বিগ বস বাংলার ঘরে ঝিলম গুপ্তের যাত্রা আচমকাই থেমে গেল। কোনও সাধারণ ভোটিং বা স্বাভাবিক নমিনেশনের ফল নয়, শারীরিক অসুস্থতার কারণেই তাঁকে শো ছাড়তে হয়েছে। চিকিৎসকদের পরামর্শ এবং মেডিক্যাল রিপোর্ট সামনে আসার পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জানা গিয়েছে, ঝিলমের পিত্তথলিতে থাকা পাথরের সমস্যা আরও বেড়ে গিয়েছিল। তাঁর প্রচণ্ড পেটে ব্যথা হচ্ছিল এবং চিকিৎসকদের মতে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন রয়েছে। অথচ এই শারীরিক সমস্যার মধ্যেই এতদিন তিনি বিগ বসের ঘরে থেকে খেলা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। বাইরে থেকে তাঁর পরিস্থিতি বোঝা যায়নি বলেই অনেক দর্শক তাঁকে অলস বা কাজে অনীহা দেখানো প্রতিযোগী বলে মনে করেছিলেন। এবার ঘর থেকে বেরিয়ে সেই ভুল ধারণা নিয়েই মুখ খুললেন ঝিলম।
ঝিলম জানিয়েছেন, বিগ বসের ঘরে যাওয়ার আগেই তাঁর গলব্লাডারে পাথর ধরা পড়েছিল। সমস্যা জানা সত্ত্বেও তিনি শোয়ে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কিন্তু ঘরে যাওয়ার কিছুদিন পর থেকেই পেটে প্রচণ্ড ব্যথা শুরু হয়। সেই ব্যথা সামলাতে তাঁকে নিয়মিত পেনকিলার খেতে হত বলেও জানিয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, “আমার গল ব্লাডার স্টোর ধরা পড়ার পড়েও আমি বিগ বসে যাই। কিন্তু কিছু সময় পর থেকেই প্রচন্ড পেটে ব্যথা হত। পেইনকিলার খেয়ে থাকতাম।” এই পরিস্থিতির কথা ঘরের অন্য প্রতিযোগী বা দর্শকদের অনেকেই বুঝতে পারেননি। ফলে তাঁর স্বাভাবিকভাবে কাজ না করা বা অনেক সময় চুপচাপ থাকার বিষয়টি অন্যভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছিল। এবার নিজের শারীরিক সমস্যার কথা জানিয়ে সেই ধারণারই ব্যাখ্যা দিয়েছেন ঝিলম।
বিগ বসের ঘরে থাকার সময় তাঁর আচরণ নিয়েও কম আলোচনা হয়নি। অনেকের মনে হয়েছিল, অন্যদের মতো ঘরের কাজে সক্রিয় হচ্ছেন না ঝিলম। কেউ কেউ তাঁকে অলস বলেও মন্তব্য করেছিলেন বলে জানিয়েছেন তিনি। কিন্তু বাস্তবে সেই সময় তাঁর শরীরের ভিতরে চলছিল তীব্র যন্ত্রণা। ঝিলম স্পষ্ট করে বলেছেন, “লোকে ভেবেছেন আমি অলস। কাজ করি না, কিন্তু শারীরিক অবস্থার কথা কেউ বুঝতে পারেননি।” অর্থাৎ বাইরে থেকে যে আচরণকে অনেকে তাঁর স্বভাব বা অনীহা হিসেবে দেখেছিলেন, তার পিছনে ছিল শারীরিক অসুস্থতা। এখন চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলছেন তিনি এবং অস্ত্রোপচারের প্রয়োজনীয়তাও রয়েছে। তাঁর এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর বিগ বসের ঘরে তাঁর আগের আচরণ নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ঝিলমের হঠাৎ বিদায়ের কথা জানানো হলে বিগ বসের ঘরেও আবেগঘন পরিস্থিতি তৈরি হয়। শোয়ের পক্ষ থেকে তাঁকে জানানো হয়, এই ঘর থেকে তিনি নিজের প্রতি