‘আমি খুব জেদি, যেটা পাব না সেটা আমাকে পেতেই হবে…’, ‘সাইডলাইন করার মতো কী এমন করেছি?’ ৮০ হাজারের কাজ করিয়ে টাকা দেননি উল্টে করেছেন মা’রধর, সবটাই নাকি মিথ্যে? দাবি সোহম চক্রবর্তীর! রাজনীতি থেকে দূরত্ব, শুধুই অভিনয় করতে চেয়েও কেন তৃণমূল সরকারের পতনের পর টলিউডে কোণঠাসা হচ্ছেন ‘হরলিক্স বয়’? একাধিক অভিযোগ নিয়ে মুখ খুললেন অভিনেতা!

দীর্ঘ অভিনয়জীবনে শিশুশিল্পী থেকে নায়ক বহু ওঠাপড়ার সাক্ষী সোহম চক্রবর্তী। একসময় শিশুশিল্পী হিসেবে অনেক ছবিতে কাজ করার পর নায়ক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতেও কম লড়াই করতে হয়নি তাঁকে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের সেই দীর্ঘ পথচলা, ইন্ডাস্ট্রিতে পাওয়া সম্মান-অপমান, কাজের প্রতি তাঁর জেদ এবং সাম্প্রতিক সময়ে রাজনীতি থেকে ফের অভিনয়ে মন দেওয়ার বিষয় নিয়ে খোলামেলা কথা বললেন অভিনেতা। একইসঙ্গে ইন্ডাস্ট্রিতে তাঁকে সাইডলাইন করা হচ্ছে কি না, বিভিন্ন মিটিং-অনুষ্ঠানে তাঁকে দেখা যাচ্ছে না কেন এবং আগামী দিনে তাঁর লক্ষ্য কী সব নিয়েও মুখ খুলেছেন সোহম।

অভিনেতা জানান, শিশুশিল্পী হিসেবে তৈরি হওয়া পরিচিতি ভেঙে নায়ক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা সহজ ছিল না। তাঁর কথায়, “নানান রকম ভাবে অনেক কিছু সম্মুখীন হতে হয়েছে, মান-অভিমান-অপমান বেসিক্যালি তো হয়েছে।” তবে সেই পরিস্থিতি তাঁকে থামিয়ে দিতে পারেনি। বরং তিনি নিজের জেদকেই এগিয়ে যাওয়ার শক্তি হিসেবে দেখেছেন। সোহমের কথায়, “আমি খুব জেদি, যেটা পাব না তাহলে আমাকে পেতে হবে।” তাঁর দাবি, এই চাওয়ার মধ্যে কোনও ছলচাতুরি বা নেতিবাচক উদ্দেশ্য নেই, বরং নিজের কাজের প্রতি গভীর নিষ্ঠা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, “আমি যেটাই করব উইথ ফুল অনেস্টি, সেখানে কোনও ঠকানো হবে না, সেখানে কোনও কমিটমেন্টের এদিক-ওদিক হবে না।”

তাঁর মতে, সব মানুষ তাঁকে বুঝবেন, এমনটা সম্ভব নয়। তাই কে তাঁকে কীভাবে দেখছেন, তা নিয়ে না ভেবে নিজের কাজ করে যাওয়াই তাঁর লক্ষ্য। সাম্প্রতিক সময়ে টলিউডের বিভিন্ন মিটিং, অনুষ্ঠান ও কর্মসূচিতে তাঁকে তুলনামূলকভাবে কম দেখা যাচ্ছে, এমন প্রশ্নেরও জবাব দিয়েছেন সোহম। তাঁকে সাইডলাইন করা হচ্ছে কি না জানতে চাওয়া হলে তাঁর সাফ বক্তব্য, “সাইডলাইন কথাটা সাইডলাইন কেন? সাইডলাইন করার মতো কী এমন করেছি?” অভিনেতার দাবি, অনেক ক্ষেত্রে তাঁর কাছে ডাকই আসেনি, আবার কিছু ক্ষেত্রে আমন্ত্রণ পাওয়ার পরও তাঁকে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষোভ না দেখিয়ে তিনি বলেন, “এগুলো ভেবে কোনও লাভ নেই, এগুলো হচ্ছে ফালতু সময় নষ্ট করা। কাজ নিয়ে কাজ করব।”

