“আমার আজকে বোধহয় বাঁচার কোনও উপায় নেই…হয়তো সেদিন ম’রেই যেতুম, কিন্তু রাখে হরি তো মা’রে কে!” ধারাবাহিকের প্রথমদিন শুটিংয়ে যেতে গিয়ে মৃ’ত্যুর মুখ থেকে ফিরেছিলেন মৈত্রেয়ী মিত্র! কী হয়েছিল তাঁর সঙ্গে, কীভাবে প্রাণে বাঁচলেন? শিউরে ওঠার মতো গল্প শোনালেন অভিনেত্রী!

বাংলা টেলিভিশন তথা বড়পর্দার জনপ্রিয় মুখ অভিনেত্রী ‘মৈত্রেয়ী মিত্র’ (Maitreyee Mitra) দীর্ঘ কয়েক দশক ধরেই অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত। ‘সুবর্ণলতা’ ‘ওগো বধূ সুন্দরী’, ‘আলো’, ‘উমা’র মতো একাধিক জনপ্রিয় ধারাবাহিকে তাঁর অভিনয় দর্শকের নজর কেড়েছে। মডেলিং ও সঞ্চালনার মাধ্যমে কাজ শুরু করে প্রায় ২৫ বছর ধরে অভিনয় জগতে নিজের জায়গা তৈরি করেছেন তিনি। দীর্ঘ বিরতির পর ‘শোলক সারি’ ধারাবাহিকের হাত ধরে আবারও ছোটপর্দায় ফিরেছিলেন অভিনেত্রী। বর্তমানে স্টার জলসার ‘তিলোত্তমা’ ধারাবাহিকেও তাঁকে দেখা যাচ্ছে। তবে অভিনয় জীবনের নানান অভিজ্ঞতার পাশাপাশি তাঁর ব্যক্তিগত জীবনেও রয়েছে বেশ কিছু মনে রাখার মতো ঘটনা। এবার তেমনই এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করলেন মৈত্রেয়ী, যা শুনলে এখনও শিউরে উঠতে হয়।

মৈত্রেয়ী জানান, তাঁর অভিনয় জীবনের একেবারে শুরুর দিকে ‘সাঁঝবাতির রূপকথারা’ ধারাবাহিকের প্রথম দিন শুটিংয়ে যাওয়ার সময় ঘটনাটি ঘটে। একটি বাড়িতে শুটিং ছিল, তবে এত বছর পর সেই নির্দিষ্ট লোকেশনের কথা আর তাঁর মনে নেই। তখন রাস্তাঘাটও ভালো করে চিনতেন না বলে মায়ের সঙ্গে গিয়েছিলেন তিনি। মেট্রো করে যেতে হবে বলে শ্যামবাজার মেট্রো স্টেশনে পৌঁছেছিলেন দুজনে। অভিনেত্রীর কাঁধে ছিল একটি বড় ও ভারী ব্যাগ, যার মধ্যে জামাকাপড়ের পাশাপাশি খাবার এবং জলও ছিল। প্রথম দিন শুটিং বলে স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা টেনশন ও নার্ভাসনেস কাজ করছিল তাঁর মধ্যে। মাকে ধীরে আসতে বলে তিনি আগে টিকিট কাটার জন্য এগিয়ে যান এবং তারপরই ঘটে যায় সেই ভয়ংকর দুর্ঘটনা।

মৈত্রেয়ীর কথায়, মণীন্দ্র কলেজের উল্টো দিকের শ্যামবাজার মেট্রো স্টেশনে ঢুকে উপরে ঘড়ির দিকে তাকিয়েছিলেন তিনি। ট্রেন আসতে তখনও প্রায় পাঁচ মিনিট বাকি ছিল। কতক্ষণে গন্তব্যে পৌঁছবেন, শুটিংয়ে যেতে কতটা সময় লাগবে, এসব হিসেব করতে করতেই তিনি এগোচ্ছিলেন। কখন ল্যান্ডিং শেষ হয়ে সিঁড়ি শুরু হয়ে গিয়েছিল, তা বুঝতেই পারেননি অভিনেত্রী। হঠাৎ করেই তিনি অনুভব করেন, তাঁর শরীর সিঁড়ি দিয়ে নিচের দিকে পড়ে যাচ্ছে। মাথা নিচে আর পা উপরে, তার উপর কাঁধে ঝুলছে ভারী ব্যাগ। সেই মুহূর্তে তাঁর মনে হয়েছিল, ওই উচ্চতা থেকে পড়ে গেলে মাথা ফেটে গিয়ে হয়তো আর বাঁচবেন না।

