টলিউডের অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্মদিনে তাঁকে স্মরণ করলেন প্রযোজক ও চিত্রনাট্যকার লীনা গঙ্গোপাধ্যায়। চলতি বছরের ২৯ মার্চ তালসারিতে শুটিং করতে গিয়ে সমুদ্রে ডুবে মৃত্যু হয় অভিনেতার। তাঁর আকস্মিক প্রয়াণে শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েছিল বাংলা বিনোদন জগৎ। রাহুলের মৃত্যুকে ঘিরে পরবর্তীকালে নানা আলোচনা ও বিতর্কও তৈরি হয়। তবে জন্মদিনে অভিনেতাকে স্মরণ করতে গিয়ে লীনা তুলে ধরেছেন তাঁর ব্যক্তিগত অনুভূতি এবং রাহুলের সঙ্গে কাটানো নানা মুহূর্তের কথা। এই ক্ষতি যে কোনওভাবেই মেনে নেওয়া সহজ নয়, তা স্পষ্ট তাঁর কথায়। রাহুলের জন্মদিনে তাঁকে নিয়ে স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে লীনা জানিয়েছেন, অভিনেতার চলে যাওয়া তাঁর জীবনে এমন একটি শূন্যতা তৈরি করেছে, যা কোনও দিন পূরণ হওয়ার নয়।
রাহুলের মৃত্যু প্রসঙ্গে লীনা জানিয়েছেন, এমন একটি দিন আসবে, তা তিনি কখনও ভাবেননি। তাঁর কথায়, যেকোনও মানুষের চলে যাওয়াই কষ্টের, কিন্তু রাহুলের মৃত্যু তাঁর কাছে একেবারেই অপ্রত্যাশিত ছিল। এই ঘটনা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব নয় বলেও জানিয়েছেন তিনি। অভিনেতার মৃত্যু কীভাবে হয়েছে, সেই বিচার-বিশ্লেষণে না গিয়ে লীনা স্পষ্ট করেছেন, রাহুল তাঁর অত্যন্ত স্নেহের মানুষ ছিলেন। ভবিষ্যতেও সেই জায়গা একই থাকবে। তাঁর মতে, কিছু হারানোর যন্ত্রণা সময়ের সঙ্গে মুছে যায় না, বরং সারাজীবনের ক্ষত হয়ে থেকে যায়। রাহুলের মৃত্যু তাঁর কাছেও তেমনই একটি ক্ষত, যা কোনও দিন পুরোপুরি সেরে উঠবে না। অভিনেতার জন্মদিনে লীনার এই কথাগুলিই নতুন করে সামনে এনেছে তাঁদের সম্পর্কের গভীরতা।
রাহুলের মৃত্যুর সঙ্গে লীনার প্রযোজনা সংস্থার শুটিংয়ের যোগ থাকায় এই হারানোর কষ্ট আরও বেশি বলে জানিয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, শুটিং করতে গিয়েই রাহুলের মৃত্যু হওয়ায় কোনও না কোনওভাবে এই ঘটনার সঙ্গে তাঁদের প্রযোজনা সংস্থাও জড়িয়ে পড়েছে। ফলে এই ক্ষতি নিয়ে কথা বলার মতো ভাষা খুঁজে পাওয়া কঠিন। লীনা আরও মনে করিয়ে দিয়েছেন, রাহুলের নিজের পরিবার রয়েছে। কোনও কিছু দিয়েই তাঁদের এই অপূরণীয় ক্ষতি পূরণ করা সম্ভব নয়। জীবনের কিছু শূন্যস্থান এমনই হয়, যা আর কখনও পূরণ করা যায় না। সেই শূন্যতা নিয়ে মানুষকে সারাজীবন বাঁচতে হয়। রাহুলের পরিবার যে এই হারানোর যন্ত্রণা বয়ে বেড়াচ্ছে, সে কথাও তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে। অভিনেতার জন্মদিনে তাই শুধু স্মৃতিচারণা নয়, তাঁর চলে যাওয়ার ফলে তৈরি হওয়া শূন্যতার কথাও তুলে ধরেছেন লীনা।
