“একটা মেয়েকে বিচার করার এত লোক কেন?” “শ্বাস নিতেও সমস্যা, চুপ থাকাই ভালো, সময়ই সব উত্তর দেবে কে কেমন!” জিতু কমলকে ঘিরে বিতর্ক, বিগ বস বাংলায় অভিনেতার চর্চার মাঝেই নতুন ধারাবাহিকে ফিরছেন দিতিপ্রিয়া রায়! ‘মনসামঙ্গল’-এর হাত ধরে পর্দায় ফিরেই দ্বিচারিতা নিয়ে কোন উপলব্ধি করলেন ভাগ? অভিনেত্রীর নিশানায় কে?

ছোটপর্দায় অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকদের মনে জায়গা করে নিয়েছেন অভিনেত্রী দিতিপ্রিয়া রায়। ছোটবেলা থেকেই অভিনয় জগতের সঙ্গে যুক্ত তিনি। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে একাধিক চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের প্রশংসা পেয়েছেন। তবে সম্প্রতি তাঁকে ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা ও সমালোচনা। ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে তাঁর বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। এই পরিস্থিতিতে নতুন ধারাবাহিক ‘মনসামঙ্গল’-এর হাত ধরে আবারও অভিনয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন অভিনেত্রী। এবার নিজের ব্যক্তিগত জীবন, সামাজিক মাধ্যমের নেতিবাচক মন্তব্য, মহিলাদের প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি এবং জীবনে শান্তির গুরুত্ব নিয়ে খোলামেলা কথা বললেন দিতিপ্রিয়া।

সামাজিক মাধ্যমে নিজেকে প্রমাণ করার কোনও প্রয়োজন অনুভব করেন না দিতিপ্রিয়া। তাঁর কথায়, “সবাই এখন সোশ্যাল মিডিয়া দিয়ে একটা মানুষকে জাজ করার চেষ্টা করে। তো আমার খুব একটা কখনওই মনে হয়নি যে আমার নিজেকে প্রমাণ করার দরকার আছে থ্রু সোশ্যাল মিডিয়া।” অর্থাৎ, অনলাইনে কে কী বলছেন, তার ভিত্তিতে নিজের পরিচয় তৈরি করতে চান না অভিনেত্রী। তাঁর মতে, যাঁরা তাঁর কাছের মানুষ এবং প্রতিনিয়ত তাঁকে দেখেন, তাঁরা তাঁর প্রকৃত স্বভাব সম্পর্কে জানেন। তাই প্রত্যেকটি নেতিবাচক মন্তব্যের জবাব দেওয়ার পরিবর্তে নিজের কাজ ও জীবনকে গুরুত্ব দিতে চান তিনি। দিতিপ্রিয়ার স্পষ্ট বক্তব্য, “আমার মনে হয়েছে, আমার চুপ থাকা বেটার। কারণ সময়ে কথা বলে কে কীরকম, ইভেনচুয়ালি সেটা জানা যাবে।” অর্থাৎ, সময়ের সঙ্গে মানুষের প্রকৃত পরিচয় সামনে আসবে বলেই বিশ্বাস করেন তিনি।

অভিনেত্রীর মতে, সমাজে মহিলাদের বিচার করার প্রবণতা অনেক বেশি। কোনও মহিলা দ্রুত সাফল্য পেলে তাঁর পরিশ্রমের পরিবর্তে সাফল্যের নেপথ্যে অন্য কারণ খোঁজার চেষ্টা করেন অনেকে। এমনকী, একজন অভিনেত্রী নিজের শরীর, পোশাক কিংবা ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সিদ্ধান্ত নিলেও তাঁকে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়। দিতিপ্রিয়ার কথায়, “একটা মেয়েকে জাজ করা অনেক বেশি। তুমি যেটাই করবে, মাঝে মাঝে মনে হয় ব্রিদ করাতেও সমস্যা আছে বোধহয় লোকের।” তাঁর এই বক্তব্যের মাধ্যমে সমাজের দ্বিচারিতা তুলে ধরতে চেয়েছেন অভিনেত্রী। তাঁর মতে, একজন মানুষের জীবনযাপন কেমন হবে, তিনি নিজের শরীর নিয়ে কী সিদ্ধান্ত নেবেন কিংবা ব্যক্তিগত জীবনে কী করবেন, সেই স্বাধীনতা তাঁরই থাকা উচিত। অথচ মহিলাদের প্রতিটি পদক্ষেপের সঙ্গে নানা তকমা জুড়ে দেওয়া হয়।

ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে দিতিপ্রিয়া জানিয়েছেন, নেতিবাচক মন্তব্য তাঁকে একেবারেই প্রভাবিত করে না, এমনটা বলা ঠিক হবে না। তবে সেই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় সামাজিক মাধ্যমে নিজের বক্তব্য তুলে ধরার পক্ষপাতী নন তিনি। অর্থাৎ, নিজের বক্তব্য প্রকাশ করলেই যে সকলে তা বিশ্বাস করবেন, এমন নিশ্চয়তা নেই। তাই প্রতিটি বিষয়ে প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে নিজের মতো করে জীবন কাটানোই শ্রেয় বলে মনে করেন তিনি। তাঁর মতে, কিছু পরিস্থিতিতে নীরবতা বজায় রাখা জরুরি হলেও কখন প্রতিবাদ করতে হবে, সেটাও বুঝতে হবে। তবে জীবনে দিতিপ্রিয়ার কাছে সাফল্য, অর্থ কিংবা খ্যাতির চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ মানসিক শান্তি।

আরও পড়ুনঃ “রাজবীর আর নন্দিনী একসঙ্গে থাকতে চাইলে রাজবীরের মাও কিছু করতে পারবেন না, আলাদা করার ক্ষমতা নেই!” রাজবীরের মায়ের কথায় নন্দিনীকে বৌমা হিসেবে না পসন্দের ইঙ্গিত ঘিরে পাল্টা জবাব অভিনেত্রীর মা-বাবার! জল ঢাললেন নিন্দুকদের আশায়? ঠিক কী বললেন তাঁরা? উস্কে দিলেন বিয়ের জল্পনা?

তিনি জানিয়েছেন, কাছের মানুষদের সঙ্গে ভালো থাকাটাই তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। তাঁর কথায়, “আমি শান্তি চাই। আমি আমার কাছের মানুষগুলোকে নিয়ে ভালো থাকতে চাই। শান্তি মানে সবসময় গাড়ি-বাড়ি, মেটেরিয়ালিস্টিক নয়। ব্যাপারটার মধ্যে একটা অন্য জিনিস আছে।” অভিনেত্রীর মতে, হাজারো মানুষের সমালোচনার মধ্যে কাছের তিন-চারজন মানুষের ভালোবাসা ও সমর্থনই একজনকে মানসিকভাবে শক্তি জোগাতে পারে। পাশাপাশি, জীবনে মানবিকতা বজায় রাখা এবং অন্যের কষ্ট অনুভব করাকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি। সবশেষে দিতিপ্রিয়ার বক্তব্য, প্রতিটি কথার উত্তর দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং নিজের কাজ, আচরণ এবং মূল্যবোধের মাধ্যমেই মানুষের কাছে নিজের পরিচয় তুলে ধরা সম্ভব।

You cannot copy content of this page