“একসঙ্গে থাকা মানুষগুলোর সিদ্ধান্তেই বেরিয়ে গেলাম, দর্শকের ভোটে হলে এতটা খারাপ লাগত না” “ভেজানো চিড়ে খেয়েই থাকতে হয়েছে আমায়, অন্যদের মতো না ছিল লাগেজ, না প্রস্তুতি” কমেছে ৮ থেকে ৯ কেজি ওজনও! বিগ বস বাংলার ৪০ দিনের অভিজ্ঞতা নিয়ে মুখ খুললেন দীপেন্দু বিশ্বাস! খাবারের সংকট থেকে আচমকা এলিমিনেশন নিয়েই অকপট প্রাক্তন ফুটবলার কী বললেন?

বাংলার ফুটবলপ্রেমীদের কাছে দীপেন্দু বিশ্বাস এক পরিচিত নাম। মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গল ও মহামেডান স্পোর্টিংয়ের মতো ক্লাবের হয়ে খেলার পাশাপাশি জাতীয় দলের জার্সিতেও মাঠে নেমেছেন তিনি। রাজনীতির আঙিনাতেও তাঁর পরিচিতি রয়েছে। তবে এবার ফুটবল বা রাজনীতি নয়, বিগ বস বাংলার ঘরে ৪০ দিন কাটিয়ে নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন এই প্রাক্তন ফুটবলার। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বিগ বসের বাড়ির ভিতরের পরিবেশ, প্রতিযোগীদের সঙ্গে সম্পর্ক, খাবারের অভাব, পরিবারের থেকে দূরে থাকার কষ্ট এবং হঠাৎ মিড উইক এলিমিনেশনে বিদায় নেওয়ার অভিজ্ঞতা নিয়ে মুখ খুলেছেন দীপেন্দু বিশ্বাস।

বিগ বসের বাড়িতে প্রবেশের পর প্রথম যে সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছিল দীপেন্দুকে, তা হল সময়ের হিসাব রাখা। সেখানে মোবাইল ফোন, ঘড়ি কিংবা বাইরের জগতের সঙ্গে যোগাযোগের কোনও সুযোগ ছিল না। বিগ বসের গান বাজলে ঘুম থেকে উঠতে হত, আবার আলো কমে গেলে বুঝতে হত ঘুমানোর সময় হয়েছে। দিনের কোন সময় চলছে, তা আন্দাজ করাও কঠিন হয়ে পড়েছিল। মাত্র কয়েক দিনের প্রস্তুতিতে শোতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি। অন্য প্রতিযোগীদের মতো আগে থেকে বিশেষ কোনও প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ পাননি। এমনকী, অন্যদের তুলনায় তাঁর সঙ্গে লাগেজও ছিল অনেক কম। তবে পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে নিজের মতো করেই থাকতে চেয়েছিলেন তিনি। তাঁর কথায়, ঝগড়া কিংবা মারামারি করে নয়, নিজের স্বাভাবিক স্বভাব বজায় রেখেই এই খেলায় থাকতে চেয়েছিলেন।

বিগ বসের বাড়িতে দীপেন্দুর কাছে সবচেয়ে বড় শিক্ষা ছিল খাবারের গুরুত্ব বোঝা। কখনও এক কাপ কফি, কখনও একটি বিস্কুট, আবার কখনও একটি ডিমও হয়ে উঠেছিল অত্যন্ত মূল্যবান। প্রথম সপ্তাহে ডাগ আউটে থাকার সময় প্রতিযোগীদের মুড়ি, চিড়ে, বাতাসা ও কিছু সবজি দিয়ে দিন কাটাতে হয়েছিল। পর্যাপ্ত খাবার না থাকায় কখনও মুড়ি খেয়ে, কখনও ভেজানো চিড়ে খেয়েই সময় কাটিয়েছেন তাঁরা। পরে খাবার পাওয়া গেলেও তা ভাগ করে খেতে হত। একটি ছোট বিস্কুটের প্যাকেটও অনেকের মধ্যে ভাগ করে নেওয়ার অভিজ্ঞতা হয়েছে তাঁর। এমনকী, সপ্তাহে একদিন ইলিশ মাছ খাওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন তাঁরা। খাবার নষ্ট না করার শিক্ষা ছোটবেলা থেকেই থাকলেও বিগ বসের বাড়িতে তার মূল্য আরও গভীরভাবে বুঝেছেন দীপেন্দু। পাশাপাশি, প্রতিদিন সকালে হাঁটাহাঁটি ও পেটের ব্যায়াম করতেন তিনি। তাঁর দাবি, ৪০ দিনে প্রায় আট থেকে নয় কেজি ওজন কমে গিয়েছিল।

