প্রয়াত বাঙালির হৃদয়ের রাজ করা অভিনেত্রী মিঠু মুখার্জি (Mithu Mukherjee)। দীর্ঘদিন ক্যা*ন্সারের সঙ্গে লড়াই করার পর রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। ‘মৌচাক’ খ্যাত এই অভিনেত্রীর মৃত্যুর খবরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে বাংলা বিনোদন জগতে। সহকর্মী এবং বন্ধু মিঠুর মৃত্যুসংবাদ শুনে স্তম্ভিত বর্ষীয়ান অভিনেত্রী রত্না ঘোষালও। বহু বছর তাঁদের মধ্যে দেখা বা যোগাযোগ না থাকলেও পুরনো সম্পর্কের স্মৃতি এখনও রত্নার মনে স্পষ্ট। মিঠুর প্রয়াণের খবর শুনে সেই স্মৃতিই ফিরে এসেছে তাঁর কথায়। অভিনেত্রীর সঙ্গে নিজের সম্পর্কের কথা বলতে গিয়ে রত্না জানিয়েছেন, মিঠু ছিলেন অত্যন্ত ভালো মনের একজন মানুষ।
মিঠুর সঙ্গে বহু বছর আগে একসঙ্গে কাজ করেছেন রত্না ঘোষাল। সেই সময়ের সম্পর্কের কথা মনে করে তিনি বলেন, “অনেক বছর ধরে ওর সঙ্গে আমার দেখা হয়নি তবে আমাদের সম্পর্ক খুব ভালো ছিল, বন্ধুত্বও ছিল। একসঙ্গে কাজ করার সূত্রে ওকে খুব কাছ থেকে চিনেছিলাম। মিঠু ভীষণ ভালো মনের মেয়ে ছিল এবং আমাকে খুব ভালোবাসত। সবসময় হাসিখুশি থাকত, খুব উদার মনের মানুষ ছিল। নিজে খেতে যেমন ভালোবাসত, তেমনই অন্যদের খাওয়াতেও খুব আনন্দ পেত।” রত্নার কথায়, মিঠুর এই সহজ, প্রাণখোলা স্বভাবই তাঁকে আজও বিশেষভাবে মনে রাখার মতো করে তুলেছে।
মিঠুর বাড়িতেও একসময় গিয়েছিলেন রত্না ঘোষাল। তাঁর স্মৃতিতে রয়েছে, সম্ভবত কালীপুজোর সময়ই তিনি মিঠুর বাড়িতে গিয়েছিলেন। সেটিই তাঁদের শেষ দেখা বলে জানিয়েছেন বর্ষীয়ান অভিনেত্রী। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে মিঠুর সঙ্গে আর দেখা বা ফোনে কথা হয়নি। রত্নাও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও মিঠু কোথায় ছিলেন, তা জানতে পারেননি। তবু এত বছর যোগাযোগ না থাকার পরেও তাঁদের পারস্পরিক ভালোবাসায় কোনও পরিবর্তন আসেনি বলে জানিয়েছেন রত্না। তিনি বলেন, “আমি ওকে যেমন ভালোবাসতাম, ও-ও আমাকে খুব ভালোবাসত। আমাদের সম্পর্ক সত্যিই খুব ভালো ছিল। তাই ও এভাবে চলে গেল শুনে আমার ভীষণ কষ্ট হচ্ছে।”
মিঠুর অভিনয় প্রতিভার কথাও বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন রত্না ঘোষাল। তাঁর মতে, মিঠু শুধু ভালো মানুষই ছিলেন না, একজন অত্যন্ত ভালো শিল্পীও ছিলেন। একসঙ্গে তাঁর সঙ্গে দুই থেকে তিনটি ছবিতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে রত্নার। এর মধ্যে রয়েছে ‘মৌচাক’ এবং ‘স্বয়ংসিদ্ধা’। অভিনয়ের পাশাপাশি তাঁর সৌন্দর্যও খুব অল্প সময়ের মধ্যেই দর্শকের নজর কেড়েছিল। ১৯৭১ সালে ‘শেষ পর্ব’ ছবির মাধ্যমে বিনোদন জগতে তাঁর পথচলা শুরু হয়। এরপর একাধিক বাংলা এবং হিন্দি ছবিতে অভিনয় করে নিজের আলাদা পরিচয় তৈরি করেছিলেন মিঠু মুখার্জি।
আরও পড়ুনঃ ‘আমিই তোকে আগে মা*রব, ফাইনাল পর্যন্ত যেতেই দেব না…’, বিগ বসের ঘরে হাতাহাতির উপক্রম, ‘ছোট ভাই’ রাজবীরকে কেন এমন হুমকি জিতু কমলের? রেগে আ’গুন সৃজলাও, আবার কী করে ফেলল রাজনন্দিনী জুটি?
সুচিত্রা সেনের পর মিঠু মুখার্জিও এমন এক বাঙালি অভিনেত্রী, যিনি নিজের ইচ্ছেতেই ধীরে ধীরে আলোচনার কেন্দ্র থেকে সরে গিয়েছিলেন বলে তাঁকে নিয়ে চর্চা রয়েছে। তবে কেন তিনি নিজেকে আড়ালে সরিয়ে নিয়েছিলেন, সেই কারণ রত্না ঘোষালও জানেন না। তিনি জানান, কলকাতায় মিঠু প্রথমে গরানহাটায় থাকতেন। পরে অশোকায় একটি ফ্ল্যাট কিনেছিলেন এবং লেক রোডেও তাঁর একটি বাড়ি ছিল। সেই বাড়িতে শুটিংয়ের অনুমতিও দিতেন মিঠু, এমনকি রত্না নিজেও সেখানে শুটিং করেছেন। পরবর্তীকালে অশোকার ফ্ল্যাট-সহ তাঁর সম্পত্তিগুলি বিক্রি করে দিয়েছিলেন বলে জানান রত্না। ১৯৯০ সালে ‘আশ্রিতা’ ছবিতে শেষবার বড়পর্দায় দেখা যায় মিঠু মুখার্জিকে, তারপর থেকেই তিনি সম্পূর্ণভাবে আড়ালে চলে যান।






