এতদিন নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খোলেননি স্বরূপ বিশ্বাস। সোশ্যাল মিডিয়াতেও দাম্পত্য জীবনের টানাপোড়েন নিয়ে কোনও কথা বলতে চাননি তিনি। তাঁর বক্তব্য, ব্যক্তিগত সম্পর্কের প্রতিটি বিষয় প্রকাশ্যে আনা উচিত নয় বলেই এতদিন নীরব ছিলেন। কিন্তু সেই নীরবতাকেই যদি দুর্বলতা হিসেবে দেখা হয়, তা হলে আর চুপ করে থাকা সম্ভব নয়। নিজের চরিত্র নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন স্বরূপ। সবচেয়ে বড় কথা, দুই মেয়ের সঙ্গে স্বাভাবিক যোগাযোগ ও দেখা করার অধিকার নিয়েও তাঁকে বারবার বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে বলে দাবি তাঁর। এই পরিস্থিতিতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় দীর্ঘ পোস্ট করে নিজের বক্তব্য জানিয়েছেন তিনি। সেখানেই স্বরূপ স্পষ্ট লিখেছেন, ‘আমার নীরবতাকে দুর্বলতা ভাববেন না।’ একজন বাবা হিসেবে নিজের অধিকার, আত্মসম্মান এবং সন্তানদের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষার লড়াই তিনি আইনের পথেই চালিয়ে যাবেন বলেও জানিয়েছেন।
স্বরূপের পোস্টে উঠে এসেছে সম্প্রতি মেয়ের সঙ্গে দেখা করতে না পারার ঘটনাও। তাঁর দাবি, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী গত রবিবার কোর্ট কমিশনারের উপস্থিতিতে একটি শপিং মলে ছোট মেয়ের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন তিনি। প্রায় দেড় ঘণ্টা অপেক্ষা করার পরেও মেয়ের সঙ্গে তাঁর দেখা হয়নি বলে অভিযোগ। কেন আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী নির্ধারিত সাক্ষাৎ সম্পন্ন হল না, তার যথাযথ ব্যাখ্যা তিনি চান। এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে আদালতের দ্বারস্থ হবেন বলেও জানিয়েছেন স্বরূপ। তাঁর কথায়, একজন বাবার কাছে নিজের সন্তানের সঙ্গে দেখা করার অপেক্ষা কতটা কষ্টের, তা এমন পরিস্থিতির মধ্যে না পড়লে বোঝা কঠিন। এটি কোনও ব্যক্তিগত জেদের বিষয় নয় বলেও তিনি জানিয়েছেন। তাঁর কাছে সন্তানদের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা, তাদের মানসিক সুস্থতা এবং আদালতের নির্দেশ ঠিক ভাবে কার্যকর হওয়াটাই মূল বিষয়। একই সঙ্গে তাঁর অভিযোগ, এতদিন সাধারণ মানুষ এই ঘটনার একটি দিকই দেখেছেন।
এরপরই স্ত্রী জুঁই মজুমদার বিশ্বাসের সাম্প্রতিক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের প্রসঙ্গ তোলেন স্বরূপ। তাঁর দাবি, জুঁইয়ের পোস্টে তাঁর সম্পর্কে ‘hooliganism’-এর মতো শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। সেই কারণেই নিজের বক্তব্যও মানুষের সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন বলে মনে করেছেন তিনি। স্বরূপ জানিয়েছেন, তিনি কাউকে তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে প্রকাশ্যে আক্রমণ করতে চান না। তবে তাঁর বক্তব্য না শুনেই যদি তাঁকে একটি নির্দিষ্ট নেতিবাচক পরিচয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে দেওয়া হয়, তা হলে নিজের অবস্থান জানানোর অধিকার তাঁরও রয়েছে। তিনি আরও লিখেছেন, তাঁকে ‘hooligan’ হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা হলে তিনি তার প্রতিবাদ করবেন। তিনি কেমন মানুষ, মানুষের পাশে কতটা দাঁড়িয়েছেন এবং জনজীবনে তাঁর ভূমিকা কী, সেই বিচার মানুষ তাঁদের নিজেদের অভিজ্ঞতা ও তথ্যের ভিত্তিতেই করবেন বলে জানিয়েছেন। নিজেকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য অন্য কাউকে ছোট করার প্রয়োজন তাঁর নেই বলেও দাবি করেছেন স্বরূপ। অন্যের বক্তব্যের বিরোধিতা করতে গিয়ে ব্যক্তিগত অপমান বা অসম্মানজনক ভাষা ব্যবহার করতেও তিনি চান না বলে জানিয়েছেন।