অদ্ভুতভাবে সেই ভয়াবহ মুহূর্তেও আতঙ্কে চিৎকার না করে নিজেকে বাঁচানোর কথাই ভাবছিলেন মৈত্রেয়ী। তিনি একের পর এক সিঁড়ি হাত দিয়ে আঁকড়ে ধরার চেষ্টা করছিলেন, কিন্তু কোনওভাবেই নিজেকে থামাতে পারছিলেন না। সিঁড়ির ধাপ ধরে ধরে হাত পিছলে যাচ্ছিল এবং তিনি আরও নিচের দিকে নেমে যাচ্ছিলেন। শেষ পর্যন্ত লাস্ট দুটো সিঁড়ির আগে একটি কর্নার শক্ত করে চেপে ধরতে সক্ষম হন অভিনেত্রী। তারপরও তিনি মাথা নিচে এবং পা উপরে থাকা অবস্থাতেই আটকে ছিলেন। কাঁধে ভারী ব্যাগ থাকায় সোজা হয়ে দাঁড়ানোরও উপায় ছিল না, কারণ উঠতে গেলেই ব্যাগের ভারে ফের পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল। সেই অবস্থায় তাঁর একটাই চিন্তা হচ্ছিল, মা যদি স্টেশনে এসে তাঁকে এভাবে দেখেন, তাহলে ভয়ে কী করবেন।

আরও পড়ুনঃ “অসময়ে বাবার মৃ’ত্যুর পর মায়ের দ্বিতীয় বিয়ে, অসু’স্থ সৎ বাবার চিকিৎসার খরচ জোগাতেই হিমশিম, নেই নিজের বাড়িটুকুও!” ওষু’ধ ছাড়া ঘুম হয় না, পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে অর্থক’ষ্টে দিন কাটছে টলিউডের তরুণ অভিনেতা অনিন্দ্য সেনগুপ্তের! ‘বিগ বস’ থেকে পড়েছেন বাদ, চোখের সামনে স্বপ্ন থাকলেও বাস্তবের লড়াই যেন বারবার টেনে ধরছে তাঁকে? এই কঠিন পরিস্থিতি থেকে কি ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন অভিনেতা?

নিজেকে সামলাতে না পেরে শেষ পর্যন্ত মাকে ডাকতে শুরু করেন মৈত্রেয়ী। তাঁর গলা শুনে এক ভদ্রলোক ছুটে এসে সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেন। ঠিক সেই সময় তাঁর মাও স্টেশনে পৌঁছে যান। ওই ভদ্রলোক এবং তাঁর মা দুজনে মিলে অভিনেত্রীকে সেখান থেকে তুলে দাঁড় করান। আজও সেই ঘটনার কথা মনে পড়লে মৈত্রেয়ী মনে করেন, তাঁকে বাঁচাতেই যেন জগন্নাথ দেব ওই ভদ্রলোককে পাঠিয়েছিলেন। তাঁর কথায়, “হয়তো সেদিন মরেই যেতুম, কিন্তু রাখে হরি তো মারে কে!” এমন ভয়াবহ ঘটনার পরও সেদিন শুটিং বাতিল করেননি তিনি, বরং সেই ভারী ব্যাগ কাঁধে নিয়েই মায়ের সঙ্গে আবার মেট্রো করে শুটিংয়ে পৌঁছে যান। প্রথম দিনের শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা অবশ্য তাঁর কাছে শেষ পর্যন্ত দারুণই ছিল, আর সেই গল্প অন্য একদিন বলবেন বলে জানিয়েছেন অভিনেত্রী।

You cannot copy content of this page