বিগ বস বাংলার ঘিরে দর্শকদের আগ্রহ ক্রমশ বাড়ছে। প্রতিযোগীদের খেলা, ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং বাড়ির ভিতরের নানা ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিদিনই তৈরি হচ্ছে নতুন আলোচনা। বিশেষ করে নন্দিনী দত্ত ও রাজবীরকে নিয়ে দর্শকদের মধ্যে কৌতূহল তুঙ্গে। এবার নন্দিনীর বাড়িতে গিয়ে তাঁর বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলতেই উঠে এল মেয়ের খেলা, রাজবীরের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক এবং পরিবারের নানা অজানা কথা। নন্দিনীর ঠাকুমার প্রয়াণের পরেও কেন তাঁকে এখনই সেই খবর জানাতে চান না তাঁরা? বিগ বসের ঘরে মেয়ের মানসিক পরিস্থিতি নিয়ে কী ভাবছেন তাঁর বাবা-মা? নন্দিনীর ঠাকুমার প্রয়াণের খবর বিগ বসের ঘরে থাকা প্রতিযোগীকে এখনও জানানো হয়নি।
এই প্রসঙ্গে তাঁর পরিবারের বক্তব্য, নন্দিনী বাড়ি ফিরে আসার পরেই তাঁকে সবটা জানানো হবে। তাঁদের কথায়, “এখন যদি বলি, সেক্ষেত্রে ওর উপরে একটা চাপ পড়তে পারে।” তাঁদের মতে, বিগ বসের খেলা শারীরিক ও মানসিক দুই দিক থেকেই কঠিন। সেখানে প্রতিযোগীদের মনোবল ভেঙে গেলে তার প্রভাব খেলার উপর পড়তে পারে। তাই নন্দিনী যাতে মন দিয়ে খেলতে পারেন, সেই কারণেই আপাতত তাঁকে কিছু জানাতে চান না তাঁরা। পরিবারের তরফে আরও জানানো হয়েছে, আগামী তিন মাস পরে আবার ঠাকুমার শ্রাদ্ধানুষ্ঠান করা হবে। ছোটবেলা থেকেই নন্দিনী অত্যন্ত শান্ত স্বভাবের বলে জানিয়েছেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের কথায়, ঠাকুমা-দাদু তাঁকে যথেষ্ট প্রশ্রয় দিলেও খুব একটা বকাঝকা করতে হতো না।
তবে বিগ বসের ঘরে নন্দিনীর আত্মবিশ্বাস এবং প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার মানসিকতা দেখে খুশি তাঁরা। তাঁদের দাবি, “ও বিগ বসের গেমে ঢুকেছে একেবারে হাই কনফিডেন্স নিয়ে।” পরিবারের আশা, সমস্ত প্রতিকূলতা সামলে ভালো খেলবেন নন্দিনী। অন্যদিকে, রাজবীরের সঙ্গে নন্দিনীর সম্পর্ক নিয়েও মুখ খুলেছেন তাঁর বাবা-মা। বিগ বসের ঘরে দুজনের খুনসুটি, রাগ-অভিমান এবং একে অপরের প্রতি যত্ন দেখে দর্শকদের মধ্যে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে। এই প্রসঙ্গে নন্দিনীর পরিবারের বক্তব্য, তাঁদের মধ্যে ঝগড়া হলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই আবার সব ঠিক হয়ে যায়। বাড়িতেও নন্দিনীর এমন রাগ-অভিমানের অভ্যাস রয়েছে কি না, সেই প্রশ্নে পরিবারের সদস্যরা মজার ছলে তাঁদের সম্পর্ককে ‘টম অ্যান্ড জেরি’-র সঙ্গে তুলনা করেছেন।
