“মেয়েটা একা নীরবে লড়াই করে যাচ্ছে…শুধুমাত্র প্রস্তাবে রাজি না হওয়াতে গায়ের জোরে খেলা থেকে বাদ দিল!” “একঘরে করুন কিন্তু মনে রাখবেন সবথেকে বেশিবার নমিনেশনে গিয়েও টিকে আছে, ক্যাপ্টেন হয়ে নিজেকে ইমিউনিটি দিতেও লাগে না!” দুর্নিবারকে ঘিরে প্রেমের জল্পনা থেকে জিতু বিতর্ক, সৃজলার লড়াইয়ে মুগ্ধ দর্শকরা দাঁড়ালেন পাশে! বললেন, অভিনেত্রীকে ভোট ভিক্ষা করতে হয় না!

বিগ বস বাংলার ঘরে একের পর এক বিতর্কের মাঝেও নিজের লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন অভিনেত্রী সৃজলা গুহ (Srijla Guha)। কখনও সহপ্রতিযোগীদের সঙ্গে মতবিরোধ, কখনও ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা, আবার কখনও টাস্কে অংশ নেওয়াকে কেন্দ্র করে তৈরি হচ্ছে নতুন বিতর্ক। সম্প্রতি দুর্নিবার সাহা ও সৃজলাকে ঘিরে শুরু হয়েছে প্রেমের জল্পনা। অন্যদিকে জিতু কমলের সঙ্গেও সৃজলার ঘনিষ্ঠতা নিয়ে নানান আলোচনা চলছে। এই পরিস্থিতিতে ঘরের একাংশের প্রতিযোগী সৃজলার আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ফলে বিগ বসের অন্দরে ক্রমশ কোণঠাসা হয়ে পড়ছেন অভিনেত্রী, এমনটাই মনে করছেন দর্শকদের একাংশ। তবে এত কিছুর মধ্যেও সৃজলা নিজের অবস্থানে অনড় রয়েছেন বলে দাবি তাঁর অনুরাগীদের।

দুর্নিবার ও সৃজলাকে ঘিরে আলোচনার সূত্রপাত তাঁদের কথাবার্তা এবং একে অপরের প্রতি আচরণকে কেন্দ্র করে। সম্প্রতি সোনামণি সাহা দাবি করেন, দুর্নিবার নাকি মাইক্রোফোন খুলে সৃজলাকে জানিয়েছিলেন যে তিনি তাঁকে পছন্দ করেন। সোনামণির বক্তব্য অনুযায়ী, সৃজলাই তাঁকে এই কথা জানিয়েছিলেন এবং দুর্নিবারকে নিয়ে নিজের অস্বস্তির কথাও বলেছিলেন। পাশাপাশি জিতু ও দুর্নিবারের মধ্যে কাকে বেশি গুরুত্ব দেবেন, তা নিয়েও সৃজলা দ্বিধায় রয়েছেন বলে দাবি করেন সোনামণি। তবে দুর্নিবার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি সোনামণিকে অনুরোধ করেন, এমন কথা যেন আর না ছড়ানো হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিগ বসের ঘরে নতুন করে সম্পর্কের সমীকরণ নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে।

এরই মধ্যে সৃজলার শারীরিক অবস্থাকে কেন্দ্র করেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ক্যাপ্টেন্সি টাস্কে অংশ নেওয়ার আগে বিগ বস তাঁকে জানান, চিকিৎসকেরা তাঁকে ওই খেলায় অংশ নিতে বারণ করেছেন। কিন্তু নিজের ঝুঁকিতে লড়াই করার সিদ্ধান্ত নেন অভিনেত্রী। এর আগে নন্দিনী দত্তের সঙ্গে একটি টাস্কে ঘটে যাওয়া ঘটনায় সৃজলা গুরুতর চোট পেয়েছিলেন বলে তাঁর পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে। সৃজলার দিদি লিমা দাবি করেন, ওই আঘাতের কারণে ভবিষ্যতে মা হওয়ার ক্ষমতাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারত। পরে নন্দিনীর বাবা-মা সৃজলার পরিবারের কাছে ক্ষমা চান। এত কিছুর পরেও বিগ বসের ঘর ছেড়ে চলে না গিয়ে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সৃজলা। তাঁর এই মনোভাবকেই সাহসের পরিচয় হিসেবে দেখছেন অনুরাগীদের একাংশ।

