কথায় এখনও চোখে জল?
তবে এতকিছুর মধ্যেও ‘বিগ বস বাংলা’-য় নিজের জায়গা করে নেওয়ার লড়াইটা শেষ পর্যন্ত দীর্ঘ হয়নি প্রথম সপ্তাহেই পারফরম্যান্সের কারণে হোস্ট সৌরভ গাঙ্গুলীর হাতে এলিমিনেশনের মুখে পড়েন তিনি যদিও তাঁকে আরও একটি সুযোগ দেওয়া হয়েছিল, সেই সুযোগও কাজে লাগাতে পারেননি অনিন্দ্য শেষ পর্যন্ত শো থেকে বিদায় নিতে হয়েছে তাঁকে কিন্তু খেলা থেকে বিদায় নিলেও দর্শকদের মনে রয়ে গিয়েছে তাঁর জীবনের সেই অজানা লড়াই কারণ পর্দার আড়ালে থাকা এই বাস্তব গল্পই যেন মনে করিয়ে দিল, তারকার জীবনও সবসময় ঝলমলে নয় অনেক সময় ক্যামেরার বাইরেও তাঁদের লড়াইটা নিঃশব্দে চলতে থাকে।






