বর্তমানে বাংলা টেলিভিশনের অন্যতম চর্চিত রিয়্যালিটি শো ‘বিগ বস বাংলা’। প্রতিযোগীদের ব্যক্তিত্ব, পারস্পরিক সম্পর্ক, টাস্কে পারফরম্যান্স এবং ঘরের ভিতরের নানা ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিদিনই তৈরি হচ্ছে নতুন আলোচনা। কে কতটা ভালো খেলছেন, কার আচরণ দর্শকদের মন জয় করছে, আবার কার ভূমিকা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন, সব মিলিয়ে এই শো ঘিরে দর্শকদের আগ্রহ তুঙ্গে। প্রতিযোগীদের খেলার পাশাপাশি সমাজ মাধ্যমেও তাঁদের নিয়ে চলছে নানা মতামত ও প্রতিক্রিয়ার আদানপ্রদান। ওয়াইল্ড কাড এন্ট্রি নিয়েই বিগ বসের ঘরে প্রতিযোগী হিসেবে নজর কেড়েছেন অভিনেতা জিতু কমল।
কখনও নিজের সিদ্ধান্ত, কখনও আবেগের বহিঃপ্রকাশ, আবার কখনও টাস্কে নেতৃত্ব দেওয়ার মাধ্যমে আলোচনায় উঠে এসেছেন তিনি। প্রতিযোগিতার মঞ্চে শুধু টিকে থাকাই নয়, নিজের দক্ষতা এবং মানসিক দৃঢ়তা প্রমাণ করাও প্রত্যেক প্রতিযোগীর কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। জিতুর সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স এবং শোয়ের শেষ পর্বে তাঁর আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ার বিষয়টিই এবার নজর কেড়েছে অভিনেত্রী মৈত্রী মিত্রের। সম্প্রতি নিজের সমাজ মাধ্যমের পাতায় জিতু কমলকে নিয়ে একটি পোস্ট করেছেন অভিনেত্রী মৈত্রেয়ী মিত্র। বিগ বসের ঘরে জিতুকে যতটুকু দেখেছেন, সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই তাঁর এই মূল্যায়ন।
অভিনেত্রীর কথায়, জিতুর মানসিক ওঠাপড়া, মনের দৃঢ়তা এবং জটিলতা সবকিছুই তিনি লক্ষ করেছেন। কখনও সহজেই অনেক কিছু ভুলে যেতে দেখা গিয়েছে তাঁকে, আবার কখনও সামান্য বিষয়ও মনে ধরে রেখে অশান্ত হতে দেখেছেন। তবে এই আচরণগুলিকে অস্বাভাবিক বলে মনে করেননি মৈত্রেয়ী। বরং তাঁর মতে, এগুলি মানুষের স্বাভাবিক ধর্ম, যা প্রত্যেকের মধ্যেই কমবেশি রয়েছে। জিতুর সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের প্রশংসা করে মৈত্রেয়ী লিখেছেন, “কিন্তু এই দুদিন আপনি যেভাবে টাস্ক পারফর্ম করেছেন, আপনাকে বিগ স্যালুট।”
তাঁর মতে, প্রধান হিসেবে জিতু অত্যন্ত ভালো ভূমিকা পালন করেছেন। পাশাপাশি তাঁর রসবোধও দর্শকদের আনন্দ দিয়েছে। অর্থাৎ, প্রতিযোগিতার কঠিন পরিস্থিতিতেও নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা এবং হাস্যরসের মাধ্যমে পরিবেশকে উপভোগ্য করে তোলার বিষয়টি অভিনেত্রীর নজর এড়ায়নি। তবে পোস্টের শেষ অংশে জিতুর আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ার প্রসঙ্গও তুলে ধরেছেন মৈত্রেয়ী। পর্বের শেষে তাঁকে ভেঙে পড়তে দেখে অভিনেত্রী লিখেছেন, “তবে আমি এটা বলব না আপনি কাঁদলেন কেন?
আরও পড়ুনঃ “কলকাতার বেশিরভাগ অভিজ্ঞ বাচিক শিল্পীর, এমনকী প্রাজ্ঞদেরও যে ভিশন নেই, সেটা আমার আছে!” মন্তব্যে উস্কে দিলেন বিতর্ক, কী এমন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে ব্রততী বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো শিল্পীদের থেকেও নিজেকে আলাদা মনে করেন সুজয় প্রসাদ চট্টোপাধ্যায়?
বরং বলব ভালো করেছেন, কখনও কখনও একান্তে নিজের মনের কান্না মনের মধ্যে জমে থাকা সব গ্লানি ধুয়ে মুছে মনকে আরও ঝকঝকে করে দেয়।” জিতুর কান্নার কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত না হলেও তাঁর আবেগকে স্বাভাবিকভাবেই দেখেছেন অভিনেত্রী। একই সঙ্গে জিতুকে শক্তিশালী প্রতিযোগী হিসেবে উল্লেখ করে তাঁকে সেরা পাঁচে দেখার আশাও প্রকাশ করেছেন তিনি। এখন দেখার, আগামী পর্বগুলিতে জিতুর খেলা কোন দিকে এগোয় এবং শেষ পর্যন্ত সেরা পাঁচে জায়গা করে নিতে পারেন কি না। আপনারাও কি অভিনেত্রীর সঙ্গে সহমত?






