‘মমতার আমলে যা শেষ হয়েছে…১৫ বছরের ক্ষ’তি মেটাতে কত বছর লাগবে জানি না’, বিশ্বাস ব্রাদার্সের ক্ষমতার নেপথ্যে কি শুধুই ছিল প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর হাত? কতটা হাল বদলেছে নতুন সরকার আসতেই? টলিউডে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থেকে শিল্পীদের অবস্থা নিয়ে মুখ খুললেন বিজেপি নেতা, অভিনেতা সুমন বন্দ্যোপাধ্যায়!

বাংলা বিনোদন জগতে রাজনৈতিক প্রভাব, শিল্পীদের কাজ পাওয়া নিয়ে বিতর্ক এবং শুটিংয়ের নিরাপত্তা এই একাধিক বিষয় নিয়ে মুখ খুললেন অভিনেতা তথা বিজেপি নেতা সুমন বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘ ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনকালে বাংলা চলচ্চিত্র ও ধারাবাহিকের জগতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বেড়েছে। তাঁর দাবি, কে কোন রাজনৈতিক মতাদর্শে বিশ্বাস করেন, তার ভিত্তিতেও শিল্পীদের কাজ পাওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পাশাপাশি, টলিউডে বিশ্বাস ব্রাদার্সের ক্ষমতা কীভাবে তৈরি হয়েছিল, সেই প্রশ্নেও সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে আঙুল তুলেছেন তিনি।

বিশ্বাস ব্রাদার্সকে ঘিরে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের প্রসঙ্গে সুমন বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, তাঁদের হাতে এত ক্ষমতা কীভাবে এল, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হবে। তাঁর দাবি, এই ক্ষমতা দিয়েছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, মুখ্যমন্ত্রী রাজনৈতিক কাজের তুলনায় চলচ্চিত্র ও বিনোদন জগতের অভিনেতা-অভিনেত্রীদের নিয়ে বেশি ব্যস্ত থাকতেন। তাঁর মতে, এই প্রবণতা রাজ্যের শাসক দলের বর্তমান পরিস্থিতির অন্যতম কারণ। তবে বিশ্বাস ব্রাদার্সকে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলির সত্যতা বা সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য সম্পর্কে সাক্ষাৎকারে বিস্তারিত তথ্য উঠে আসেনি।

রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কি টলিউডে কাজের সুযোগ কমেছে? এই প্রশ্নেও সরব হয়েছেন অভিনেতা। সুমনের অভিযোগ, তৃণমূল আমলে কোনও শিল্পী সিপিএম বা বিজেপির সমর্থক হলে তাঁর কাজের সুযোগ নিয়ে প্রশ্ন উঠত। এমনকী, কে কোন দলের সমর্থক, সেই বিষয়টি সামনে এনে কাউকে বাদ দেওয়ার প্রবণতাও ছিল বলে দাবি তাঁর। তবে একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, কিছু শিল্পী নিজেদের পারফরম্যান্সের কারণে কাজ কম পেয়েও রাজনৈতিক পরিচয়কে তার কারণ হিসেবে তুলে ধরতে পারেন। তাই সব ক্ষেত্রেই রাজনৈতিক হস্তক্ষেপকে দায়ী করা যায় না বলেও তাঁর বক্তব্যে ইঙ্গিত মিলেছে।

নিজের অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ টেনে সুমন জানান, তাঁর অভিনয়জীবনের উত্থান বাম আমলেই হয়েছিল। অথচ সেই সময় রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তাঁকে কোনও সমস্যার মুখে পড়তে হয়নি বলে দাবি তাঁর। অভিনেতা অনির্বাণ ভট্টাচার্য, সব্যসাচী চক্রবর্তী এবং রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো শিল্পীদের প্রসঙ্গেও আলোচনা করেন তিনি। রাজনৈতিক মতাদর্শ আলাদা হলেও নিজের অবস্থানে দৃঢ় থাকা শিল্পীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন সুমন। অন্যদিকে, পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক অবস্থানের ক্ষেত্রে স্পষ্টতা থাকা জরুরি। যদিও এই সমস্ত শিল্পীর রাজনৈতিক অবস্থান সম্পর্কে সুমনের বক্তব্য তাঁর নিজস্ব মতামত। টলিউডের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে সুমনের মন্তব্য, “মাঝের ১৫ বছর নিয়ে আমাদের ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে কোনও কথা বলবেন না। শেষ হয়ে গেছে ইন্ডাস্ট্রিটা। এই ১৫ বছরের ক্ষতি রিভাইভ করতে কত বছর লাগবে, আমি জানি না।” তাঁর মতে, দীর্ঘ সময়ের রাজনৈতিক প্রভাবের ফলে বাংলা বিনোদন জগতে যে ক্ষতি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে অনেকটা সময় লাগতে পারে।

আরও পড়ুনঃ শহরের সব বেসরকারি হাসপাতাল ছেড়ে সরকারি হাসপাতালে ভরসা! চিকিৎসার গাফিলতিতে শিশুমৃ’ত্যুর অভিযোগে উত্তাল মেডিক্যাল কলেজ, সেখানেই অ’স্ত্রোপচারের জন্য ভর্তি হচ্ছেন ঝিলম গুপ্ত! প্রার্থনার আর্জি ভক্তদের কাছে! কবে হবে অপারেশন, কী জানালেন ডিজে মাউস?

অভিনেতা রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর প্রসঙ্গেও মুখ খোলেন সুমন। রাহুলকে নিজের ছোট ভাইয়ের মতো বলে উল্লেখ করে তিনি জানান, এই ঘটনা তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে ব্যথিত করে। তবে তাঁর দাবি, মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিতর্কের জেরে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং শুটিংয়ের নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি আড়ালে চলে গিয়েছে। তাঁর মতে, বাইরে শুটিংয়ের ক্ষেত্রে স্থানীয় সমন্বয়কারী ও সংশ্লিষ্ট ইউনিটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুধু নিরাপত্তার কথা বললেই হবে না, শুটিংয়ের পরিবেশ ও সরঞ্জাম কতটা সুরক্ষিত, তা নিশ্চিত করতে হবে। সব মিলিয়ে, সুমন বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যে টলিউডে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, শিল্পীদের স্বাধীনতা, বিশ্বাস ব্রাদার্সের ক্ষমতা এবং শুটিংয়ের নিরাপত্তা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠে এসেছে। তাঁর অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক ও বিনোদন মহলে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

You cannot copy content of this page