অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র শুধু পর্দার কাজেই সীমাবদ্ধ নন, সামাজিক নানা বিষয়েও তাঁকে বারবার সরব হতে দেখা যায়। বিশেষ করে পথকুকুর ও অন্যান্য অবলা প্রাণীদের নিয়ে তাঁর সক্রিয়তা দীর্ঘদিনের। নিজের আবাসন থেকে শুরু করে পথের প্রাণীদের খাবার, চিকিৎসা এবং তাঁদের দেখভাল করা মানুষদের হয়রানি বন্ধের মতো বিষয়েও তিনি কথা বলেছেন। রাজনৈতিকভাবে তিনি বামপন্থী মতাদর্শে বিশ্বাসী বলেই পরিচিত। তবে তাঁর বক্তব্য, সামাজিক কোনও বিষয়ে কাজ করার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয়কে তিনি সামনে রাখেন না।
সেই কারণেই সম্প্রতি তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষের সঙ্গে তাঁকে এক মঞ্চে দেখা যাওয়ার পর নতুন করে শুরু হয়েছিল জল্পনা। নিজের জন্মদিন উপলক্ষে পথের প্রাণীদের জন্য আয়োজিত একটি শিবিরে কুণালের সঙ্গে দেখা যায় শ্রীলেখাকে। এমনকি তাঁকে কেক খাওয়ানোর ছবিও প্রকাশ্যে আসে। দু’জনের রাজনৈতিক অবস্থান সম্পূর্ণ আলাদা হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, তবে কি শ্রীলেখার রাজনৈতিক অবস্থানে কোনও বদল এসেছে? নেটপাড়ার একাংশের তরফে দলবদলের জল্পনাও শুরু হয়। কিন্তু অভিনেত্রী বারবার স্পষ্ট করেছেন, পশুদের স্বার্থে কারও সঙ্গে কাজ করা আর রাজনৈতিক অবস্থান বদলে ফেলা দুটো এক বিষয় নয়।
এবার সেই প্রসঙ্গেই নিজের অবস্থান আরও পরিষ্কার করলেন শ্রীলেখা। তাঁর দাবি, “আমি কিন্তু কুণালবাবুদের সঙ্গে বা অন্য কারও সঙ্গে, তাঁদের দল যখন ক্ষমতায় থাকে, আমি নিজের জন্য আজ পর্যন্ত কিছু চাইনি।” অভিনেত্রীর কথায়, আগের সরকারের সময়ও তিনি নিজের ক্যারিয়ার বা পেশাগত সুবিধার জন্য কারও কাছে যাননি। বরং তখন সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলার কারণে নিজের পেশাগত জীবনে ক্ষতি হয়েছে বলেই দাবি তাঁর। তাই শুধুমাত্র কারও সঙ্গে একসঙ্গে দেখা গিয়েছে বলে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান বদলে গিয়েছে এমনটা ভাবার কোনও কারণ নেই।
এরপরই উঠে আসে বিজেপির মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের প্রসঙ্গ। অগ্নিমিত্রা এবং শ্রীলেখার রাজনৈতিক মতাদর্শ সম্পূর্ণ আলাদা হলেও পশুদের স্বার্থে তাঁর সঙ্গে বৈঠক করতে একটুও দ্বিধা করেননি অভিনেত্রী। অগ্নিমিত্রার সঙ্গে দেখা করে পথের প্রাণীদের জন্য বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন তিনি। শ্রীলেখার বক্তব্য অনুযায়ী, “রাজনৈতিকভাবে দুটো উল্টো মেরুর মানুষ হওয়া সত্ত্বেও উনি যেই বিষয়টায় আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, সেটার জন্য এটা একটা বড় কাজ।” অর্থাৎ, অগ্নিমিত্রার সঙ্গে তাঁর যোগাযোগও রাজনৈতিক সমর্থনের জন্য নয়, বরং অবলা প্রাণীদের স্বার্থেই। সাম্প্রতিক বৈঠকে অগ্নিমিত্রার কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার কথাও জানিয়েছেন শ্রীলেখা।
আরও পড়ুনঃ “সুযোগই দেয়নি, উত্তম কুমারকে নিয়ে আমারও অনেক কিছু বলার ছিল…” ভাই তরুণ কুমারের পরিবার ব্রাত্য, সুচিত্রা ও সুপ্রিয়ার কন্যাদেরও হয়নি ডাকা? বিজেপির উদ্যোগে মহানায়কের জন্মশতবর্ষের অনুষ্ঠান ঘিরে বি*স্ফোরক চিরঞ্জিত চক্রবর্তী! “উত্তম কুমার কারও সরকারি সম্পত্তি নয়”, মনে করিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুললেন অভিনেতা? আপনারাও কি সহমত?
নিজের অবস্থান বোঝাতে শ্রীলেখা আরও স্পষ্ট করে বলেন, তিনি কোনও রাজনৈতিক দলের সদস্য নন। তাই নিজের দলের মানুষ হলেও কেউ অন্যায় করলে তাঁর প্রতিবাদ থাকবে, আবার রাজনৈতিকভাবে বিপরীত মতাদর্শের কেউ ভালো কাজ করলে সেটার প্রশংসাও করবেন। তাঁর কথায়, “আমি যেটা অন্যায় দেখব, সে যে দলেরই হোক… আর যার যদি কোনও ভালো দেখি, সেটাও বলব।” শেষ পর্যন্ত তাঁর বার্তা একটাই পশুদের জন্য কাজ করতে গিয়ে রাজনৈতিক রং দেখবেন না, কিন্তু নিজের আদর্শের জায়গা থেকেও সরে যাবেন না। “আদর্শগতভাবে আমি পাল্টাবো না। আমি অন্য দলে যাব না,” স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন শ্রীলেখা।






