“মধ্যবিত্তের সবথেকে বড় সমস্যা অমনোযোগ!” নিজের বাবার টিভি দেখার অভ্যাসের উদাহরণ টেনে সমাজের কোন চেনা বাস্তবতা তুলে ধরলেন অনির্বাণ ভট্টাচার্য? তাঁর কথায় কি নিজের অজান্তেই ধরা পড়ছে আমাদেরও চেনা স্বভাব?

তারকাদের বলা কিছু কথা কখনও কখনও আমাদের প্রতিদিনের জীবনের এমন কিছু বাস্তব দিক সামনে এনে দেয়, যা নিয়ে হয়তো আমরা নিজেরাও সেভাবে ভাবি না। চারপাশে ঘটে যাওয়া ছোট ছোট ঘটনা, আমাদের অভ্যাস কিংবা প্রতিদিনের সিদ্ধান্তের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে বড় কোনও বার্তা। সম্প্রতি তেমনই এক বিষয় নিয়ে নিজের মতামত প্রকাশ করেছেন অভিনেতা অনির্বাণ ভট্টাচার্য। মধ্যবিত্তের জীবনের একটি পরিচিত অভ্যাসকে কেন্দ্র করে তাঁর বক্তব্য ইতিমধ্যেই ভাবনার খোরাক জোগাতে পারে।

নিজের অভিনয় দক্ষতা, চরিত্র নির্বাচনের স্বতন্ত্রতা এবং কথা বলার নিজস্ব ভঙ্গির জন্য দর্শকদের কাছে পরিচিত অনির্বাণ ভট্টাচার্য। পর্দায় তাঁর অভিনয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর চিন্তাভাবনা ও স্পষ্ট বক্তব্যও অনেকের নজর কাড়ে। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে মধ্যবিত্তের জীবনের অন্যতম বড় সমস্যা হিসেবে তিনি তুলে ধরেছেন ‘অমনোযোগ’-এর বিষয়টি। কিন্তু কেন এমন কথা বললেন অভিনেতা?

অনির্বাণের মতে, মধ্যবিত্তের অন্যতম বড় সমস্যা হল কোনও একটি গভীর বিষয়ের প্রতি যথেষ্ট মনোযোগ ধরে রাখতে না পারা। নিজের বাবার উদাহরণ দিয়ে বিষয়টি বোঝানোর চেষ্টা করেছেন তিনি। অভিনেতা জানান, তাঁর বাবা সারাদিন কাজকর্ম করে বাড়ি ফিরে হয়তো টেলিভিশনে কোনও গানের অনুষ্ঠান দেখছেন। সেখানে গুরুত্বপূর্ণ কোনও কথোপকথন চলছে, অথচ হঠাৎই তিনি বলে উঠছেন, এত কথা হচ্ছে কেন, চ্যানেল পাল্টে কোনও অ্যাকশন সিনেমা চালাও। অর্থাৎ, যে বিষয়টি মন দিয়ে দেখার বা শোনার প্রয়োজন, সেখান থেকে মন সরিয়ে সহজ বিনোদনের দিকে চলে যাওয়ার প্রবণতাকেই সামনে এনেছেন তিনি।

শুধু সাধারণ মানুষের অভ্যাস নয়, বর্তমান বিনোদন জগতের মধ্যেও এই প্রবণতা দেখতে পান অনির্বাণ। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এখন অনেক পরিচালকও দর্শককে হঠাৎ হাসিয়ে দেওয়া কিংবা সিনেমার ট্রেলারেই বড় কোনও চমক দেওয়ার দিকে বেশি মনোযোগী হয়ে পড়ছেন। ট্রেলার দেখে দর্শকের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হল কি না, সেটাই যেন বড় হয়ে উঠছে। কিন্তু সেই সিনেমার পরবর্তী অংশে কী থাকল, গল্প কতটা গভীর হল, তা যেন অনেক সময় পিছনে চলে যাচ্ছে। অর্থাৎ, দীর্ঘ সময় ধরে কোনও বিষয়কে যত্ন নিয়ে গড়ে তোলার বদলে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া পাওয়ার প্রবণতাকেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছেন অভিনেতা।

আরও পড়ুনঃ “এক অলৌকিক অভিজ্ঞতা, শরীর ভারী হয়ে আসে…” দুর্গাপুজো শেষ হতেই নাকি বদলে যায় বাড়ির পরিবেশ? কালীপুজো পর্যন্ত ছাদে একা পা রাখতেও কেন ভয় পান সুদীপা চট্টোপাধ্যায়? ষোলো বছর ধরে কী ঘটে তাঁদের বাড়িতে, এই রহস্য জানলে চমকে উঠবেন?

আসলে অনির্বাণের এই বক্তব্যের কেন্দ্রে রয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, আমরা কি সত্যিই কোনও বিষয়কে সময় দিয়ে বুঝতে চাই, নাকি অল্পতেই বিনোদন ও তাৎক্ষণিক আনন্দ খুঁজে নিই? টেলিভিশনের চ্যানেল বদলানো থেকে সিনেমার ট্রেলার, তাঁর উদাহরণগুলো দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে কোথাও যেন মিলে যায়।

You cannot copy content of this page