টলিউডে একদিকে যেমন তারকাদের সুখী দাম্পত্যের উদাহরণ রয়েছে, তেমনই সময়ের সঙ্গে ভেঙে গিয়েছে বহু সম্পর্ক। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে অভিনেতা শাশ্বত চট্টোপাধ্যায় (Saswata Chatterjee) এবং তাঁর স্ত্রী মহুয়া চট্টোপাধ্যায়ের দীর্ঘ দাম্পত্য অনেকের কাছেই ব্যতিক্রমী। প্রায় ২৫ বছর ধরে একসঙ্গে সংসার করছেন তাঁরা। অথচ মহুয়ার সঙ্গে বিনোদন জগতের সরাসরি কোনও যোগাযোগ নেই। তিনি কলকাতার একটি নামী স্কুলের সিনিয়র শিক্ষিকা। অন্যদিকে শাশ্বত বাংলা ছবির পাশাপাশি হিন্দি ছবিতেও নিজের অভিনয়ের ছাপ রেখেছেন। দুজনের পেশা আলাদা হলেও একে অপরের জীবন এবং কাজের সঙ্গে তাঁরা ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছেন। স্বামীর পেশাগত জীবনের নানা দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি নিজের কর্মজীবনও সুন্দরভাবে এগিয়ে নিয়ে চলেছেন মহুয়া। তাঁদের সম্পর্কের বিশেষত্ব শুধু দীর্ঘদিন একসঙ্গে থাকা নয়, বরং একে অপরকে বুঝে চলার মধ্যেও রয়েছে।
শাশ্বত ও মহুয়ার প্রথম আলাপ হয়েছিল থিয়েটারের সূত্রে। সেই সময় শাশ্বত জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘এক আকাশের নিচে’-তে অভিনয় করে পরিচিতি পেয়েছেন। অন্যদিকে মহুয়া তখন শিক্ষকতার সঙ্গে যুক্ত। নাট্যব্যক্তিত্ব ব্রততী চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে এক চায়ের আড্ডায় তাঁদের দেখা হয়। শাশ্বত তখন চার্বাক নাট্যদলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। প্রথম দেখাতেই অবশ্য মহুয়ার মনে অভিনেতাকে নিয়ে খুব একটা ভালো ধারণা তৈরি হয়নি। বরং শাশ্বতের একটি আচরণে তিনি বেশ রেগে গিয়েছিলেন। পরে সেই অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে মহুয়া জানিয়েছিলেন, বাড়ি ফিরে তাঁর মনে হয়েছিল, ছেলেটি ভীষণ বাজে। শাশ্বতকে তখন পর্দায় যে ধরনের চরিত্রে দেখা যেত, প্রথম আলাপের অভিজ্ঞতার সঙ্গে সেই ধারণাও মিলে গিয়েছিল মহুয়ার। ফলে পরিচয়ের শুরুটা মোটেই মধুর ছিল না। তবে সেই বিরক্তি যে একদিন দীর্ঘ দাম্পত্যের সূচনা করবে, তা তখন তাঁদের কেউই ভাবেননি।
প্রথম সাক্ষাতে মহুয়াকে নিয়ে শাশ্বতের মনেও কৌতূহল তৈরি হয়েছিল। তিনি শুনেছিলেন, মহুয়া ইংরেজির শিক্ষিকা। স্বাভাবিকভাবেই তাঁর ধারণা হয়েছিল, কথাবার্তায় হয়তো ইংরেজি শব্দের ব্যবহার বেশি থাকবে। কিন্তু সেদিনের আড্ডায় মহুয়াকে সেভাবে ইংরেজি বলতে শোনেননি শাশ্বত। বিষয়টি তাঁর কাছে বেশ আশ্চর্যের ছিল। অন্যদিকে মহুয়া শাশ্বতের আচরণে বিরক্ত হলেও পরিচয়ের সূত্র ধরে তাঁদের যোগাযোগ বাড়তে থাকে। নাটক এবং আড্ডার পর্ব পেরিয়ে সম্পর্ক ধীরে ধীরে অন্য দিকে এগোয়। শাশ্বতের পরিবারও এই সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল। অভিনেতার বাবা শুভেন্দু চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে মহুয়ার ভালো সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। শাশ্বত নিজেও মজা করে বলেছেন, তিনি যেন শুধু স্ত্রীকে নয়, তাঁর বাবাকেও পছন্দ করে বিয়ে করেছিলেন। প্রথম পরিচয়ের সেই অদ্ভুত অভিজ্ঞতা পরবর্তী সময়ে তাঁদের সম্পর্কের মজার স্মৃতি হয়ে রয়ে গিয়েছে।
অবশেষে ২০০১ সালের ২১ জুলাই সাতপাকে বাঁধা পড়েন শাশ্বত ও মহুয়া। বিয়ের স্মৃতি ভাগ করে নিয়ে মহুয়া তাঁদের বিয়ের কিছু ছবিও সমাজমাধ্যমে প্রকাশ করেছিলেন। বিয়ের সাজে তাঁকে সাজিয়েছিলেন মেকআপ আর্টিস্ট অনিরুদ্ধ চাকলাদার। তাঁদের দাম্পত্যে সময়ের সঙ্গে এসেছে একমাত্র মেয়ে হিয়া। পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি শাশ্বতের কাজের জগতেও মহুয়ার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। অভিনেতার ব্যক্তিগত দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি পেশাগত বিষয়গুলিও তিনি দেখাশোনা করেন। শাশ্বত সাধারণত মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন না, তাঁর কাজের জন্য আলাদা কোনও ম্যানেজারও নেই। ফলে বিভিন্ন কাজের যোগাযোগ এবং পেশাগত বিষয় সামলানোর দায়িত্বে মহুয়াকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে হয়। যদিও তিনি নিজে অভিনয় জগতের মানুষ নন, তবুও শাশ্বতের কাজ সম্পর্কে তাঁর যথেষ্ট ধারণা রয়েছে। অভিনেতার কাজের ভালো-মন্দ নিয়েও তিনি নিজের মতামত স্পষ্টভাবে জানান।
আরও পড়ুন: “হয়তো বিগ বসের ঘরে সততার দাম নেই, কিন্তু এই সিদ্ধান্ত মন ছুঁয়ে গেল!” “শিরদাঁড়া সোজা রেখে ঠিকটাকে ঠিক, ভুলকে ভুল বলতে পারাটাই প্রকৃত মানুষের পরিচয়!” জেতার জন্য পিঠে ছু’রি মা’রছে যখন অন্য সবাই, তখন ক্যাপ্টেন্সি পেয়েও ফিরিয়ে দিলেন সোনামণি সাহা! অন্যায়ভাবে পাওয়া জয় মানতে নারাজ অভিনেত্রী, সততায় মুগ্ধ দর্শক ভরালেন প্রশংসায়!