রাজবীরের সঙ্গে নন্দিনীর বিয়ে বা ভবিষ্যৎ সম্পর্কের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তাঁরা স্পষ্ট জানান, “ওরা যা চাইবে, তাই হবে।” তাঁদের মতে, বাইরে থেকে দর্শক বা পরিবারের সদস্যরা যতই মতামত দিন না কেন, শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে নন্দিনী ও রাজবীরকেই। রাজবীরের মা-ও আগে জানিয়েছিলেন, রাজবীর রাজি থাকলে নন্দিনীকে নিয়ে তাঁর কোনও আপত্তি নেই। ফলে দুজনের সম্পর্ক কোন দিকে এগোবে, তা নিয়ে এখনই নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে নারাজ দুই পরিবার। রাজবীর ও নন্দিনীকে সমানভাবে সমর্থন করার কথাও জানিয়েছেন নন্দিনীর পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের বক্তব্য, দুজনেই নিজেদের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে দর্শকদের ভোট পাওয়ার যোগ্য।
তাই কাউকে বাদ দিয়ে শুধু একজনকে সমর্থন করার পক্ষপাতী নন তাঁরা। পরিবারের কথায়, “দুজনেই ভালো করছে, তাই দুজনকেই আমরা ভোট দিই।” বিগ বসের ঘরে নন্দিনীর সঙ্গে অন্য প্রতিযোগীদের সম্পর্ক নিয়েও তাঁদের পর্যবেক্ষণ রয়েছে। বিশেষ করে দাদার সঙ্গে নন্দিনীর ভালো বোঝাপড়ার কথা উল্লেখ করেছেন তাঁরা। তাঁদের মতে, নন্দিনী কাউকে সম্মান করলে তাঁর সঙ্গে তর্কে জড়াতে চান না। তবে এর অর্থ এই নয় যে তিনি দুর্বল প্রতিযোগী। বরং প্রতিকূল পরিস্থিতি থেকে দ্রুত নিজেকে সামলে নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে তাঁর। পাশাপাশি, বিগ বসের ঘরে অসুস্থতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তাঁরা। তবে তাঁদের দাবি, প্রতিযোগীরা অসুস্থ হলে চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে এবং চ্যানেলের তরফ থেকেও সহযোগিতা মিলছে।
আরও পড়ুনঃ “সবাই আমায় অলস ভেবেছিলেন, কিন্তু য*ন্ত্রণাটা কেউ বুঝতে পারেননি!” “প্রচণ্ড কষ্ট হত, পেনকিলার খেলেও…” অসংখ্য ইনজেকশনেও কমেনি ব্য’থা, অ’স্ত্রোপচার করাতে হবে! এই তীব্র যন্ত্র’ণার মধ্যেই এতদিন কীভাবে চালিয়ে গিয়েছেন খেলা? বিগ বস থেকে বেরিয়ে ঝিলম যা বললেন, জানলে চমকে যাবেন!
সবশেষে দর্শকদের উদ্দেশে ভোট দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন নন্দিনীর পরিবার। তাঁদের মতে, প্রতিযোগীদের ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করছে দর্শকদের সমর্থনের উপর। “আপনি হয়তো ভাবতে পারেন, আমার ভোটে কী আর যায় আসে! কিন্তু একটা ভোটেও অনেক কিছু বদলে যেতে পারে।” তাই নন্দিনী, রাজবীর কিংবা অন্য যে প্রতিযোগী ভালো খেলছেন বলে দর্শকদের মনে হয়, তাঁকে ভোট দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন তাঁরা। সব মিলিয়ে, একদিকে ঠাকুমার প্রয়াণের খবর নন্দিনীর কাছ থেকে আপাতত গোপন রাখা, অন্যদিকে রাজবীরের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে পরিবারের ইতিবাচক মনোভাব সবকিছু মিলিয়ে নন্দিনীকে ঘিরে দর্শকদের কৌতূহল আরও বাড়ল। এবার দেখার, বিগ বসের ঘরে নন্দিনী ও রাজবীরের খেলা শেষ পর্যন্ত কোন দিকে এগোয়।