জুঁই মজুমদার বিশ্বাসের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্কের অধ্যায় শেষ বলে মনে করেন স্বরূপ। তবে সেই সম্পর্কের অবসান তাঁর পিতৃত্বের অবসান ঘটাতে পারে না বলেই জানিয়েছেন তিনি। স্বরূপের কথায়, তিনি চান না তাঁর মেয়েরা বড় হয়ে বাবা-মায়ের বিরোধের ভার নিজেদের কাঁধে বহন করুক। সন্তানদের সঙ্গে সুস্থ সম্পর্ক বজায় রাখার সুযোগ তাঁদের দেওয়া হোক এবং আদালতের নির্দেশ যথাযথ ভাবে কার্যকর করা হোক, এটাই তাঁর আবেদন। তিনি আরও জানিয়েছেন, নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের আইনি মোকাবিলা করছেন এবং সন্তানদের সঙ্গে দেখা করার জন্যও আদালতের দ্বারস্থ হচ্ছেন। তবু তাঁকে জনসমক্ষে খলনায়ক হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা হচ্ছে বলে তাঁর মনে হচ্ছে। এই প্রবণতার বিরোধিতা করলেও ব্যক্তিগত আক্রমণের জবাবে ব্যক্তিগত আক্রমণ করতে তিনি চান না। নিজের নামকে কারও রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত প্রচারের হাতিয়ার হতে দেবেন না বলেও জানিয়েছেন স্বরূপ। তাঁর বিরুদ্ধে অন্যায় হয়ে থাকলে তার প্রতিকার এবং নিজের অধিকার ক্ষুণ্ণ হলে তার সমাধান আদালতের কাছেই চাইবেন বলে স্পষ্ট করেছেন তিনি।
আরও পড়ুনঃ‘ওই ঋণ শোধ করতে গিয়েই মাছ খাওয়া ছেড়েছি, বহু বছর দুধও খাইনি’ সেই ঋণ পরিশোধ করছেন কি আজও? তুমুল জনপ্রিয়তা সত্ত্বেও কেন এমন কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়েছিল রূপা গঙ্গোপাধ্যায়কে? জীবনের কোন অজানা লড়াইয়ের কথা ফাঁস করলেন অভিনেত্রী?
এই পরিস্থিতিতে দাম্পত্য সম্পর্ক ও বিবাহবিচ্ছেদের সময় নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্বরূপ বিশ্বাস। তাঁর দাবি, ২০১৯ সাল থেকেই যদি তাঁদের দাম্পত্য সম্পর্ক কার্যত শেষ হয়ে থাকে, তা হলে এতদিন পরে বিবাহবিচ্ছেদের আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হল কেন, সেই প্রশ্ন উঠতেই পারে। তিনি জানিয়েছেন, ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে তাঁরা পৃথক ভাবে বসবাস করছেন। এরপর ৪ মে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদল হয় এবং ২৮ মে জুঁই বিবাহবিচ্ছেদ সংক্রান্ত বিষয়ে সংবাদমাধ্যমে বক্তব্য রাখেন বলে স্বরূপের দাবি। ৪ জুন তাঁর গ্রেফতারির পর ১৭ জুন বিবাহবিচ্ছেদের মামলা দায়ের করা হয় বলেও জানিয়েছেন তিনি। সেখান থেকেই স্বরূপের প্রশ্ন, গ্রেফতারির পরই কেন বিবাহবিচ্ছেদের আইনি পদক্ষেপ করা হল। গ্রেফতারির নেপথ্যে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের আশঙ্কাও তিনি প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে জুঁইয়ের বক্তব্য জানতে চাওয়া হলে তিনি জানিয়েছেন, কোনও বিচারাধীন বিষয় নিয়ে তিনি কোনও সাক্ষাৎকার দেবেন না। এখন সন্তানদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক এবং চলতি আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে স্বরূপের এই প্রকাশ্য বক্তব্যেই নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।






