“কলকাতার বেশিরভাগ অভিজ্ঞ বাচিক শিল্পীর, এমনকী প্রাজ্ঞদেরও যে ভিশন নেই, সেটা আমার আছে!” মন্তব্যে উস্কে দিলেন বিতর্ক, কী এমন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে ব্রততী বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো শিল্পীদের থেকেও নিজেকে আলাদা মনে করেন সুজয় প্রসাদ চট্টোপাধ্যায়?

সুজয় প্রসাদ চট্টোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের পরিচিত বাচিক শিল্পী, অভিনেতা, সঞ্চালক এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব। আবৃত্তি ও অভিনয়ের পাশাপাশি থিয়েটার এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চশিল্পের প্রতিও তাঁর গভীর আগ্রহ রয়েছে। নিজের কাজের ধরন, শিল্পবোধ এবং থিয়েটারের প্রতি ভালোবাসা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি তুলে ধরেছেন তাঁর ছোটবেলার নানা অভিজ্ঞতার কথা। একই সঙ্গে বাচিক শিল্পী হিসেবে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েও স্পষ্ট বক্তব্য রেখেছেন তিনি।

নিজের কাজের ধরন ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সুজয় প্রসাদ জানান, বাচিক শিল্পী হিসেবে তাঁর একটি নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে, যা কলকাতার অনেক অভিজ্ঞ বাচিক শিল্পীর মধ্যেও তিনি দেখতে পান না বলে মনে করেন। তাঁর কথায়, এই দৃষ্টিভঙ্গি তিনি নিজেই তৈরি করেছেন। কেউ তাঁকে আলাদা করে শিখিয়ে দেননি। বাংলা ও ইংরেজি-সহ বিভিন্ন ভাষায় পাঠের ক্ষেত্রে নিজস্ব শৈলী গড়ে তোলার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক থিয়েটারে কী ধরনের কাজ হচ্ছে, তা জানার আগ্রহও তাঁকে অন্যভাবে ভাবতে শিখিয়েছে।

থিয়েটারের প্রতি তাঁর ভালোবাসার শিকড় যে ছোটবেলায়, সেই কথাও উঠে এসেছে তাঁর বক্তব্যে। সুজয় প্রসাদ জানান, ছোটবেলায় জন্মদিনে দামি বা ব্র্যান্ডেড জামাকাপড় উপহার পাওয়ার বদলে মা-বাবা তাঁকে খাওয়াতে নিয়ে যেতেন, আবার কখনও নাটক দেখাতেও নিয়ে যেতেন। তাঁর বাবা ছিলেন কিছুটা সাহেবি মেজাজের, অন্যদিকে মায়ের পরিবারের আর্থিক অবস্থা ছিল তুলনামূলকভাবে সাধারণ। তবে পরিবারের আর্থিক অবস্থার পার্থক্য সত্ত্বেও শিল্পের প্রতি ভালোবাসা ছিল তাঁদের মধ্যে প্রবল। ছোটবেলা থেকেই সেই পরিবেশে বড় হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন তিনি।

সেই সময়ে দেখা একাধিক নাটকের স্মৃতিও ভাগ করে নিয়েছেন সুজয় প্রসাদ। তাঁর কথায়, উত্তর কলকাতায় ‘ফেরিওয়ালার মৃত্যু’, ‘নাথবতী অনাথবৎ’ এবং ‘অমৃত সমান’-এর মতো নাটক দেখার অভিজ্ঞতা তাঁর মনে বিশেষভাবে জায়গা করে নিয়েছে। এ ছাড়াও সমকালীন শিল্পী দলের একটি নাটক এবং মনোজ মিত্রের ‘অলোকানন্দার পুত্রকন্যা’ দেখার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। ছোটবেলায় পরিবারের সঙ্গে নাটক দেখতে যাওয়ার সেই অভিজ্ঞতাগুলিই তাঁর শিল্পবোধ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে বলে তাঁর বক্তব্য থেকে স্পষ্ট।

আরও পড়ুনঃ “কমবয়সী বাচ্চা মেয়েরা বিগবসে গিয়ে খুল্লমখুল্লা যা করছে, সেটায় লক্ষ্মীলাভের জন্য সমর্থন করছেন বাবা ও মায়েরা!” বিখ্যাত হওয়ার লোভে সংযত বা সংযমী নয়, আপনজনদের মধ্যেও কেনাবেচার সম্পর্ক? বিগ বস বাংলার ঘরের ‘নোং*রামি’ নিয়ে বি*স্ফোরক শকুন্তলা বড়ুয়া! ভবিষ্যৎ নিয়েও তুললেন বড় প্রশ্ন?

বাংলা থিয়েটারের পাশাপাশি ইংরেজি ও আন্তর্জাতিক থিয়েটার নিয়েও তাঁর আগ্রহ রয়েছে। বিশ্বজুড়ে মঞ্চশিল্পে কী ধরনের নতুন কাজ হচ্ছে, কীভাবে শিল্পীরা নিজেদের উপস্থাপন করছেন, তা জানার ইচ্ছা তাঁর বরাবরের। সুজয় প্রসাদের বক্তব্যে স্পষ্ট, বাচিক শিল্প তাঁর কাছে শুধু কণ্ঠের ব্যবহার বা পাঠের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং শিল্পের নানা ধারা সম্পর্কে জানা, নিজের মতো করে উপস্থাপনার ভাষা তৈরি করা এবং আন্তর্জাতিক শিল্পচর্চার সঙ্গে পরিচিত থাকাকেই তিনি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন। সেই নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গিই তাঁর শিল্পচর্চার অন্যতম ভিত্তি।

You cannot copy content of this page