টলিউডের অভিনেত্রী শোলাঙ্কি রায় বরাবরই নিজের মতামত স্পষ্টভাবে প্রকাশ করার জন্য পরিচিত। সম্প্রতি তাঁর একটি সাক্ষাৎকারের ঝলক প্রকাশ্যে আসতেই নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সেখানে রামায়ণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র রাবণকে নিয়ে নিজের পছন্দের কথা জানিয়েছেন অভিনেত্রী। সাধারণভাবে রামকে মর্যাদার প্রতীক এবং রাবণকে খলনায়ক হিসেবেই দেখা হয়। কিন্তু শোলাঙ্কির বক্তব্যে উঠে এসেছে একেবারে অন্য ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি। তিনি জানিয়েছেন, রাবণের চরিত্রের একটি বিশেষ দিক তাঁর ভালো লাগে।ভিআর সেই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই সমাজ মাধ্যমে তাঁকে ঘিরে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা ও বিতর্ক।
আড্ডায় সঞ্চালক সায়ন ঘোষ শোলাঙ্কিকে রাবণের প্রতি তাঁর এই পছন্দের কারণ জানতে চান। উত্তরে অভিনেত্রী জানান, রাবণের মধ্যে তিনি এমন একজন পুরুষের বৈশিষ্ট্য দেখতে পান, যাঁকে তিনি নীতিবান বলে মনে করেন। শোলাঙ্কির বক্তব্য অনুযায়ী, সীতাকে লঙ্কায় নিয়ে যাওয়ার পরেও রাবণ তাঁকে কখনও স্পর্শ করেননি। এই বিষয়টিকেই রাবণের চরিত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে দেখেছেন তিনি। নিজের বক্তব্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে শোলাঙ্কি বলেন, “আমার মনে হয়, রাবণ খুব ভদ্রলোক ছিলেন। কারণ সীতাকে নিয়ে যাওয়ার পরেও তিনি তাঁকে কখনও স্পর্শ করেননি। এই ধরনের পুরুষই আমার ভালো লাগে, কারণ তাঁর মধ্যে নিজের নীতিতে অটল থাকার বিষয়টি ছিল।”
শুধু রাবণকে নিয়েই নয়, রামায়ণের শূর্পণখা পর্ব নিয়েও নিজের আলাদা ব্যাখ্যা দিয়েছেন শোলাঙ্কি। শূর্পণখার নাক কেটে দেওয়ার ঘটনাকে তিনি সরাসরি আক্ষরিক অর্থে দেখেননি। তাঁর মতে, এই ঘটনার মধ্যে অন্য কোনও অর্থ বা ইঙ্গিত থাকতে পারে। একজন নারীর নাক কেটে দেওয়ার ঘটনাকে তিনি নারীর উপর নির্যাতনের প্রতীক হিসেবেও দেখেছেন। এই প্রসঙ্গে অভিনেত্রী প্রশ্ন তোলেন, কোনও মেয়ের নাক কেটে দেওয়ার ঘটনাকে কীভাবে বোঝা উচিত। শোলাঙ্কির ব্যাখ্যায়, এর মধ্যে একজন নারীর উপর অত্যাচার বা তাঁর সম্মানহানির ইঙ্গিত থাকতে পারে। এই মন্তব্যও প্রকাশ্যে আসার পর তাঁর বক্তব্য নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
শোলাঙ্কির কথায়, “আমার মনে হয়, শূর্পণখার নাক কাটার বিষয়টি রূপক অর্থেও দেখা যেতে পারে। একজন মেয়ের নাক কখন কেটে দেওয়া হয়, সেটা ভাবলে বিষয়টির অন্য একটি দিক সামনে আসে। আমার মনে হয়, সেখানে একজন নারীর উপর নির্যাতনের ইঙ্গিত রয়েছে।” রামায়ণের পরিচিত ঘটনাকে এভাবে দেখার কারণে তাঁর বক্তব্য নিয়ে সমাজ মাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তাঁর রাবণকে পছন্দ করার বক্তব্যও একইভাবে চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে রাবণকে নীতিবান ও ভদ্রলোক হিসেবে দেখার ব্যাখ্যাই আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। তবে এই বক্তব্যগুলি শোলাঙ্কির নিজের ব্যক্তিগত ব্যাখ্যা হিসেবেই সামনে এসেছে।
এই আলোচনার মাঝেই প্রকাশ্যে এসেছে শোলাঙ্কির রাজনৈতিক মতাদর্শ সম্পর্কিত বক্তব্যও। সাক্ষাৎকারের ঝলকে নিজের পরিচয় দিতে গিয়ে তিনি জানিয়েছেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরেই বামপন্থী মতাদর্শে বিশ্বাসী। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, “আমি চিরকাল বামপন্থী।” অভিনেত্রীর ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও সম্প্রতি বিভিন্ন ধরনের আলোচনা চলছে। বিশেষ করে সোহম মজুমদারের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ভাঙার বিষয়টি নিয়ে সংবাদমাধ্যম ও সমাজ মাধ্যমে চর্চা হয়েছে। নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অতিরিক্ত আলোচনা হওয়ায় তিনি কিছুটা বিরক্ত বলেও ওই কথোপকথনে ইঙ্গিত দিয়েছেন। এরই মধ্যে রাবণ, শূর্পণখা এবং নিজের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে তাঁর মন্তব্য নতুন করে তাঁকে আলোচনার কেন্দ্রে এনেছে।
আরও পড়ুনঃ “এর বর ওর বউকে রে*প করছে, ওর বউ এর বরের কাছে রে*প হচ্ছে” “সদ্য বিয়ে হয়েছে আমাদের তার মধ্যেই ধ*র্ষণ…দেড় মাস বাড়িতে গিয়ে আমিই ইন্দ্রানী দত্তকে নিজের হাতে তৈরি করেছি” দাবি সুমিত গঙ্গোপাধ্যায়ের! কী ঘটেছিল সেদিন ক্যামেরার পিছনে, জীবনসঙ্গীদের কীর্তি ফাঁস করলেন অভিনেতা? কী সেই বিতর্কিত দৃশ্য যা এত বছর পরও মনে রেখেছেন তিনি?
শোলাঙ্কির এই বক্তব্যের পর রামায়ণের চরিত্রগুলিকে কীভাবে দেখা উচিত, তা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। একদিকে রাবণকে ঘিরে তাঁর ব্যক্তিগত পছন্দের ব্যাখ্যা, অন্যদিকে শূর্পণখার ঘটনা নিয়ে তাঁর রূপক অর্থের কথা সামনে এসেছে। রাবণকে সীতার প্রতি জোর না দেখানোর কারণে নীতিবান পুরুষ হিসেবে দেখেছেন অভিনেত্রী। অন্যদিকে শূর্পণখার নাক কাটার ঘটনাকে তিনি নারীর উপর নির্যাতনের প্রতীক হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। সাক্ষাৎকারের ঝলক প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই এই দুই মন্তব্য নিয়ে সমাজ মাধ্যমে নানা মত দেখা যাচ্ছে। এর পাশাপাশি নিজের বামপন্থী পরিচয় নিয়েও স্পষ্ট অবস্থান জানিয়েছেন তিনি। সব মিলিয়ে শোলাঙ্কির এই সাক্ষাৎকারের বক্তব্যই এখন বিনোদন মহল থেকে সমাজ মাধ্যম, দুই জায়গাতেই আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।






