“তোমার কাজের কী হবে?” মৃ’ত্যুশয্যায় শুয়েও ছিল স্ত্রীকে নিয়ে চিন্তা! স্বামীকে হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন, জ্যোতিপ্রসাদ বসুর শেষ দিনগুলোর কথা বলতে গিয়ে গলা ধরে এল মা মাসি কিচেনের দিদা, সুমিতা বসুর! ৪৭ বছরের সঙ্গীর কোন শেষ কথায় এখনও চোখে জল?

স্বামীকে হারানোর পর প্রথমবার সোশ্যাল মিডিয়ার ভক্তদের সামনে এলেন ‘মা মাসি কিচেন’-এর সকলের প্রিয় দিদা সুমিতা বসু। তাঁকে দেখেই ভালোবাসা ও সমবেদনায় ভরিয়ে দিয়েছেন তাঁর অসংখ্য অনুরাগী। কারণ ইতিমধ্যেই সকলে জেনে গিয়েছেন, ৪৭ বছরের দাম্পত্য জীবনের ইতি ঘটেছে। সুমিতাদেবীকে একা করে চিরবিদায় নিয়েছেন তাঁর স্বামী জ্যোতিপ্রসাদ বসু। স্বামীর শেষ দিনগুলির কথা বলতে গিয়ে বারবার গলা ধরে এসেছে দিদার। তাঁর কথাতেই স্পষ্ট, শেষ দিন পর্যন্ত স্বামীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল গভীর এবং অটুট। স্বামীকে হারিয়ে তিনি যে ভীষণভাবে ভেঙে পড়েছেন, কথার মাঝেই তা প্রকাশ পেয়েছে।

জ্যোতিপ্রসাদ বসু দীর্ঘদিন ধরে সিওপিডিতে ভুগছিলেন। প্রায় ১৫ থেকে ২০ বছর আগে এই রোগের জন্য কোনও চিকিৎসা করাননি, এমনকী ইনহেলারও ব্যবহার করতেন না। প্রায় পাঁচ বছর আগে জানা যায়, তাঁর সিওপিডি শেষ পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে। তারপর থেকেই পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছিলেন সুমিতাদেবী। তবে অসুস্থতা সত্ত্বেও জ্যোতিপ্রসাদবাবু কখনও মনের জোর হারাননি। পরিবারকে নিয়ে বাঁচার ইচ্ছা তাঁর প্রবল ছিল এবং বাড়িতেও যথেষ্ট সক্রিয় থাকতেন। বাইরে যেতে না পারলেও অনলাইনে বাজার করা, গ্যাস বুক করা থেকে শুরু করে সংসারের নানা কাজ নিজেই সামলাতেন। দিদা রান্না করলেও সংসারের অনেকটা দায়িত্ব তিনি স্ত্রীর সঙ্গে ভাগ করে নিতেন, একেবারে সঙ্গীর মতো পাশে থাকতেন।

এরপর ৭ অগাস্ট হঠাৎ করেই জ্যোতিপ্রসাদবাবুর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে বাইপ্যাপ দিতে হয়, কিন্তু তাতেও তাঁর কষ্ট কমেনি। বরং ধীরে ধীরে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে থাকায় তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। হাসপাতালে যাওয়ার পথেই তাঁর অক্সিজেন স্যাচুরেশন কমে যায়। তবে নার্সিংহোমে ভর্তি করার পর কিছুটা শারীরিক উন্নতি দেখা গিয়েছিল। এরপর তাঁকে আইটিইউতে ভর্তি করা হয় এবং ৮ ও ৯ অগাস্ট সেখানেই চিকিৎসা চলতে থাকে। এতটাই অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও স্ত্রীকে কাজ বন্ধ না করার কথা বলেছিলেন তিনি। কথা বলার শক্তি কমে যাওয়ার পর মোবাইলে লিখেও নিজের ইচ্ছার কথা স্ত্রীকে জানিয়েছিলেন।

আইটিইউতে থাকার সময় জ্যোতিপ্রসাদবাবু মোবাইলে লিখে জানিয়েছিলেন যে তিনি আইটিইউতে থাকতে চান না, জেনারেল ওয়ার্ডে যেতে চান। কিন্তু তাঁর সেই ইচ্ছা আর পূরণ হয়নি। ১৩ অগাস্ট তাঁকে ভেন্টিলেশনে স্থানান্তরিত করা হয়। চিকিৎসকদের সমস্ত চেষ্টা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। সবাইকে কাঁদিয়ে চিরতরে চলে যান সুমিতা বসুর স্বামী। স্বামীর শেষ সময়ের কথা বলতে গিয়ে দিদা জানিয়েছেন, আইটিইউর বেডে শুয়েও তাঁর চিন্তা ছিল স্ত্রীর কাজ নিয়ে। তাঁর সেই কথাই উঠে এসেছে দিদার আবেগঘন বক্তব্যে, ‘‘আইটিইউ-র বেডে শুয়েও বলছে, তোমার কাজের কী হবে? আমার চিন্তা ওর ছিল….’’ এই কথাটি বলতে গিয়েই চোখে জল চলে আসে সুমিতাদেবীর, গলাও ভারী হয়ে যায়।

আরও পড়ুনঃ ‘নায়ক’ ছবিতে সি’গারেটের রিং বানানোর দৃশ্য মনে আছে? ঠোঁটের কোণে সাদা চকচকে বস্তু, চোখে সেই মায়াবী চাহনি! জানেন, কোন ব্র্যান্ডের সি’গারেট খেতেন উত্তমকুমার? ধোঁয়াতেও স্টাইল স্টেটমেন্ট, মহানায়কের ধূ*মপানের অভ্যাসের কারণ জানলে অবাক হবেন!

৪৭ বছরের দাম্পত্যে জ্যোতিপ্রসাদবাবুর সঙ্গে সুমিতাদেবীর সম্পর্ক শুধু স্বামী স্ত্রীর ছিল না, বরং একে অপরের অভ্যাস এবং ভরসার জায়গা হয়ে উঠেছিল। সুমিতাদেবী নিজেও জানিয়েছেন, সাধারণ সংসারের অনেক স্ত্রীর মতো তিনিও স্বামীর উপর অত্যন্ত নির্ভরশীল ছিলেন। অন্যদিকে জ্যোতিপ্রসাদবাবুও সবসময় স্ত্রীর খেয়াল রাখতেন এবং সংসারের নানা কাজে তাঁকে সাহায্য করতেন। তাই এত বছরের সঙ্গীকে হারিয়ে এখন দিদার জীবনে তৈরি হয়েছে বড় শূন্যতা। তবে নিজের পেজের লক্ষ লক্ষ ফলোয়ারকে নিয়েই এবার এগিয়ে চলার চেষ্টা করবেন তিনি। স্বামী শেষ সময়েও যে কাজ চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেছিলেন, সেই কথাই মনে রেখে ভিডিও তৈরি করবেন সুমিতাদেবী। স্বামীকে হারানোর কষ্ট নিয়েও ‘মা মাসি কিচেন’-এর সেই বৃহত্তর সংসারের সঙ্গেই নিজের দিন কাটাবেন সকলের প্রিয় দিদা।

You cannot copy content of this page