বিনোদন জগতের তারকাদের পর্দার জীবনের পাশাপাশি তাঁদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও দর্শকদের আগ্রহ কম নয়। প্রেম, বিয়ে, বিচ্ছেদ থেকে শুরু করে পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক তারকাদের জীবনের নানা অধ্যায় নিয়েই মাঝেমধ্যে তৈরি হয় আলোচনা। কখনও সেই আলোচনার কেন্দ্রে থাকে কোনও সম্পর্কের সমীকরণ, আবার কখনও তারকাদের নিজেদের বক্তব্যেই সামনে আসে এমন কিছু অজানা গল্প, যা প্রচলিত ধারণার থেকে একেবারেই আলাদা। বিদীপ্তা চক্রবর্তীর ব্যক্তিগত জীবনও তেমনই একাধিক ওঠাপড়ার সাক্ষী। টলিউডের পরিচিত অভিনেত্রী বিদীপ্তা চক্রবর্তীর বৈবাহিক জীবনও বেশ ঘটনাবহুল।
প্রথম বিয়ের পর বিচ্ছেদ এবং ছোট মেয়ে মেঘলাকে নিয়ে নতুন করে জীবন শুরু করেছিলেন তিনি। এরপর পরিচালক বিরসা দাশগুপ্তের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক তৈরি হয় এবং ২০১০ সালের ৩০ জানুয়ারি তাঁরা আইনি মতে বিয়ে করেন। বিরসার পরিবারের সঙ্গেও বিদীপ্তার আগে থেকেই পরিচয় ছিল। পরবর্তীতে বিরসা তাঁর প্রথম পক্ষের মেয়ে মেঘলাকে আপন করে নেন এবং এই দম্পতির আরও এক কন্যা সন্তান ইদা জন্মায়। তবে তাঁদের সম্পর্ক ঘিরে অতীতে নানা আলোচনা ও কটাক্ষ হলেও, সম্প্রতি অভিনেত্রীর কথায় উঠে এল দুই পরিবারের সম্পর্কের এক অন্য ছবি। এক সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে বিদীপ্তা জানিয়েছেন, তাঁর আগের শ্বশুরবাড়ির সঙ্গে বর্তমান শ্বশুরবাড়ির সম্পর্কও অত্যন্ত ভালো।
এমনকী তাঁর আগের পক্ষের এক ননদ এখনও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন এবং বিদীপ্তা বাড়িতে না থাকলেও তাঁর বর্তমান শাশুড়ির সঙ্গে দেখা করে গল্প করে যান। অভিনেত্রীর কথায়, দুই পরিবারের মধ্যে এমন সম্পর্কই হওয়া উচিত। শুধু ব্যক্তিগত যোগাযোগ নয়, ব্যানার্জি পরিবারের কোনও শুভ অনুষ্ঠান বা বিশেষ আয়োজন হলেও প্রথম পক্ষের পরিবারের তরফে তাঁর কাছে আমন্ত্রণ আসে। অর্থাৎ সম্পর্কের সমীকরণ বদলালেও পারস্পরিক সম্মান এবং যোগাযোগ যে বদলায়নি, সেটাই স্পষ্ট করেছেন তিনি। বিদীপ্তার বক্তব্যে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে তাঁর প্রথম শ্বশুরবাড়ির দেওয়া সমর্থনের প্রসঙ্গ। অভিনেত্রী জানিয়েছেন, প্রথম বিবাহিত জীবনে যখন নানা সমস্যা চলছিল এবং তিনি সেই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার কথা ভাবছিলেন।
আরও পড়ুন: সব্যসাচী চক্রবর্তী, খেয়ালী দস্তিদার, ইন্দ্রাণী হালদারের মতো শিল্পীদের নিয়ে জোছন দস্তিদারের তৈরি ‘তেরো পার্বণ’ ভুলতে পারেনি বাঙালি! ১৯৮৬ সালের সেই বাংলা ধারাবাহিকের হয়ে উঠেছিল সাধারণ মানুষের জীবনের অঙ্গ! চেনা সম্পর্কের গল্প আর চরিত্রের গভীরতা আজ নিশ্চিহ্ন! দ্রুত বদলে যাওয়া গল্পের ভিড়ে হারিয়ে গেল সেই উষ্ণতা, আপনাদের প্রিয় চরিত্র কোনটি ছিল?
তখন তাঁর আগের শ্বশুরবাড়ির সদস্যরাই তাঁকে সাহস জুগিয়েছিলেন। তাঁরা তাঁকে বলেছিলেন, এত কিছু সহ্য করার প্রয়োজন নেই, তিনি যেন নিজের সন্তানকে নিয়ে বেরিয়ে আসেন। সেই কঠিন সময়ে তাঁদের এই সমর্থন বিদীপ্তার কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তাই আজও তাঁদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের মধ্যে কোনও তিক্ততা নেই। বরং তাঁর বিশ্বাস, তিনি একসময় তাঁদের যে ভালোবাসা ও সম্মান দিয়েছিলেন, আজ হয়তো তারই প্রতিদান হিসেবে সেই পরিবারের কাছ থেকেও এতটা ভালোবাসা ফিরে পাচ্ছেন। অন্যদিকে, বিরসার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়েও একসময় নানা মন্তব্য ও ট্রোলিংয়ের মুখে পড়তে হয়েছিল বিদীপ্তাকে।
বিরসার মা চৈতালী দাশগুপ্ত এক পডকাস্টে জানিয়েছিলেন, বিদীপ্তা একসময় তাঁর বন্ধু ছিলেন এবং পরে তিনি জানতে পারেন, তাঁর ছেলের সঙ্গে বিদীপ্তার অন্যরকম সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। এই বক্তব্য ঘিরেও ‘বন্ধুর ছেলের সঙ্গে প্রেম’ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় কটাক্ষের মুখে পড়েছিলেন অভিনেত্রী। তবে অতীতের সেই বিতর্ককে সামনে না রেখে বিদীপ্তার সাম্প্রতিক বক্তব্যে উঠে এসেছে সম্পর্কের আরও মানবিক দিক। তাঁর কাছে বিরসার মধ্যে সবচেয়ে বড় পাওয়া ছিল ‘ভরসা’। আর দুই পরিবারের সম্পর্কের প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট বিয়ে ভেঙে গেলেও সম্পর্কের সব দরজা বন্ধ হয়ে যায় না, পারস্পরিক সম্মান, ভালোবাসা এবং কঠিন সময়ে পাশে থাকার মানসিকতা থাকলে দুই পরিবারের মধ্যেও সুন্দর সম্পর্ক বজায় থাকতে পারে।