সৃজলাকে নিয়ে তৈরি হওয়া এই পরিস্থিতির মধ্যেই এক দর্শকের দীর্ঘ প্রতিক্রিয়া নেটমাধ্যমে নজর কেড়েছে। তিনি লিখেছেন, “একটা মানুষ একা নীরবে লড়াই করে যাচ্ছে, জিতুর প্রস্তাবে রাজি হয়নি তাই রাগ মেটাতে ইচ্ছাকরে ডিসকোয়ালিফাই করলো, সোনামনির মুখের কি অঙ্গভঙ্গি আজকে সৃজলা যখন নিজের কথা বলতে এসেছিলো!” দর্শকের মতে, সৃজলাকে ঘিরে নানা ঘটনা ঘটলেও তাঁকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে দেখানো হচ্ছে না। তাঁর অভিযোগ, অভিনেত্রীকে নিয়ে আলোচনা এবং তাঁর ফুটেজের উপরেই যেন শোয়ের অনেকটা অংশ নির্ভর করছে। তবে জিতুর প্রস্তাব এবং ইচ্ছাকৃতভাবে ডিসকোয়ালিফাই করার বিষয়ে দর্শকের এই বক্তব্যকে অভিযোগ হিসেবেই দেখা উচিত, কারণ এর সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত নয়। তা সত্ত্বেও সৃজলার প্রতি সহানুভূতি জানিয়ে ওই দর্শক তাঁর লড়াই চালিয়ে যাওয়ার প্রশংসা করেছেন।

আরও পড়ুনঃ বিগ বস বাংলার ঘরে তর্কে-বিতর্কে দেখা ‘বেপরোয়া’ রাজবীরের বাস্তবে রয়েছে এক অন্য পরিচয় জানেন? শিলিগুড়ির বাড়িতে এখনও কেন তাঁর বিছানায় সাজানো রয়েছে রঙিন সফট টয়? নেপথ্যে কী এমন শৈশবের স্মৃতি, জানলে চোখে আসবে জল?

দর্শক আরও লিখেছেন, “ক্যামেরার সামনে সৃজলা গুহর ভোট ভিক্ষা করতে লাগে না সকালে উঠে, ক্যাপ্টেন হয়ে নিজেকে ইমিউনিটি দিতেও লাগে না! দুর্নিবারের পর সব চেয়ে বেশিবার নমিনেশনে গিয়ে টিকে আছে” তাঁর বক্তব্য, সৃজলাকে পুরো পর্বে খুব বেশি দেখানো না হলেও দর্শকদের আলোচনায় তিনিই রয়েছেন। তিনি আরও বলেন, “সৃজলাকে পুরো এপিসোডে সেভাবে দেখাও গেলো না কিন্তু পুরো এপিসোড সৃজলাময়, সে লড়াই করবে আর মানুষ ভালোবেসে তাকে ভোট দিয়ে বাঁচিয়ে যাবে! ইচ্ছা করে মেয়েটাকে লড়াই থেকে সরিয়ে দিলো তাও সে চুপ আছে, এটা তার শিক্ষার পরিচয়” সব মিলিয়ে দর্শকের চোখে সৃজলা এমন একজন প্রতিযোগী, যিনি বিতর্ক, সমালোচনা এবং শারীরিক সমস্যার মধ্যেও নিজের লড়াই থামাননি। তবে বিগ বসের ঘরে সম্পর্কের জল্পনা ও প্রতিযোগীদের পারস্পরিক বিরোধ আগামী দিনে কোন দিকে যায়, সেটাই এখন দেখার।

You cannot copy content of this page