তাঁর বক্তব্য, যাঁরা তাঁকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন, তাঁদের সম্মানকে তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন। পাশাপাশি শিল্পী হিসেবে যে সম্মান তিনি পেয়েছেন, সেই সম্পর্কও তিনি বজায় রাখতে চান। রাজনীতি প্রসঙ্গে সোহম জানান, নাগরিক হিসেবে সরকার যদি ভালো কাজ করে, তিনি তা সমর্থন করবেন। তাঁর কথায়, “আমি চাইব একজন নাগরিক হিসেবে, সৎ নাগরিক হিসেবে যে সরকারই আসুন না কেন, যে সরকারই থাকুন না কেন, তাদের থেকে পজিটিভ কিছু কাজ।” একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, শুধুমাত্র ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য নিজের অবস্থান বদলানোর পথে তিনি হাঁটেননি। রাজনীতি থেকে দূরে সরে পুরোপুরি কাজে মন দেওয়ার প্রসঙ্গে সোহম আরও বলেন, ইন্ডাস্ট্রির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও তাঁর চিন্তা রয়েছে।

তাঁর মতে, কাজের সংকট শুধু তাঁর একার নয়, গোটা ইন্ডাস্ট্রিরই একটি সমস্যা। তাই এই সময়ে অভিনয়, ভালো স্ক্রিপ্ট ও ভালো গল্প খোঁজার দিকেই মন দিতে চান তিনি। সোহম বলেন, “অন্য কোনও কিছু সেখানে প্রপারলি ভালো মেডিটেশন থেকে শুরু করে ভালো গান শোনা থেকে শুরু করে, ফ্যামিলি টাইম দিতে পারছি।” অর্থাৎ কঠিন সময়েও পরিবার, বন্ধু এবং কাজ এই তিনকেই নিজের পাশে রাখছেন তিনি। একইসঙ্গে তাঁর আশাবাদ, “যখন অন্ধকার যখন গাঢ়, তখন বুঝতে হবে যেটাই সন্নিকটে, ততটাই কাছে তো আলো ফুটবে।” নিজের আগামী কাজ নিয়েও তিনি আশাবাদী।

আরও পড়ুনঃ “সৃজলার জন্য কান্না না ছাই, সবচেয়ে জনপ্রিয় বলেই রাজবীরের ইমেজ নষ্ট করতে উঠে পড়ে লেগেছে!” “ব্যক্তিগত বিষয় টেনে নোং*রা খেলা, নিজেকে আবার কুইন বলে!” “রাজবীরের বাবা নেই, ছোট থেকে অনেক কষ্ট করেছে, তাঁর দুর্বলতাকে ব্যবহার করা অত্যন্ত নিন্দনীয়!” ৫০০ টাকা চাওয়ার পুরনো স্ক্রিনশট ফাঁস থেকে কেরিয়ার ধ্বংসের হু’মকি অনুষ্কার, ‘ক্লাসলেস’ বলে ধুয়ে দিলেন বিগ বসের দর্শকরা!

তাঁর নতুন ছবি মুক্তির অপেক্ষায়, যেখানে সাধারণ দু’জন মানুষের প্রেম, আবেগ, অভিমান ও কষ্টের গল্প উঠে আসবে। সাক্ষাৎকারে তিনি দর্শকদের উদ্দেশে বলেন, “আপনারা ছবিটা দেখুন, ১০ অক্টোবর ছবিটা রিলিজ করছে।” তাঁর কথায়, এটি কোনও লার্জার-দ্যান-লাইফ গল্প নয়, বরং সাধারণ বাঙালি ছেলে-মেয়ের ভালোবাসার গল্প। দীর্ঘ বিরতির পর ফের বড় পর্দায় নিজের অভিনয় পরিচয় নিয়ে ফিরতে পেরে স্বাভাবিকভাবেই উচ্ছ্বসিত অভিনেতা।

You cannot copy content of this page