অভিনয়ের ঝলমলে দুনিয়ার আড়ালে তারকাদের ব্যক্তিগত জীবনে লুকিয়ে থাকে এমন অনেক অধ্যায়, যার খবর রাখেন না অনুরাগীরা। পর্দায় হাসিমুখে অভিনয় করলেও বাস্তব জীবনে তাঁদের অনেককেই পেরোতে হয় কঠিন সময়, সহ্য করতে হয় মানসিক যন্ত্রণা এবং আর্থিক অনিশ্চয়তা। এবার নিজের জীবনের এমনই কিছু অজানা অধ্যায় সামনে আনলেন অভিনেত্রী পল্লবী চট্টোপাধ্যায়। ছোটবেলায় বিয়ে, অল্প বয়সে মাতৃত্ব, সম্পর্কের টানাপোড়েন থেকে শুরু করে জীবিকা নির্বাহের জন্য ট্যাক্সি চালানো সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে নিজের জীবনের নানা কঠিন অভিজ্ঞতার কথা খোলাখুলি জানালেন তিনি।
টলিউডের পরিচিত মুখ পল্লবী চট্টোপাধ্যায় অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের বোন এবং কিংবদন্তি অভিনেতা বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের মেয়ে। দীর্ঘদিনের অভিনয়জীবনে বাংলা ও হিন্দি, দুই ইন্ডাস্ট্রিতেই কাজ করেছেন তিনি। তবে পরিচিত তারকা পরিবারের সদস্য হওয়া সত্ত্বেও নিজের কেরিয়ারে যে সবসময় সহজ রাস্তা পাননি, তা স্পষ্ট করেছেন অভিনেত্রী। এমনকী কাজের অভাব এবং ইন্ডাস্ট্রির নানা পরিস্থিতির কারণে তাঁকে বারবার নতুন করে লড়াই করতে হয়েছে। বর্তমানে মুম্বইয়ে নতুন করে কাজের চেষ্টা করছেন তিনি। কিন্তু তাঁর জীবনের লড়াই শুরু হয়েছিল অভিনয়জগতে পা রাখার অনেক আগে থেকেই।
সাক্ষাৎকারে নিজের বিয়ের প্রসঙ্গে পল্লবী জানান, মাত্র ১১ বছর বয়সে স্কুল থেকে ফিরে জানতে পারেন, তাঁকে শ্বশুরবাড়ি যেতে হবে। ১৩ বছর বয়সে তাঁর বিয়ে হয়। সেই সময় বিয়ে বা দাম্পত্য জীবনের অর্থ বোঝার মতো বয়সই হয়নি তাঁর। পরিবারের আর্থিক পরিস্থিতি এবং মায়ের সিদ্ধান্তেই এই বিয়ে হয়েছিল বলে জানান অভিনেত্রী। বিয়ের পর শ্বশুরবাড়িতেই বড় হয়ে ওঠা। মাত্র ১৬ বছর বয়সে মা হন তিনি। তবে মাতৃত্বের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে নিজের মতামত দেওয়ার সুযোগও পাননি বলে জানান পল্লবী। তাঁর কথায়, বর্তমানে দম্পতিরা সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিজেরা নিলেও তাঁর ক্ষেত্রে সেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন শাশুড়ি। স্বামীর সঙ্গে তখন খুব একটা কথাবার্তাও হতো না। পরবর্তীকালে নিজের মেয়ের পাশাপাশি আর এক শিশুকন্যাকেও দত্তক নিয়ে বড় করেছেন তিনি।
জীবনের আর এক কঠিন অধ্যায়ের কথা বলতে গিয়ে পল্লবী জানান, ব্যক্তিগত সম্পর্কের ভাঙন এবং নানা প্রতিকূলতার মধ্যে দিয়ে তাঁকে যেতে হয়েছে। একসময় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, যখন নিজের কষ্ট ভাগ করে নেওয়ার মতো কাউকে পাশে পাননি। সংসার ভেঙে যাওয়ার পর জীবন নতুন করে শুরু করতে হয়েছে তাঁকে। শুধু তাই নয়, কলকাতায় এসে কাজের অভাবে জীবিকা নির্বাহের জন্য ট্যাক্সিও চালিয়েছেন বলে জানান অভিনেত্রী। আজাদ হিন্দের মালিক সতীশের ট্যাক্সি চালানোর অভিজ্ঞতার কথাও উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে। অভিনয় ভালোবাসলেও কখনও কাজ করতে লজ্জা পাননি তিনি। কাজ চাওয়া কিংবা ছোট কাজ করা নিয়েও তাঁর কোনও সংকোচ নেই। বরং নিজের পায়ে দাঁড়ানোর জন্য যা প্রয়োজন, সেটাই করেছেন।
আরও পড়ুনঃ ‘যৌ*নপল্লিতে গিয়ে গান করুন’ মঞ্চে গান গাইতে গাইতে নাচ, তারপরই কটাক্ষের বন্যা! “তাঁকে বুকে জড়িয়ে ‘কৃষ্ণ প্রেমে পো*ড়া দেহ’ বারবার শোনাবো, কারও ‘সতীত্বে’ যদি লালসার আঘাত লাগে…” নিন্দুকদের একহাত নিলেন পৌষালী বন্দ্যোপাধ্যায়!
এত প্রতিকূলতার পরেও থেমে থাকতে চান না পল্লবী। তাঁর কথায়, গত ১৫ বছর ধরে প্রত্যাশামতো কাজের সুযোগ পাননি। অনেকেই তাঁকে প্রশ্ন করেন, তারকা পরিবারের সদস্য হওয়ার পরেও কেন কাজের প্রয়োজন? কিন্তু সেই পরিচয় যে সবসময় কাজ পাওয়ার নিশ্চয়তা দেয় না, তা নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই বুঝেছেন তিনি। তাই এবার মুম্বইয়ে একেবারে নতুন করে কাজ শুরু করার চেষ্টা করছেন। অভিনয়ের পাশাপাশি বিষয়বস্তু তৈরির কাজেও যুক্ত হচ্ছেন। জীবনের এত ওঠাপড়ার পরেও নিজের মতো করে বাঁচতে এবং কাজ করে যেতে চান অভিনেত্রী। তাঁর এই অজানা লড়াইয়ের কথা সামনে আসতেই নতুন করে চর্চায় পল্লবী চট্টোপাধ্যায়ের জীবনযাত্রা।