রাহুলের সঙ্গে লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের পরিচয় অবশ্য শুধু কাজের সূত্রে নয়, তাঁদের আলাপ হয়েছিল আরও আগে থেকেই। তবে ‘দেশের মাটি’ ধারাবাহিকে তাঁরা একসঙ্গে কাজ শুরু করেন। সেই সময় থেকেই রাহুলকে আরও কাছ থেকে জানার সুযোগ হয়েছিল লীনার। অভিনেতার সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করতেন তিনি। লীনার কথায়, রাহুলের সঙ্গে শুধু অভিনয় নিয়েই নয়, পড়াশোনা এবং নানা ধরনের বিষয় নিয়েও কথা বলা যেত। তাঁর বুদ্ধি, আগ্রহ এবং চিন্তাভাবনার ধরন লীনাকে মুগ্ধ করেছিল। তাই রাহুলের চলে যাওয়াকে মেনে নেওয়া তাঁর কাছে এতটা কঠিন। বারবার মনে হয়, যা-ই ঘটে থাকুক না কেন, রাহুলকে আর ফিরিয়ে আনা যাবে না। অভিনেতা যেখানেই থাকুন, ভালো থাকুন, এমনটাই কামনা করেছেন তিনি। জন্মদিনে এই স্মৃতিচারণার মধ্য দিয়ে রাহুলের প্রতি নিজের স্নেহ ও ভালোবাসার কথাই আবার প্রকাশ করেছেন লীনা।
রাহুলের প্রজন্মের আরও কয়েকজনের সঙ্গেও নানা বিষয়ে আলোচনা হতো লীনার। তাঁর মতে, সেই প্রজন্মের অনেকেই অভিনয়ের পাশাপাশি অন্য বিষয়েও যথেষ্ট দক্ষ ছিলেন। শুধু ক্যামেরার সামনে কাজ করাই নয়, পড়াশোনা এবং জ্ঞানচর্চার প্রতিও তাঁদের আগ্রহ ছিল। তাঁদের সঙ্গে কথা বললে নতুন কিছু শেখা যেত, ভাবনার জগৎ আরও সমৃদ্ধ হতো। রাহুলও ছিলেন সেই মানুষদের মধ্যে অন্যতম। লীনার চোখে, তিনি এমন একজন অভিনেতা ছিলেন, যাঁর সঙ্গে নানা বিষয়ে আলোচনা করা যেত এবং যাঁর চিন্তাভাবনা ছিল আলাদা। রাহুলের প্রতিভা ও ব্যক্তিত্বের এই দিকগুলি তাঁকে অন্যদের থেকে স্বতন্ত্র করে তুলেছিল। তাই তাঁর অনুপস্থিতি শুধু একজন অভিনেতার অভাব নয়, বরং এমন একজন মানুষের অভাব, যাঁর সঙ্গে কথা বলে অনেক কিছু জানা ও বোঝা যেত। এই কারণেই রাহুলের জায়গা অন্য কেউ নিতে পারবেন না বলে মনে করেন লীনা।
আরও পড়ুনঃ “রবীন্দ্রনাথ তো নিজের ২২০০ গান রেকর্ড করে যাননি!” “উনি বলতেন পথ ভোলো, তবেই নতুন পথের সন্ধান পাবে!” রবীন্দ্রসংগীতের গায়কিতে বাধা দিচ্ছেন কারা? গান গাওয়ার ধরন নিয়ে রেফারেন্স ছাড়াই মাতব্বরি, ‘তর্জন তোলা জেঠু-জেঠি’দের নিশানা করে বি*স্ফোরক জয়তী চক্রবর্তী ও শ্রীকান্ত আচার্য! সত্যিই কি বিপদের মুখে রবীন্দ্রসংগীতের স্বাধীনতা, কাদের আয়না দেখালেন দুই শিল্পী?
রাহুলের জন্মদিনে লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের এই স্মৃতিচারণা অভিনেতার সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের একটি ব্যক্তিগত দিক সামনে এনেছে। অভিনেতার মৃত্যুর পর থেকে তাঁকে নিয়ে নানা আলোচনা হলেও লীনা নিজের বক্তব্যে মূলত শোক, স্নেহ এবং হারানোর যন্ত্রণার কথাই তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, কিছু মানুষের চলে যাওয়া জীবনে এমন দাগ রেখে যায়, যা সময়ের সঙ্গে মুছে যায় না। রাহুলের ক্ষেত্রেও সেই অনুভূতিই কাজ করছে তাঁর মধ্যে। অভিনেতার সঙ্গে কাটানো সময়, নানা বিষয়ে আলোচনা এবং কাজের স্মৃতি আজও তাঁর মনে রয়েছে। কিন্তু সেই স্মৃতির পাশাপাশি রয়েছে তাঁকে আর ফিরে না পাওয়ার বাস্তবতাও। জন্মদিনে রাহুলকে স্মরণ করে লীনা জানিয়েছেন, তাঁর জায়গা কোনও দিন পূরণ হওয়ার নয়। এই অপূরণীয় ক্ষত নিয়েই তাঁকে বাকি জীবন কাটাতে হবে।






