বিগ বস বাংলার তৃতীয় সিজন যত এগোচ্ছে, ততই প্রতিযোগীদের খেলা নিয়ে দর্শকদের মধ্যে নানান রকম হিসেব সামনে আসছে। বিশেষ করে রাজবীর দে-কে ঘিরে তৈরি হয়েছে আলাদা আগ্রহ এবং আলোচনা। তাঁর ঘরে প্রবেশের পর থেকেই একাধিক ঘটনায় তিনি নজরে এসেছেন এবং দর্শকদের একটি অংশের মতে, তাঁর উপস্থিতিতেই শোয়ের প্রতি আগ্রহ অনেকটাই বেড়েছে। এমনকি একটি দর্শক প্রতিক্রিয়ায় দাবি করা হয়েছে, প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ রাজবীরের জন্যই নতুন করে অনুষ্ঠানটি দেখা শুরু করেছিলেন। ওই দর্শকের বক্তব্য, রাজবীর আসার আগে নাকি বিগ বসের ঘরে খাওয়া, ঘুম আর চড়ুইভাতির মতোই পরিস্থিতি চলছিল। তাই তাঁর মতে, রাজবীরকে শেষ পর্যন্ত ঘরে রাখা হতে পারে দর্শকের ভোটের কারণে নয়, বরং নির্মাতাদের প্রয়োজনেই। বর্তমান বিভিন্ন অনানুষ্ঠানিক ফ্যান পোলেও রাজবীরকে এগিয়ে থাকতে দেখা গিয়েছে, যদিও এগুলি কোনওভাবেই অনুষ্ঠানের সরকারি ভোটের ফল নয়।
এই জায়গা থেকেই ওই দর্শক রাজবীরের ভবিষ্যৎ নিয়েও নিজের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তাঁর দাবি, রাজবীরকে শেষ পর্যন্ত রেখে দেওয়া হলেও তাঁকে বিজয়ী করার পরিকল্পনা নাকি নেই। অর্থাৎ দর্শক টানতে এবং TRP ধরে রাখতে রাজবীরকে ব্যবহার করা হচ্ছে, কিন্তু ট্রফি অন্য কারও হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নাকি আগে থেকেই নেওয়া থাকতে পারে। যদিও এমন কোনও সিদ্ধান্তের বিষয়ে নির্মাতা বা চ্যানেলের তরফে প্রকাশ্যে কোনও তথ্য জানানো হয়নি। দর্শক প্রতিক্রিয়ায় ‘দুর্নীতি’ শব্দটি বারবার ব্যবহার করা হয়েছে, যা প্রসঙ্গ অনুযায়ী দুর্নিবার সাহাকে ইঙ্গিত করেই বলা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। ওই দর্শকের আশঙ্কা, শেষ পর্যন্ত দুর্নিবারকেই বিজয়ী করা হতে পারে এবং রাজবীরকে সেই পর্যন্ত দর্শক টানার অন্যতম মুখ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, চলতি সিজনের একাধিক টাস্কে দুর্নিবার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পেয়েছেন এবং একটি ক্যাপ্টেন্সি টাস্কে জয়ী হয়ে অধিনায়কও হয়েছেন। তবে রাজবীরের সঙ্গে অশান্তির জেরে হারিয়েছেন সেই অধিকার।
ওই দর্শক আরও দাবি করেছেন, বিনোদন জগতের মতো জায়গায় রাজনীতি বা প্রভাবের বিষয় একেবারে নেই, এমনটা ভাবা ঠিক নয়। তাঁর ভাষায়, “রাজনীতি ও দুর্নীতি সব জায়গায় বিদ্যমান।” এই কারণেই তাঁর মতে, কোনও নির্দিষ্ট প্রতিযোগীকে শেষ পর্যন্ত ট্রফি হাতে তুলে দেওয়ার আগ পর্যন্ত ‘জামাই আদর’ চলতে পারে। তাঁর আরও অভিযোগ, বিগ বসের সঙ্গে যুক্ত অনেক ক্রু সদস্য ফেসবুকে সাধারণ কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে নিজেদের পরিচয় দেন এবং দর্শকরা তাঁদের প্রকৃত পরিচয় জানেন না। তবে ওই দর্শকের দাবি, তাঁদের একটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে লেখা বা প্রচারের কাজ করতে বলা হয়ে থাকতে পারে। তাঁর বক্তব্য, “ভাই এনারা অসাধারণ লেখেন, বলে লাভ নেই। ঠিক সেই কারণেই লেখা পড়তে পড়তে কখন ম্যানুপুলেটেড হয়ে যাবেন সেটা ধরতেই পারবেন না।” ফলে দর্শকের নিজের পছন্দের বাইরে কোনও একটি নির্দিষ্ট প্রতিযোগীর পক্ষে জনমত তৈরি হয়ে যেতে পারে বলেই তাঁর আশঙ্কা।
