“মা চেয়েছিলেন মেয়ে নয় ছেলে হোক…সেদিন জলের জায়গায় গায়ে অ্যা*সিড ঢেলে স্নান করেছিলাম” পু*ড়ে গিয়েছিল সারা শরীর, তারপর কীভাবে বাবা তাঁকে বাঁচিয়ে এনেছিলেন মৃ’ত্যুর মুখ থেকে? শৈশবের সেই ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিলেন কিংবদন্তি অভিনেত্রী মাধবী মুখোপাধ্যায়? এককালের দস্যি মেয়েই কীভাবে হয়ে উঠেছিলেন সত্যজিতের শান্ত ‘চারুলতা’?

বিনোদন জগতের তারকাদের নিয়ে নানা ধরনের গল্প দর্শকদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে। পর্দায় তাঁদের অভিনয়, সাফল্য কিংবা ব্যক্তিগত জীবনের নানা ঘটনা নিয়ে চর্চা হলেও, ছোটবেলার অনেক অজানা গল্প সাধারণ মানুষের কাছে থেকে যায় আড়ালেই। কখনও সেই গল্পে থাকে মজার স্মৃতি, কখনও আবার এমন কোনও ঘটনা, যা শুনলে আজও অবাক হতে হয়। কিংবদন্তি বাঙালি অভিনেত্রী মাধবী মুখোপাধ্যায়ের ছোটবেলার এমনই এক ঘটনার কথা জানা যায় তাঁর নিজের মুখ থেকেই। এক সাক্ষাৎকারে শৈশবের এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছিলেন অভিনেত্রী।

বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম পরিচিত মুখ মাধবী মুখোপাধ্যায়। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে একাধিক উল্লেখযোগ্য চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের মনে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। সত্যজিৎ রায়ের ‘চারুলতা’ থেকে শুরু করে বাংলা ছবির আরও বহু গুরুত্বপূর্ণ কাজের সঙ্গে তাঁর নাম জড়িয়ে রয়েছে। তবে অভিনয়জীবনের বাইরেও তাঁর শৈশবের নানা স্মৃতি বেশ আকর্ষণীয়। এমনই একটি ঘটনার কথা বলতে গিয়ে নিজের ছোটবেলার দুষ্টুমি এবং তার জেরে ঘটে যাওয়া বিপদের কথা জানিয়েছিলেন অভিনেত্রী।

মাধবী মুখোপাধ্যায়ের কথায়, তাঁর মা ছোটবেলায় চাইতেন তাঁর একটি ছেলে সন্তান হোক। সেই ইচ্ছার প্রভাব পড়েছিল মাধবীর পোশাকেও। তাঁকে মেয়েদের মতো ফ্রক পরানোর বদলে জামা-প্যান্ট পরিয়ে রাখা হত। ছোটবেলার সেই সময়টায় মাধবী ছিলেন বেশ চঞ্চলও। ঢাকুরিয়ার একটি ভাড়া বাড়িতে তাঁদের পরিবার থাকত। বাড়িটির চারপাশে ছিল প্রচুর গাছপালা। ফলে সেখানে সাপের উপদ্রবও ছিল বলে জানিয়েছিলেন অভিনেত্রী। সাপ যাতে বাড়ির আশপাশে না আসে, সেই কারণে তাঁর মা বাড়ির চারপাশে কার্বলিক অ্যাসিড ছড়িয়ে রাখতেন।

আরও পড়ুন: “আমি বাড়ি না থাকলেও আগের পক্ষের ননদ এখনও আমার শাশুড়ির সঙ্গে গল্প করতে আসে, ওদের বাড়ির সব অনুষ্ঠানে আমিও যাই” কোলের মেয়েকে নিয়ে প্রথম দাম্পত্যের ইতি টেনে বন্ধু চৈতালী দাশগুপ্তর ছেলেকে বিয়ে নিয়ে তুমুল কটা’ক্ষের শিকার, এবার প্রাক্তন ও বর্তমান শ্বশুরবাড়ির সম্পর্কের সমীকরণ ফাঁস করলেন বিদীপ্তা চক্রবর্তী! আজও কীভাবে দুই পরিবারের আদরের বৌমা তিনি, অভিনেত্রী শোনালেন আবেগঘন গল্প?

কিন্তু সেই কার্বলিক অ্যাসিডই একদিন ছোট্ট মাধবীর জন্য ভয়াবহ বিপদ ডেকে আনে। অভিনেত্রী জানিয়েছিলেন, ছোটবেলায় তাঁর স্নান করার প্রবল বাতিক ছিল। একদিন সবার নজর এড়িয়ে তিনি জল ভেবে কার্বলিক অ্যাসিড গায়ের উপর ঢেলে দেন এবং তা দিয়েই স্নান করে ফেলেন। অ্যাসিড শরীরে পড়ার পরই শুরু হয় তীব্র জ্বালা। কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁর সারা শরীর মারাত্মকভাবে পুড়ে যায়। আচমকা ঘটে যাওয়া ঘটনায় পরিবারের লোকজনও স্বাভাবিকভাবেই বিপাকে পড়ে যান।

পরিস্থিতি সামাল দিতে তখন ডিমের সাদা অংশ খোঁজা শুরু হয়। কিন্তু বিপত্তি আরও বাড়ে, কারণ কাছাকাছি কোনও দোকানে তখন ডিম পাওয়া যাচ্ছিল না। ফলে প্রয়োজনীয় জিনিস জোগাড় করতেও যথেষ্ট সমস্যায় পড়তে হয়েছিল পরিবারকে। ছোট্ট মাধবীর সেই দুষ্টুমি যে এতটা ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনবে, তা নিশ্চয়ই কেউ ভাবেননি। বহু বছর পর নিজের মুখে সেই স্মৃতি তুলে ধরে অভিনেত্রী বুঝিয়েছিলেন, শৈশবের একটি সাধারণ দুষ্টুমিও কখনও কখনও কত বড় বিপদের কারণ হয়ে উঠতে পারে।

You cannot copy content of this page