বাড়ির ভিতরে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা হওয়াও দীপেন্দুর কাছে বিশেষ অভিজ্ঞতা ছিল। তাঁদের মধ্যে ফুটবল নিয়ে আলোচনা হত। ব্রাজিলের ম্যাচের কথাও সৌরভ মনে রেখেছিলেন বলে খুশি হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু বাইরে কী ঘটছে, সে সম্পর্কে কোনও খবরই পেতেন না প্রতিযোগীরা। কলকাতা লিগের ফলাফল থেকে শুরু করে ফুটবল জগতের নানা ঘটনা সবই ছিল তাঁদের অজানা। অন্যদিকে, বাড়ির বাইরে থাকা বাবা, স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে চিন্তাও ছিল দীপেন্দুর। বসিরহাটে থাকা বৃদ্ধ বাবার খোঁজখবর নেওয়া তাঁর নিয়মিত অভ্যাস। তাই পরিবারের থেকে এত দিন দূরে থাকা সহজ ছিল না। যদিও তাঁর কথায়, বাবা-মা, শ্বশুরমশাই, বন্ধু এবং পরিবারের অন্য সদস্যরা তাঁর স্ত্রী ও মেয়ের পাশে ছিলেন। বাড়ি ফিরে স্ত্রী ও মেয়েকে কাছে পেয়ে স্বস্তি পেয়েছেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ মহালয়া মানেই শুধু দূরদর্শনের সংযুক্তা বন্দ্যোপাধ্যায় নন! আশির দশক থেকে একের পর এক যে সকল অভিনেত্রী বাঙালির হৃদয়ে চিরস্থায়ী জায়গা করে নিয়েছিলেন, মনে আছে কি সেই নস্ট্যালজিয়ার অংশ মুখগুলি?

তবে বিগ বসের ঘর থেকে তাঁর বিদায় ছিল কিছুটা অপ্রত্যাশিত। টানা রাতভর কঠিন একটি কাজ করার পর বিশ্রাম নিতে গিয়েছিলেন প্রতিযোগীরা। এরপরই তাঁকে গেটের সামনে বসতে বলা হয় এবং হাউসমেটদের সিদ্ধান্তে মিড উইক এলিমিনেশনে বিদায় নিতে হয়। দীপেন্দুর মতে, দর্শকদের ভোটে বাদ পড়লে হয়তো তাঁর এতটা খারাপ লাগত না। কিন্তু যাঁরা একসঙ্গে ছিলেন, তাঁদের সিদ্ধান্তে বেরিয়ে যাওয়াটা তাঁকে অবাক করেছিল। বাইরে এসে বিপুল সংখ্যক মানুষের সমর্থন ও ভালোবাসা পেয়ে আপ্লুত হয়েছেন তিনি। বিগ বসের অভিজ্ঞতা তাঁকে খাবারের মূল্য, ধৈর্য এবং সীমিত পরিস্থিতিতে মানিয়ে নেওয়ার শিক্ষা দিয়েছে। ফুটবল মাঠের পরিচিত জীবন থেকে সম্পূর্ণ আলাদা এই অভিজ্ঞতা তাঁর জীবনে যে নতুন উপলব্ধি এনে দিয়েছে, তা স্পষ্ট তাঁর কথাতেই।

You cannot copy content of this page