তবে দীর্ঘ দাম্পত্যের ক্ষেত্রে মহুয়ার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল একে অপরকে নিজের মতো করে বাঁচতে দেওয়া। সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার সূত্র নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি জানিয়েছিলেন, “বরকে স্পেস দিই। কন্ট্রোল করার চেষ্টা করি না। আমি ওঁর স্ত্রী, মা নই।” তাঁর মতে, স্বামীকে সবসময় নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করলে সম্পর্কের মধ্যে অযথা জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই নিজের সঙ্গীকে তাঁর মতো করে থাকার সুযোগ দেওয়াই ভালো। এই প্রসঙ্গে মহুয়া আরও বলেন, “এটা মেনে চলতে পারলে আমিই ভালো থাকব। না হলে আমারই মাথার মধ্যে সব কিছু ঘেঁটে যাবে বলে মনে করি।” অল্প কয়েকটি কথার মধ্যেই দাম্পত্য নিয়ে নিজের ভাবনা স্পষ্ট করেছেন তিনি। তাঁর এই বক্তব্যে বোঝা যায়, সম্পর্কের মধ্যে ভালোবাসার পাশাপাশি ব্যক্তিগত স্বাধীনতা এবং পারস্পরিক বোঝাপড়াকেও গুরুত্ব দেন মহুয়া। একে অপরের জীবনে জায়গা দেওয়ার এই মানসিকতাই তাঁদের সম্পর্কের অন্যতম ভিত্তি।
বর্তমান সময়ে যখন সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়ে প্রায়ই আলোচনা হয়, তখন শাশ্বত ও মহুয়ার দাম্পত্যের গল্প নতুন করে নজর কাড়ে। দুজনের পেশা আলাদা হলেও তাঁদের মধ্যে বোঝাপড়া এবং একে অপরের প্রতি সম্মান দীর্ঘদিনের। মহুয়া অভিনয়ের জগতে না থেকেও স্বামীর কাজের পাশে থেকেছেন, আবার নিজের শিক্ষকতার পেশাকেও সমান গুরুত্ব দিয়েছেন। শাশ্বতের ব্যস্ত কর্মজীবনের মধ্যেও পরিবারকে ঘিরে তাঁদের সম্পর্কের নিজস্ব ছন্দ রয়েছে। অভিনেতার স্ত্রী হিসেবে পরিচিত হলেও মহুয়ার নিজস্ব পরিচয়ও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। তিনি নিজের কাজের জগতে প্রতিষ্ঠিত এবং সংসার ও পেশাগত দায়িত্বের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখেন। প্রথম দেখায় একে অপরকে নিয়ে ভুল ধারণা তৈরি হওয়া থেকে শুরু করে দীর্ঘ দাম্পত্যের এই পথচলা তাঁদের সম্পর্কের এক অন্য দিক তুলে ধরে। আর মহুয়ার মতে, সঙ্গীকে বদলে দেওয়ার চেষ্টা না করে তাঁকে নিজের মতো থাকতে দেওয়াই হয়তো সুখী দাম্পত্যের অন্যতম চাবিকাঠি।






“বাঙালি মায়েরা মুস*লিম মায়ের মতো বিরিয়ানি বানাতেই পারে না…ঈদে ওদের সঙ্গে বসে একই থালায় খাই”, “শুভেন্দু অধিকারী কে? এখনও বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যই আমাদের মুখ্যমন্ত্রী!” দুর্গাপুজোর আবহে একের পর এক বড় মন্তব্য মৌসুমী ভট্টাচার্যের! ‘ওদের হাতের বিরিয়ানি তো স্বাদ হবেই থু*তু ছিটিয়ে রান্না করে’, ‘আসল কথা বলুন বি*ফ ভালো রান্না করে, ওটাই খেতে যান’ নেটপাড়ায় কটাক্ষবিদ্ধ অভিনেত্রী!