“প্রচণ্ড অস্বস্তি হয়, সাধারণ ঘটনাকেও এত চিৎকার করে বলাটা একেবারেই নিষ্প্রয়োজন!” টেলিভিশন সংবাদ চ্যানেলের বাড়াবাড়ি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ কৃষ্ণকিশোর মুখোপাধ্যায়ের! খবরের অভাব নাকি, অতিরঞ্জিত করার তাগিদ? এখন খবরের মানের থেকে কেন বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে উত্তেজনাপূর্ণ ভঙ্গি ও উচ্চস্বরে চেঁচামেচি? বদলে যাওয়া সংবাদ পরিবেশন ধরন নিয়ে ক্ষো’ভ উগরে কী বললেন অভিনেতা?

বর্তমান সময়ে সংবাদ পরিবেশনের ধরন অনেকটাই বদলে গিয়েছে। টেলিভিশন হোক কিংবা ডিজিটাল মাধ্যম, দর্শকের নজর কাড়তে অনেক সময় খবর পরিবেশনের ক্ষেত্রে উচ্চস্বরে কথা বলা, উত্তেজনাপূর্ণ ভঙ্গি কিংবা চিৎকার-চেঁচামেচির আশ্রয় নিতে দেখা যায়। এই ধরনের সংবাদ পরিবেশন নিয়ে অবশ্য মতভেদও রয়েছে। কারও মতে, দর্শকের আগ্রহ ধরে রাখতে এমন উপস্থাপনা প্রয়োজন। আবার অনেকেরই মনে হয়, সাধারণ বা ছোট ঘটনাকেও অতিরিক্ত উত্তেজনাপূর্ণ করে তোলার ফলে খবরের আসল গুরুত্বটাই কোথাও হারিয়ে যাচ্ছে। সংবাদ পরিবেশনের এই বদলে যাওয়া ধরন নিয়েই এবার নিজের মত জানালেন অভিনেতা কৃষ্ণকিশোর মুখোপাধ্যায়।

বাংলা বিনোদন জগতের পরিচিত মুখ কৃষ্ণকিশোর মুখোপাধ্যায়। দীর্ঘদিন ধরে অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত তিনি। বাংলা নাটক ও অভিনয়জগতের পুরনো দিনের কাজের পরিবেশের সঙ্গে যেমন তাঁর পরিচয় রয়েছে, তেমনই সময়ের সঙ্গে বদলে যাওয়া বিনোদন ও সংবাদ মাধ্যমের ধরনও কাছ থেকে দেখেছেন তিনি। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই বর্তমান সময়ে খবর পড়ার স্টাইল নিয়ে তাঁর মতামত সামনে এসেছে। সাক্ষাৎকারে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, বর্তমানে যেভাবে অনেক সংবাদ মাধ্যমে সঞ্চালকরা উচ্চস্বরে বা চিৎকার করে খবর পড়েন, বিষয়টি তাঁর কেমন লাগে।

উত্তরে কৃষ্ণকিশোর মুখোপাধ্যায় জানান, বিষয়টি তাঁর কাছে কিছুটা অস্বস্তিকর লাগে। তাঁর মতে, অনেক সময় হয়তো খুব সাধারণ একটি ঘটনাকেও এমনভাবে তুলে ধরা হয়, যেন সেটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বা উত্তেজনাপূর্ণ কোনও বিষয়। ফলে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি চিৎকার-চেঁচামেচি করা হচ্ছে বলেই তাঁর মনে হয়। তাঁর কথায়, এই ধরনের উপস্থাপনা অনেক ক্ষেত্রেই নিষ্প্রয়োজন বলে মনে হতে পারে। তবে এখানেই তাঁর বক্তব্যের অন্য একটি দিকও উঠে আসে। কৃষ্ণকিশোর স্বীকার করেন, দর্শকের মনোযোগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে এই ধরনের পরিবেশনের একটা ভূমিকা রয়েছে।

তাঁর মতে, মানুষ চিৎকার-চেঁচামেচি বা উত্তেজনাপূর্ণ উপস্থাপনা দেখলে অনেক সময় স্বাভাবিকভাবেই বেশি আগ্রহ নিয়ে সেই খবর দেখতে বা শুনতে চায়। অর্থাৎ দর্শকের এই মনোভাবের কথা মাথায় রেখেই সংবাদ মাধ্যমে এমন উপস্থাপনার প্রচলন হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। তাই একেবারে অপ্রয়োজনীয় বললেও বিষয়টির পিছনে দর্শকের আগ্রহের একটা কারণ রয়েছে। সবশেষে নিজের অবস্থান আরও স্পষ্ট করে অভিনেতা বলেন, ব্যক্তিগতভাবে তিনি হয়তো এভাবে খবর পড়তে পারবেন না।

আরও পড়ুনঃ “এক সময় ভেবেছিলাম টিকতেই পারব না, এখন একে অপরকে ছাড়া বেশিক্ষণ থাকতেই পারি না!” উত্তম কুমারের পুত্র গৌতম চট্টোপাধ্যায়ের দুই স্ত্রী, সতিন নয় যেন দুই বোন! কোন মন্ত্রে এতবছর একসঙ্গে সংসার করার পরেও তৈরি হয়নি কোনও তিক্ততা? মহানায়কের পরিবারের অন্দরমহলের অজানা কথা ভাগ করে আবেগপ্রবণ সুমনা ও মহুয়া!

কিন্তু এতগুলি সংবাদ চ্যানেলে যখন একই ধরনের উপস্থাপনা দেখা যাচ্ছে, তখন নিশ্চয়ই তার পিছনে কোনও কারণ রয়েছে। তাঁর যুক্তি, দর্শক যদি এই ধরনের সংবাদ পরিবেশন দেখতে বা শুনতে আগ্রহী না হতেন, তাহলে এই পদ্ধতি এতটা জনপ্রিয় হয়ে উঠত না। অর্থাৎ সময় বদলেছে, সংবাদ পরিবেশনের ধরনও বদলেছে এবং বর্তমান দর্শকের চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়েই এই পরিবর্তন এসেছে এমনটাই মনে করছেন কৃষ্ণকিশোর মুখোপাধ্যায়।

You cannot copy content of this page