“রবীন্দ্রনাথ তো নিজের ২২০০ গান রেকর্ড করে যাননি!” “উনি বলতেন পথ ভোলো, তবেই নতুন পথের সন্ধান পাবে!” রবীন্দ্রসংগীতের গায়কিতে বাধা দিচ্ছেন কারা? গান গাওয়ার ধরন নিয়ে রেফারেন্স ছাড়াই মাতব্বরি, ‘তর্জন তোলা জেঠু-জেঠি’দের নিশানা করে বি*স্ফোরক জয়তী চক্রবর্তী ও শ্রীকান্ত আচার্য! সত্যিই কি বিপদের মুখে রবীন্দ্রসংগীতের স্বাধীনতা, কাদের আয়না দেখালেন দুই শিল্পী?

রবীন্দ্রসংগীত বাঙালির আবেগ, ভালোবাসা ও সংস্কৃতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে। জীবনের নানা মুহূর্তে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গান আমাদের মনের কথা বলে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রবীন্দ্রসংগীতের চর্চা, গায়কির ধরন এবং গান পরিবেশনের স্বাধীনতা নিয়ে মাঝেমধ্যেই নানা প্রশ্ন ওঠে। রবীন্দ্রনাথের গান কি নির্দিষ্ট একটি ধারার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি শিল্পীরা নিজেদের মতো করে সেই গানকে নতুনভাবে পরিবেশন করতে পারবেন? এই প্রশ্ন ঘিরেই এবার গুরুত্বপূর্ণ কিছু কথা বললেন গায়িকা জয়তী চক্রবর্তী ও শ্রীকান্ত আচার্য। তাঁর বক্তব্যে উঠে এল রবীন্দ্রসংগীতের চর্চা এবং শিল্পীদের স্বাধীনতা নিয়ে একাধিক তাৎপর্যপূর্ণ দিক।

রবীন্দ্রসংগীতের জগতে পরিচিত নাম জয়তী চক্রবর্তী। নিজের স্বতন্ত্র কণ্ঠ ও গায়কির মাধ্যমে শ্রোতাদের মনে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। রবীন্দ্রনাথের গানকে ভালোবেসে যাঁরা নিয়মিত চর্চা করেন, তাঁদের কাছে এই সংগীতের ঐতিহ্য ও পরিবেশনার রীতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে ঐতিহ্য বজায় রাখার পাশাপাশি শিল্পীর নিজস্ব ভাবনা ও সৃজনশীলতার জায়গাটিও যে সমান গুরুত্বপূর্ণ, সেই প্রসঙ্গেই নিজের মতামত তুলে ধরেছেন গায়িকা। তাঁর কথায়, রবীন্দ্রসংগীতের চর্চায় স্বাধীনভাবে ভাবার সুযোগ থাকা দরকার।

রবীন্দ্রনাথের গান নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে জয়তী বলেন, রবীন্দ্রনাথের গানের মধ্যেই নতুন পথ খোঁজার কথা রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, “পথ ভোলো, পথ ভোলো, তবেই তুমি নতুন পথের সন্ধান পাবে।” অর্থাৎ, সব সময় সাবধানী পথিকের মতো পরিচিত পথ আঁকড়ে থাকলে নতুন কিছু আবিষ্কার করা সম্ভব নয়। শিল্পের জগতে নতুন ভাবনা এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য কিছুটা স্বাধীনতা প্রয়োজন। তাঁর মতে, শিল্পী যদি সব সময় আগে থেকেই নির্দিষ্ট করে দেওয়া নিয়মের মধ্যে নিজেকে আটকে রাখেন, তাহলে নতুন কিছু পাওয়ার সম্ভাবনাও কমে যায়।

এরপরই রবীন্দ্রসংগীতের চর্চা নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেন শ্রীকান্ত আচার্য। তাঁর মতে, রবীন্দ্রনাথের মৃত্যুর পর থেকেই তাঁর গান মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে বিভিন্ন শিল্পীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। মালতী ঘোষাল, সুবিনয় রায়, দেবব্রত বিশ্বাস, কণিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, সুচিত্রা মিত্র ও নীলিমা সেনের মতো শিল্পীদের কণ্ঠের মাধ্যমে শ্রোতারা রবীন্দ্রসংগীতকে চিনেছেন এবং ভালোবেসেছেন। রবীন্দ্রনাথ নিজে তাঁর প্রায় ২২০০টি গান রেকর্ড করে রেখে যাননি, যাতে প্রতিটি গানের পরিবেশনা কেমন হবে, তা একমাত্র সেই রেকর্ড শুনেই নির্ধারণ করা যায়। তাই পরবর্তী প্রজন্মের শিল্পীদের পরিবেশনার গুরুত্বও অস্বীকার করা যায় না বলে তাঁর বক্তব্যের তাৎপর্য।

আরও পড়ুনঃ “জিতু কমল খু*নি, চোখ মুখ দেখলেই বোঝা যায় সাংঘাতিক” “মেয়েটাকে মে’রেই ফেলবে, ওকে মানসিক হাসপাতালে পাঠানো উচিত!” বিগ বসে নাকি ইচ্ছা করেই বারবার নিশানা করা হচ্ছে মনামীকে? মেয়ের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত মা! ঘোড়ার টাস্কে টানা-হেঁচড়া থেকে সুইমিং পুলে ডুব, জিতুর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলে প্রকাশ্যেই ক্ষো*ভ উগরে কী বললেন মনামীর মা, তমসা?

সবশেষে রবীন্দ্রসংগীতের ক্ষেত্রে এই স্বাধীনতার জায়গাটি নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেন গায়িকা। তাঁর মতে, গান পরিবেশনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নমনীয়তা বজায় রাখা সম্ভব হয়নি। বরং নির্দিষ্ট কিছু ধারণা আঁকড়ে ধরে অন্যভাবে গান গাওয়ার চেষ্টাকে প্রশ্নের মুখে ফেলা হয়। কথার মাঝেই মজার ছলে সেই প্রবণতার সমালোচনা করে ‘তর্জন তোলা জেঠু-জেঠি’ বলেও উল্লেখ করেন তিনি। সব মিলিয়ে জয়তী চক্রবর্তীর বক্তব্য নতুন করে ভাবাচ্ছে রবীন্দ্রসংগীতের চর্চা নিয়ে। ঐতিহ্যকে সম্মান জানিয়েও কি শিল্পীর নতুনভাবে গান পরিবেশনের স্বাধীনতা থাকা উচিত নয়? রবীন্দ্রসংগীতের ভবিষ্যৎ নিয়ে এই প্রশ্নই যেন আরও একবার সামনে এনে দিলেন গায়িকা।

You cannot copy content of this page