বিনোদন জগতের পরিচিত মুখদের নিয়ে তৈরি রিয়্যালিটি শো বরাবরই দর্শকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে। বিশেষ করে বিগ বসের মতো শোয়ে প্রতিযোগীদের মধ্যে মনোমালিন্য, ঝগড়া, বন্ধুত্বের ভাঙন এবং নানা বিতর্ক দর্শকদের আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দেয়। আর এবার বিগ বস বাংলাকে ঘিরে চর্চার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন অভিনেত্রী মনামী ঘোষ। বাড়ির ভিতরে তাঁর অভিজ্ঞতা, অন্যান্য প্রতিযোগীদের সঙ্গে সম্পর্ক এবং বিভিন্ন টাস্ককে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া পরিস্থিতি নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা চলছে। তবে এবার ক্যামেরার সামনে মনামীকে নিয়ে মুখ খুলে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিলেন তাঁর মা তমসা ঘোষ। মেয়ের খেলা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে জিতু কমলকে ঘিরে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন তিনি। এমনকী, জিতুকে ‘খু*নি’ বলেও আ*ক্রমণ করেছেন মনামীর মা। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, বিগ বসের বাড়িতে ঠিক কী ঘটেছে, যার জেরে এতটা ক্ষুব্ধ হয়েছেন তিনি?
বাংলার প্রতিযোগী হিসেবে বিগ বসের বাড়িতে মনামী ঘোষের যাত্রা এখন তাঁর পরিবার এবং অনুরাগীদের কাছে যথেষ্ট আবেগের বিষয়। পর্দায় অভিনয় করতে দর্শক অভ্যস্ত হলেও বাস্তব পরিস্থিতিতে অন্য প্রতিযোগীদের সঙ্গে একই ছাদের নীচে থেকে প্রতিটি চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করা সম্পূর্ণ আলাদা অভিজ্ঞতা। মনামীর মা তমসা ঘোষ জানিয়েছেন, মেয়েকে এত বড় একটি রিয়্যালিটি শোয়ে দেখতে তাঁর ভালো লাগলেও, তাঁকে ছাড়া বাড়িতে থাকতে যথেষ্ট কষ্ট হচ্ছে। তাঁর কথায়, “আমরা ওকে সিরিয়াল আর সিনেমায় দেখি, কিন্তু ওকে একটা রিয়্যালিটি শোয়ে দেখতে খুব ভালো লাগছে। কিন্তু বলতেই হচ্ছে, খুব একা লাগছে।” মেয়েকে শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যেতে দেখতে চান তিনি। একই সঙ্গে তাঁর আশা, বিগ বসের বাড়িতে নানা পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে গিয়ে মনামী অনেক কিছু শিখে আরও অভিজ্ঞ হয়ে বাড়ি ফিরবেন। তবে মেয়ের কষ্টের কথা ভাবলেই যে তাঁর মন খারাপ হয়ে যায়, সেটাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি।
মনামীর মায়ের কথায়, বিগ বসের বাড়িতে খাবারের জন্য প্রতিযোগীদের লড়াই দেখতে তাঁর খুব কষ্ট হয়। বাড়িতে যে মেয়ে এত ভালোবাসা ও সুযোগ-সুবিধার মধ্যে থাকে, তাকে সেখানে খাবারের জন্য সংগ্রাম করতে দেখে মায়ের মন খারাপ হওয়াটাই স্বাভাবিক। তমসা ঘোষের কথায়, “আমি প্রায়ই ভাবি, যদি ওরা আমাকে বিগ বসে ঢুকতে দিত, আমি ওর জন্য রান্না করতাম আর ওকে চা বানিয়ে দিতাম।” শুধু তাই নয়, বাড়িতে মনামী কতটা কাজ করেন, সেই প্রশ্নের উত্তরে মেয়ের স্বভাব নিয়েও মজার ছলে মুখ খুলেছেন তিনি। তাঁর দাবি, মনামী রান্না করতে একেবারেই ভালোবাসেন না, এমনকী বাড়িতে নাকি একটি কাপও ধোয় না। তবে ঘর গোছানো, বাজার করা এবং খাবার পরিবেশনের মতো কাজে সে যথেষ্ট দক্ষ। অর্থাৎ, বিগ বসের বাড়িতে যে মনামীকে নানা পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে হচ্ছে, বাড়িতে তাঁর জীবনযাপন যে কিছুটা আলাদা, সেটাই বুঝিয়ে দিয়েছেন তাঁর মা।
