বিগ বস বাংলার রাজনৈতিক টাস্ক ঘিরে ইতিমধ্যেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ঘরের পরিবেশ। ‘নীল হরিণ’ ও ‘আগুনপাখি’ দলের এই টাস্কে কাঁচা লঙ্কা চিবিয়ে প্রচারের শর্ত দেওয়া নিয়ে শুরু হয় বচসা। সৃজলার দেওয়া এই শর্ত নিয়ে আপত্তি জানান রাজবীর। এরপর দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি চরমে ওঠে। সৃজলা রাজবীরকে বলেন, “আগের সপ্তাহে কোন ঠিক কাজটা হয়েছিল? অনেক কিছু ঠিক নয়, স্পোর্টিংলি নিতে হবে। নিজের চরিত্রের পরিচয় দিচ্ছ।” পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হলে রাজবীর আগুনপাখি দলের পতাকা ফেলে দেন। পালটা অনুষ্কা পতাকা ছিঁড়ে দেন এবং তনুশ্রীর সঙ্গেও রাজবীরের তুমুল ঝামেলা শুরু হয়। শেষে সৃজলা নীল হরিণের প্রতীক ভেঙে ফেললে তাঁকে সামলাতে এগিয়ে আসেন নিরঞ্জন।
এই ঘটনার পর রাজবীরকে নিয়ে অনুষ্কার মন্তব্য নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে বলে দাবি দর্শকদের একাংশের। গতকাল রাজবীর সৃজলাকে ‘ভিকটিম কার্ড’ খেলার অভিযোগ করেছিলেন বলে দর্শকদের বক্তব্য। সেই মন্তব্যেই অনুষ্কা রেগে গিয়ে রাজবীরকে ‘অত্যন্ত নিম্ন মানসিকতার’ এবং ‘ছোটলোক’ বলে মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এর পাশাপাশি রাজবীর নাকি ২০১৫ সালে অনুষ্কার কাছে ৫০০০ টাকা চেয়েছিলেন, সেই পুরনো স্ক্রিনশট প্রকাশ্যে আনার কথাও বলা হয়েছে বলে দর্শকদের দাবি। শুধু স্ক্রিনশট প্রকাশের কথা নয়, রাজবীরের কেরিয়ার শেষ করে দেওয়ার হুমকিও অনুষ্কা দিয়েছেন বলে অভিযোগ করছেন তাঁরা।
যদিও এই অভিযোগগুলি দর্শকদের প্রতিক্রিয়ার ভিত্তিতে সামনে এসেছে এবং ওই স্ক্রিনশট বা হুমকির স্বাধীন সত্যতা নিশ্চিত করার তথ্য এই প্রতিবেদনে নেই। তবে এই প্রসঙ্গ সামনে আসতেই বিগ বস বাংলার দর্শকদের মধ্যে অনুষ্কা ও রাজবীরকে ঘিরে বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। দর্শকদের একাংশের দাবি, বিষয়টি সৃজলার প্রতি সহানুভূতির জায়গা থেকে নয়, বরং রাজবীরকে ঘিরে তৈরি হওয়া জনপ্রিয়তার কারণেই এতটা আলোচনায় এসেছে। তাঁদের বক্তব্য, এই মুহূর্তে রাজবীর শোয়ের অন্যতম জনপ্রিয় প্রতিযোগী হয়ে উঠেছেন। তাই তাঁর ইমেজ নষ্ট করার জন্যই ব্যক্তিগত জীবনের পুরনো প্রসঙ্গ সামনে আনা হচ্ছে বলে মনে করছেন তাঁরা। এক দর্শক লিখেছেন, “বিগ বসের কন্ট্রাকে নাকি কারো অতিতের ব্যাপারে বলা, কারো ব্যক্তিগত জীবনের ব্যাপারে কিছু বলা এইসব উল্লেখ ছিলো না, বানীতে অনুষ্কা।
সেই জন্য অনুষ্কা রাজবীরের ২০১৬ সালের টাকা ধার চাওয়ার স্ক্রিনশট গুলো ভাইরাল করে দেওয়ার হুমকি দিলো। আরও অনেক হুমকি দিলো, ওর কেরিয়ার শেষ করে দেবে!” ওই দর্শকের মতে, তাহলে বিগ বসের ঘরে পরিবার নিয়ে কথা বলা বা মা তুলে গালি দেওয়ার মতো বিষয়ও কি নিষেধের মধ্যে ছিল না? এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি রাজবীরের সঙ্গে অন্য প্রতিযোগীদের আচরণের পার্থক্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। এক দর্শক আরও প্রশ্ন তুলেছেন ভরত কলের প্রসঙ্গ নিয়েও। তাঁর বক্তব্য, ভরত কল বাবা-মাকে তুলে কথা বললেও রাজবীর সেই ঘটনায় ‘জাস্টিস’ পাননি। অন্যদিকে রাজবীর তনুশ্রীকে তাঁর মেয়ের প্রসঙ্গ তুলে কিছু বললে সেটিই অপরাধ হিসেবে দেখা হচ্ছে বলে তিনি প্রশ্ন করেছেন। তাঁর কথায়, “শুধু রাজবীর যদি তনুশ্রীকে বলে যে তোমার মেয়ে দেখে কি শিখবে সেইটা অপরাধ এইটাই হয়তো কন্ট্রাক্টে ছিলো তাইতো?”
আরও পড়ুনঃ “সৃজলা কি সত্যিই এতটা আ’হত নাকি সবটাই সিমপ্যাথি গেম?” “যার শরীরে গুরুতর আ’ঘাত, সে কী করে এত ঝগড়া আর দৌড়াদৌড়ি করতে পার?” শারীরিক অবস্থার থেকে নাটকটাই বেশি, সাম্প্রতিক পর্বে রাজবীরের সঙ্গে ঝামেলায় সৃজলার হাঁটা ও আচরণ দেখেই উঠল প্রশ্ন? নন্দিনী বারবার ক্ষমা চাইলেও থামছে না বিতর্ক, বিগ বসের বিরুদ্ধেও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগের মাঝেই সৃজলার বিরুদ্ধে সরব দর্শক?
একই সঙ্গে অনুষ্কার কান্নাকেও ওই দর্শকের কাছে স্বাভাবিক বলে মনে হয়নি। কেউ কেউ সরাসরি লিখেছেন, “অনুষ্কার কান্নাটা ফেক লাগলো!” ফলে বিগ বসের ঘরে ব্যক্তিগত বিষয় টেনে আনা, পুরনো ঘটনা সামনে আনার হুমকি এবং প্রতিযোগীদের আচরণের পার্থক্য নিয়ে দর্শকদের মধ্যে তুমুল আলোচনা শুরু হয়েছে। অন্য এক দর্শকও রাজবীরের পুরনো আর্থিক সমস্যাকে এভাবে টেনে আনার তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাঁর কথায়, “একজনের ক্রাইসিস মোমেন্ট নিয়ে কতটা ক্লাসলেস হলে এভাবে বলতে পারে হাত পেতে পেতে দেখাচ্ছে, ‘ ৫০০০ দে না’!” এরপর রাজবীরকে “চামচা গিরি করে চলেছিস” বলেও কটাক্ষ করা হয়েছে বলে ওই দর্শক মন্তব্য করেছেন। রাজবীর আগেই জানিয়েছিলেন, তাঁর বাবা নেই এবং জীবনে তাঁকে অনেক কষ্ট করে চলতে হয়েছে, সেই কথাও মনে করিয়ে দিয়েছিলেন তিনি।