নতুন বিশ্বাস এবং অসংখ্য মানুষের ভালবাসা নিয়ে বেরিয়ে যাবেন। তাঁর আগামী দিনগুলি সাফল্য, আনন্দ এবং নতুন সম্ভাবনায় ভরে উঠুক বলেও শুভেচ্ছা জানানো হয়। পাশাপাশি দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠার কামনাও করা হয়। বিগ বসের সেই বার্তা শুনে ঝিলম নিচু স্বরে শুধু ‘ধন্যবাদ’ জানান। এরপর ঘর ছাড়ার আগে তিনি সহ প্রতিযোগীদের কাছ থেকে কিছুটা সময় চেয়ে নেন। শেষবারের মতো সকলকে জড়িয়ে ধরে বিদায় জানান তিনি। সেই সময় জিতু কমল, নিরঞ্জন, মনামী, ভরত কল সহ একাধিক প্রতিযোগী আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন এবং অনেকের চোখে জল চলে আসে।
তবে ঝিলমের বিদায়ের সেই ভারী পরিবেশেও তৈরি হয় অন্যরকম একটি মুহূর্ত। ঘর ছাড়ার আগে সহ প্রতিযোগীদের সঙ্গে বসে তিনি আগমনী গান গেয়ে ওঠেন।
চোখে জল নিয়েও গান থামাননি ঝিলম। তাঁর সঙ্গে গলা মেলান বিগ বসের ঘরের অন্যান্য সদস্যরাও। ফলে বিদায়ের মুহূর্তটি আরও আবেগপূর্ণ হয়ে ওঠে। ঝিলমের লেখা গানে তিনি সহ প্রতিযোগীদের জন্য অটোগ্রাফও দেন। সেখানে লেখা ছিল, “আদর বাড়ি মায়ায় ভরা, সকলকে অনেক ভালোবাসা।” তাঁর এই বিদায় দৃশ্য দেখে অনুরাগীদের মধ্যেও আবেগ ছড়িয়ে পড়ে।
আরও পড়ুনঃ “তখন মাত্র ১৩ বছর, পুজোর ঢাকে কাঠি পড়তেই আমার মা বিদায় নিলেন…কত পুজো এলো কিন্তু সেই শূন্যতা আজও পূরণ হয়নি!” “যে বয়সে নতুন জামা পরে ঠাকুর দেখতে যাওয়ার কথা, সেই বয়সেই আমি…ওই কষ্ট ভোলার নয়!” মায়ের মৃ’ত্যুর পর কোন গুরুদায়িত্ব কাঁধে তুলে দেন বাবা? মুম্বইয়ে রাজকীয় দুর্গাপুজোর আড়ালে যন্ত্র’ণার স্মৃতি ভাগ করতে গিয়ে চোখে জল বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের!
অন্যদিকে, ঝিলমের অসুস্থতার খবর প্রকাশ্যে আসার পর তাঁর বাবা মেয়ের শারীরিক অবস্থার কথাও জানান। এক চিকিৎসকের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ঝিলমের গলব্লাডারের পাথর বড় হয়ে গিয়েছে এবং প্রচণ্ড যন্ত্রণা হচ্ছে। সেই কারণেই অস্ত্রোপচার করাতে হবে বলে জানান তিনি। মেয়ের অসুস্থতার খবর নিয়ে সমাজ মাধ্যমে কেউ কেউ উদ্বেগ প্রকাশ করলেও, আবার কিছু মন্তব্য নিয়ে ক্ষোভও তৈরি হয়। ঝিলমের বাবা এমন কটাক্ষের জবাবে লেখেন, “আপনি দুঃখ পেয়েছেন দেখে ভালো লাগল, অনেকে আনন্দ করছে। তাদের শুভেচ্ছা জানাই।” মেয়ের শারীরিক পরিস্থিতি যে এখন পরিবারের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, তাঁর কথাতেই তা স্পষ্ট। বিগ বসের ঘর থেকে ঝিলমের এই অসময়ে বিদায় তাই শুধু শোয়ের সমীকরণই বদলাল না, তাঁর এতদিনের আচরণ নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। অসুস্থতার মধ্যেও তিনি যে এতদিন প্রতিযোগিতায় থাকার চেষ্টা করেছিলেন, সেই তথ্য সামনে আসার পর তাঁর যাত্রার শেষ পর্বটি আরও আবেগঘন হয়ে উঠেছে।






