‘বিগ বস বাংলা’কে ঘিরে প্রতিযোগীদের আচরণ এবং বিভিন্ন টাস্ক নিয়ে দর্শকদের মধ্যে বিতর্ক অব্যাহত। এবার লাক্সারি বাজেট টাস্ককে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন জিতু কমল। দর্শকদের দাবি, এই টাস্কে রাজবীর দেকে জলে নেমে চাবি খুঁজতে হবে। অভিযোগ উঠেছে, সেই সময় জিতু সৃজলাকে একটি চাবি লুকিয়ে রাখার কথা বলেন। এরপর রাজবীরকে নিয়ে জিতুর একটি মন্তব্য ঘিরেই শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। দর্শকদের একাংশের দাবি, জিতু বলেছেন, ‘রাজবীর সারাদিন জলে নেমে চাবি খুঁজতে থাক, যতক্ষণ না অসুস্থ হয়ে যায়।’ এই বক্তব্যের পরই সমাজ মাধ্যমে প্রশ্ন উঠছে, একজন প্রতিযোগীকে দীর্ঘ সময় ঠান্ডা জলে রাখার পরিকল্পনা কি শুধুই টাস্কের অংশ? নাকি এর মধ্যে রাজবীরকে শারীরিকভাবে অসুস্থ করে দেওয়ার ইচ্ছাও ছিল, সেই প্রশ্ন তুলছেন দর্শকদের একাংশ।
নতুন এই অভিযোগের সূত্র ধরে জিতুর আগের কিছু আচরণ নিয়েও ফের আলোচনা শুরু হয়েছে। এর আগে বিগ বসের ঘরে জিতুর কথাবার্তা এবং বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি নিয়ে সমালোচনা করেছিলেন দর্শকদের একাংশ। রাজবীরকে কেন্দ্র করে তাঁর সঙ্গে একাধিকবার বিবাদেও জড়িয়েছেন জিতু। নারীদের উদ্দেশে করা ‘তুই একটা মেয়েছেলে’ এবং ‘পুরুষ হয়ে দেখা’র মতো মন্তব্য নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। ‘গুড়িয়া’ নিয়ে খেলার প্রসঙ্গেও তাঁর কথাবার্তা নিয়ে সমাজ মাধ্যমে বিতর্ক হয়েছিল। তারপর এবার লাক্সারি বাজেট টাস্কে রাজবীরকে দীর্ঘ সময় জলে রাখার মন্তব্য নতুন করে ক্ষোভ তৈরি করেছে। দর্শকদের একাংশের বক্তব্য, টাস্কে প্রতিযোগিতা থাকতেই পারে, কিন্তু কোনও প্রতিযোগী অসুস্থ হয়ে যেতে পারেন এমন পরিস্থিতি তৈরি করা নিয়ে সতর্ক থাকা দরকার। সেই জায়গা থেকেই জিতুর মন্তব্যের উদ্দেশ্য এবং সীমারেখা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন তাঁরা। অনেকেই জানতে চাইছেন, টাস্কের নামে এমন পরিকল্পনাকে কী ভাবে দেখা উচিত।
এই ঘটনার আরও একটি দিক নিয়েও সমাজ মাধ্যমে প্রশ্ন উঠেছে। দর্শকদের দাবি, স্টার জলসার তরফে জিতুর রাজবীরকে অসুস্থ করে দেওয়ার পরিকল্পনা সংক্রান্ত ভিডিওই প্রকাশ করা হয়েছে। তাঁদের প্রশ্ন, যদি সত্যিই ওই মন্তব্য টাস্কের অংশ হিসেবে সম্প্রচারে আসে, তা হলে চ্যানেলের তরফে বিষয়টি নিয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া থাকবে না কেন? একাংশের অভিযোগ, রাজবীরের ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থান নেওয়া হলেও জিতুর কিছু আচরণ বারবার ‘দুষ্টুমি’ হিসেবে দেখানো হচ্ছে। এই অভিযোগের সঙ্গে আগের বিতর্কগুলিকেও একসঙ্গে টেনে আনছেন দর্শকরা। তাঁদের মতে, রাজবীরের আচরণ নিয়ে যদি প্রশ্ন ওঠে, তা হলে অন্য প্রতিযোগীদের আচরণও একইভাবে বিচার করা উচিত। বিশেষ করে কোনও প্রতিযোগীর শারীরিক অসুস্থতার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে এমন মন্তব্যকে হালকা করে দেখা উচিত কি না, সেই প্রশ্নই এখন উঠছে। যদিও রাজবীরকে ‘মেরে ফেলার পরিকল্পনা’ করা হয়েছিল, এমন কোনও নিশ্চিত তথ্য নেই, এটি দর্শকদের মন্তব্য ও অভিযোগের ভাষ্য। তবু এই অভিযোগ ঘিরে বিগ বস বাংলার দর্শকমহলে আলোচনা যে নতুন মাত্রা পেয়েছে, তা স্পষ্ট।