এখানেই শেষ নয়, ওই দর্শক বিগ বসের ঘরে ‘কোটা’ বা পরিচিতির সুবিধা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর কথায়, “কোটা সব জায়গায় কাজ করে। জামাই কোটা, হিরোইন কোটা, ‘অনেকদিন আমাদের চ্যানেল বা প্রোডাকশনের জন্যে কাজ করেছে কোটা।'” তাঁর দাবি, কোন প্রতিযোগীর সঙ্গে কার পুরনো সম্পর্ক রয়েছে বা কে আগে কোন চ্যানেল কিংবা প্রোডাকশনের হয়ে কাজ করেছেন, সেই তথ্য বাইরের দর্শকরা সবসময় জানেন না। এই প্রসঙ্গেই তিনি তনুশ্রীর নাম টেনে একটি উদাহরণ দিয়েছেন। তাঁর মতে, ভিতরের সমীকরণ থাকলে কাউকে খুব সহজেই বলা যেতে পারে, “তুই তো নেক্সট উইক বেরিয়ে যাবি, ইমিউনিটি নষ্ট করে লাভ আছে?” অর্থাৎ কোনও প্রতিযোগীকে কতটা গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, তার পিছনে শুধু দর্শকের ভোট নয়, অন্য সমীকরণও কাজ করতে পারে বলেই তাঁর ধারণা। তবে এই সমস্ত বক্তব্য ওই দর্শকের ব্যক্তিগত অভিযোগ ও আশঙ্কা, এগুলির সত্যতা প্রমাণ করে এমন কোনও আনুষ্ঠানিক তথ্য এখনও সামনে আসেনি।
আরও পড়ুনঃ “ক্যাপ্টেন্সি টাস্কে নন্দীনির সঙ্গে অন্যায়, মনামীকে জেতাতে কি পক্ষপাত সোনামণির?” নিজেই নিয়ম বানিয়েও মানছেন না একটাও! মনামীকে টপ ৫-এ এগিয়ে দেওয়ার নেপথ্যে কি চলছে অন্য খেলা? বিগ বস বাংলায় সোনামণির ভূমিকা নিয়ে ক্ষুব্ধ দর্শকদের একাংশ!
সবশেষে ওই দর্শক বলেছেন, এই ধরনের বিষয় চলতে থাকলেও দর্শক শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠান দেখবেন এবং সময়ের সঙ্গে তা ভুলেও যাবেন। তাঁর কথায়, “এইসব চলুক, আমরা দেখব, ভুলে যাবো।” তবে তাঁর মতে, বিগ বস বাংলা শেষ হয়ে গেলে এই একই মানুষদের কেউ কাজ খুঁজবেন, আবার কেউ হয়তো নিম্নমানের কাজ করবেন। বাংলা বিনোদন জগতের কাজের মান নিয়েও তিনি কটাক্ষ করেছেন এবং বলেছেন, এমনিতেই বাংলার কাজ এমন কোনও জায়গায় নেই যে দর্শকদের ‘পাশে দাঁড়াতে হবে।’ এরপর তিনি কলেজ ফেস্টিভ্যালের প্রসঙ্গ টেনে অভিযোগ করেছেন, সেখানে অন্যের কাজ কভার করে কিছু মানুষ নিজেদের জায়গা তৈরি করে নেন। শেষে তাঁর বক্তব্য, “দুর্নীতি আবার কলেজ ফেস্টিভ্যাল গুলোতে ঘুম পাড়াবে অন্যের কাজ কভার করে আর আমরা কী করব? নিজের নিজের কাজ।” রাজবীরের জনপ্রিয়তা, দুর্নিবারকে ঘিরে এই দর্শকের আশঙ্কা এবং শোয়ের ভিতরের কথিত সমীকরণ নিয়ে তাই সোশ্যাল মিডিয়ায় নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে, যদিও শেষ পর্যন্ত বিজয়ীর সিদ্ধান্ত কী হবে তা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।