তবে সাক্ষাৎকারের সবচেয়ে বিস্ফোরক অংশটি উঠে আসে জিতু কমলের সঙ্গে মনামীর সংঘাতের প্রসঙ্গে। তমসা ঘোষের অভিযোগ, সুইমিং পুলের একটি ঘটনায় জিতু যেভাবে মনামীকে টেনেছিলেন, তাতে বড়সড় বিপদ ঘটতে পারত। তাঁর দাবি, “আমি এমন অভদ্র ছেলে কখনও দেখিনি, যে একজন মানুষকে মেরে ফেলার চেষ্টা করবে।” এরপর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে তিনি বলেন, “জিতু কমল মানসিকভাবে স্থিতিশীল নয়, ওকে মানসিক হাসপাতালে পাঠানো উচিত। আর আমি ওকে খুনি বলব, খুনি!” উল্লেখ্য, এগুলি মনামীর মায়ের ব্যক্তিগত অভিযোগ ও ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ, এগুলিকে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে ধরে নেওয়া যায় না। তমসার দাবি, মনামী সাঁতার জানেন না। ফলে সুইমিং পুলের ওই ঘটনায় তাঁর মেয়ের প্রাণহানির আশঙ্কা তৈরি হতে পারত বলে মনে করেন তিনি।
তাঁর বক্তব্য, সেই সময় মনামী জিতুকে ক্ষমা করে দেওয়ায় তিনি আর বিষয়টি নিয়ে বেশি কথা বলেননি। কিন্তু পরবর্তী ঘটনাগুলি তাঁকে নতুন করে ক্ষুব্ধ করেছে। তাঁর অভিযোগ, সাম্প্রতিক একটি টাস্কে পিরামিড ভাঙার পরিবর্তে জিতু বারবার মনামীকে লক্ষ্য করে মুখে, কানে ও পিঠে আঘাত করেন। এমনকী, মনামীর মুখে বরফ লাগাতে হয়েছিল বলেও দাবি করেছেন তিনি। তমসার প্রশ্ন, “বিগ বস কি বলতে পারত না, কেন ওকে মারছ? পিরামিড ভাঙো!” তাঁর মতে, টাস্কের নিয়ম মেনে খেলা আর কাউকে ব্যক্তিগতভাবে নিশানা করার মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য থাকা উচিত। জিতুকে নিয়ে অভিযোগ তোলার পাশাপাশি বিগ বসের কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মনামীর মা। তাঁর দাবি, সাম্প্রতিক ঘটনার বিষয়ে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা হয়েছিল এবং তাঁকে কথা বলার বার্তা পাঠানো হয়েছিল।
আরও পড়ুনঃ “চারিদিকে ঢাক বাজছে…এবার আমার কোল শূন্য!” “ছেলেটা হাসতে হাসতে গেল, আর ফিরল না” “এই ভার আমি বইব কী করে?” ৭ মাসেও মেলেনি বিচার, রাহুল অরুণোদয়ের জন্মদিনে পুত্রহারা মায়ের চোখে জল! বাবিনের প্রিয় পায়েস আর সাপতা লুচির স্মৃতি আঁকড়ে কোন গল্প শোনালেন মা, শ্যামলী দেবী?
তবে কর্তৃপক্ষের তরফে কী পদক্ষেপ করা হয়েছে, সে সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে পারেননি তিনি। তাঁর আরও অভিযোগ, বাড়ির ভিতরে মনামীকে একঘরে করে দেওয়া হচ্ছে। নন্দিনীর আচরণ ও কথাবার্তা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তমসা। তাঁর মতে, রাগের মাথায় নন্দিনী এমন অনেক কথা বলে ফেলেন, যা সম্পর্কের উপর প্রভাব ফেলে। অন্যদিকে, রাজবীরের খেলাকে বুদ্ধিদীপ্ত বলে উল্লেখ করলেও, জিতুর প্রভাব অন্য প্রতিযোগীদের উপর রয়েছে বলেও মনে করেন তিনি। এমনকী, ‘দাদার দরবারে’ সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় যদি বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন, তাহলে তিনি খুশি হবেন বলেও জানিয়েছেন। সবশেষে মেয়ের জয় নিয়েও আশাবাদী তমসা। তাঁর কথায়, “প্রত্যেক মা-ই চান, তাঁর মেয়ে জয়ী হয়ে ফিরুক। আমার যতই কষ্ট হোক, আমি চাই ও একেবারে শেষ পর্যন্ত থাকুক।” এখন দেখার, আগামী দিনে এই বিতর্ক কোন দিকে মোড় নেয় এবং শেষ পর্যন্ত বিগ বসের বাড়ি থেকে বিজয়ীর ট্রফি নিয়ে ফিরতে পারেন কি না মনামী।






“বাংলা ইন্ডাস্ট্রির একমাত্র সুন্দরী নায়িকা কৌশানি, মা দুর্গার থেকেও বেশি সুন্দরী!” বেনারসি শাড়ি, গা ভর্তি সোনার গয়নায় হবু বৌমা, প্রশংসায় খেই হারিয়ে মন্তব্য পিয়া সেনগুপ্তর! ছেলে বনি আবার ঘুরছেন আঁচল ধরে! ‘হাসবো না কাঁদবো বুঝতে পারছি না’, ‘আপনার থেকে সুন্দরী কেউ হতে পারে?’ ‘এমন শাশুড়ি আমাকেও দিও ভগবান’ নেটপাড়ায় তুমুল হাসাহাসি!