মা লক্ষ্মী চঞ্চলা! তাঁর পুজোয় বাজে না কাঁসর, ঘন্টা! কেন মহানায়কের বাড়ির লক্ষ্মী পুজোর বাজে ঢাক? জানেন সেই অজানা ইতিহাস?

দুর্গাপুজোর চারটে দিন যেন চোখের পলকে কেটে যায়। তারপরই শহরজুড়ে নেমে আসে বিসর্জনের বিষাদ। আলো ঝলমলে মণ্ডপ ফাঁকা হয়ে যায়, ঢাকের শব্দ থেমে আসে, আর মায়ের বিদায়ের স্মৃতি ঘিরে ধরে বাঙালিকে। এই মনখারাপ কি শুধু সাধারণ মানুষের? না কি মহানায়ক উত্তমকুমারের মনেও দাগ কাটত এই বিদায়? তাঁর বাড়ির লক্ষ্মীপুজোর একটি বিশেষ রীতির নেপথ্যে লুকিয়ে রয়েছে এমনই এক আবেগঘন গল্প। যে নিয়ম আজও বজায় রয়েছে ভবানীপুরের চট্টোপাধ্যায় বাড়িতে।

১৯৫০ সালে নিজের ভবানীপুরের বাড়িতে লক্ষ্মীপুজো শুরু করেছিলেন উত্তমকুমার। সেই বছরই জন্ম হয়েছিল তাঁর ছেলে গৌতমের। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই পুজো হয়ে ওঠে টলিউডের অন্যতম পরিচিত পারিবারিক উৎসব। অভিনেতা-অভিনেত্রী থেকে শুরু করে চলচ্চিত্র জগতের বহু পরিচিত মুখের সমাগম হত এই বাড়িতে। কিন্তু এই পুজোর বিশেষত্ব শুধু তার জাঁকজমক বা তারকাদের উপস্থিতিতে সীমাবদ্ধ ছিল না। এমন একটি রীতি চালু করেছিলেন মহানায়ক, যা সাধারণ লক্ষ্মীপুজোর পরিচিত নিয়মের থেকে আলাদা।

সাধারণত লক্ষ্মীপুজোয় শান্ত পরিবেশ বজায় রাখার দিকে নজর দেওয়া হয়। অনেক বাড়িতে পুজোর সময় ঢাকের মতো জোরালো বাদ্যযন্ত্র বাজানো হয় না। কিন্তু উত্তমকুমারের বাড়িতে লক্ষ্মীপুজো মানেই ঢাকের আওয়াজ। কেন এই ব্যতিক্রম? এর পিছনে ছিল মহানায়কের ব্যক্তিগত অনুভূতি। দুর্গাপুজো শেষ হওয়ার পর চারপাশে যে শূন্যতা তৈরি হয়, তা তাঁকে কষ্ট দিত। উৎসবের আনন্দ হঠাৎ থেমে যাওয়ার সেই বিষণ্ণতা দূর করতেই লক্ষ্মীপুজোয় ঢাক বাজানোর ব্যবস্থা করেছিলেন তিনি। তাঁর বিশ্বাস ছিল, এই আনন্দের আবহে মা লক্ষ্মীও সন্তুষ্ট হবেন।

১৯৫০ সালে শুরু হওয়া উত্তমকুমারের বাড়ির লক্ষ্মীপুজোয় প্রথম থেকেই ঢাক বাজানোর রীতি ছিল। দুর্গাপুজোর পর শহরজুড়ে যে বিষণ্ণতা নেমে আসত, সেই মনখারাপ দূর করতেই এই উদ্যোগ নিয়েছিলেন মহানায়ক। তাঁর সেই ইচ্ছা মেনেই আজও বজায় রয়েছে পরিবারের এই ঐতিহ্য।

লক্ষ্মীপুজোর সঙ্গে উত্তমকুমারের বাড়িতে জড়িয়ে ছিল আরও নানা স্মৃতি। স্ত্রী গৌরীদেবীর মুখের আদলে তৈরি হত দেবীর প্রতিমা। পুজো উপলক্ষে বাড়িতে বসত তারকাদের আসর, আর অতিথিদের আপ্যায়নে কোনও খামতি রাখতেন না মহানায়ক। পুজোর ভোগে থাকত নানা পদ, আর নিজে দাঁড়িয়ে থেকে সকলকে খাওয়াতেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ বিগ বসের ঘরে এবার নতুন চমক! ওয়াইল্ড কার্ড হিসেবে আসছেন ক্রুশাল আহুজা? কবে এন্ট্রি নিচ্ছেন অনুষ্কার প্রেমিক?

আজ মহানায়ক নেই, কিন্তু তাঁর শুরু করা পুজোর ঐতিহ্য এখনও বেঁচে রয়েছে পরিবারের পরবর্তী প্রজন্মের হাত ধরে। নাতি গৌরব চট্টোপাধ্যায় সেই রীতি বজায় রেখেছেন। তাই উত্তমকুমারের বাড়ির লক্ষ্মীপুজো শুধুই ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং তাঁর স্মৃতি, আবেগ এবং পারিবারিক ঐতিহ্যের এক উজ্জ্বল নিদর্শন।

You cannot copy content of this page