সামাজিক মাধ্যমে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে অনেকেই আগের সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় বিতর্কের প্রসঙ্গও টেনে আনছেন। ‘বাংলার আইকন’ হিসেবে পরিচিত সৌরভের কাছে জিতুর কিছু মন্তব্য নিয়ে কেন প্রতিবাদ দেখা যায়নি, সেই প্রশ্ন আগেও তুলেছিলেন দর্শকদের একাংশ। নারী সম্মান এবং অসম্মানজনক ভাষা ব্যবহারের বিষয়েও সমাজ মাধ্যমে সরব হয়েছিলেন অনেকে। এবার রাজবীরকে জলে রেখে অসুস্থ করে দেওয়ার মন্তব্যের অভিযোগ সামনে আসায় সেই পুরনো বিতর্কও ফের আলোচনায় এসেছে। দর্শকদের একাংশের বক্তব্য, বিগ বসের ঘরে যে কোনও প্রতিযোগীর আচরণই সমানভাবে দেখা উচিত। কেউ যদি টাস্কের সীমা অতিক্রম করেন বলে মনে হয়, তা হলে তাঁর ক্ষেত্রেও প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। একইসঙ্গে রাজবীরের নিরাপত্তা এবং শারীরিক সুস্থতা নিয়েও দর্শকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। চ্যানেলের প্রকাশিত ভিডিও নিয়েও তাই নানা প্রশ্ন তুলছেন তাঁরা। এই পরিস্থিতিতে জিতুর মন্তব্যের বিষয়ে বিগ বস কর্তৃপক্ষ বা চ্যানেলের তরফে কোনও স্পষ্ট অবস্থান জানানো হয় কি না, এখন সেদিকেই নজর দর্শকদের।
আরও পড়ুনঃ “মাথায় হাত, কী করব?” “আমি বললাম ছাড়ব না, কপালে যা আছে তাই হবে!” শরীরে জন্ডিস, বিলিরুবিন ১৩.৬! চিকিৎসক দিয়েছিলেন তাড়াতাড়ি হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ! তবুও অভিনয়ের ক্ষিদে, ‘জন্মভূমি’র সুযোগ ছাড়েননি ভাস্বর চট্টোপাধ্যায়! মমতা শঙ্করের পাঠানো ছবিতে ফাঁস করলেন, এতদিন গোপন থাকা জীবনের লড়াই?
সব মিলিয়ে লাক্সারি বাজেট টাস্ককে ঘিরে রাজবীর এবং জিতুর এই পর্ব নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। একদিকে রয়েছে চাবি লুকিয়ে রাখার অভিযোগ, অন্যদিকে রাজবীরকে দীর্ঘ সময় জলে রেখে দেওয়ার মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন। দর্শকদের একাংশের দাবি, ‘যতক্ষণ না অসুস্থ হয়ে যায়’ ধরনের মন্তব্যকে সাধারণ মজার ছলে বলা কথা হিসেবে দেখা উচিত নয়। আবার এই মন্তব্যের প্রকৃত প্রেক্ষাপট এবং সম্পূর্ণ পরিস্থিতি সামনে না এলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনোও ঠিক হবে না। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জিতুর বিরুদ্ধে ফের সমালোচনার ঝড় উঠেছে সমাজ মাধ্যমে। আগের নারী বিদ্বেষের অভিযোগের সঙ্গে নতুন এই বিতর্ক জুড়ে দিয়ে অনেকে জিতুর আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। একইসঙ্গে স্টার জলসা কেন এমন ভিডিও প্রকাশ করল এবং এই বিষয়ে কোনও পদক্ষেপ হবে কি না, তা নিয়েও কৌতূহল তৈরি হয়েছে। ‘বিগ বস বাংলা’র পরবর্তী পর্বে এই বিষয়টি নিয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া বা নতুন মোড় আসে কি না, এখন সেটাই দেখার।






