পথের অবলা প্রাণীদের ভালোবেসে তাদের খাবার ও পানীয় জল দেওয়া অনেকের কাছেই মানবিক কাজ। কিন্তু এই কাজ করতে গিয়েই অনেক সময় সমস্যার মুখে পড়তে হয় পশুপ্রেমীদের। বিশেষ করে রাস্তার কুকুরদের খাওয়ানো নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় প্রতিবেশীদের সঙ্গে বিবাদ তৈরি হওয়ার ঘটনা নতুন নয়। কোথাও কুকুরের উপদ্রব, কোথাও আবার নোংরা হওয়ার অভিযোগ তুলে বাধা দেওয়া হয় পশুপ্রেমীদের। এবার এমনই এক ঘটনাকে কেন্দ্র করে চর্চায় ছোট পর্দার পরিচিত মুখ অভিনেত্রী প্রিয়া পাল।
অভিনেত্রী প্রিয়া পাল দীর্ঘদিন ধরেই এলাকার পথকুকুরদের খাওয়ানো এবং তাদের দেখভালের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। পশুপ্রেমী হিসেবে রাস্তার অবলা প্রাণীদের প্রতি তাঁর এই ভালোবাসা নতুন নয়। তবে তাঁর এই কাজ নিয়েই এলাকার একাংশের প্রতিবেশীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে অশান্তি চলছে বলে অভিযোগ। প্রতিবেশীদের একাংশের দাবি, নিয়মিত কুকুরদের খাবার দেওয়ার ফলে এলাকায় কুকুরের সংখ্যা ও উপদ্রব বাড়ছে। পাশাপাশি নোংরা হওয়ার কারণে সাধারণ মানুষের যাতায়াতেও সমস্যা তৈরি হচ্ছে। অন্যদিকে, অভিনেত্রীর বক্তব্য, ক্ষুধার্ত প্রাণীদের মুখে খাবার তুলে দেওয়া কোনও অপরাধ নয়।
এই বিরোধের জেরে একাধিকবার সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে অভিনেত্রীকে। তাঁর অভিযোগ, পথকুকুরদের খাওয়ানোর জন্য প্রতিবেশীদের একাংশের বাধা, কটূক্তি এবং মানসিক হেনস্থার শিকার হতে হয়েছে তাঁকে। শুধু খাবার দেওয়া নয়, কুকুরগুলির জন্য পানীয় জলের ব্যবস্থা করতেও বাধার মুখে পড়ছেন তিনি বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, জল খাওয়ার জন্য রাখা পাত্রও বারবার সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে বা ফেলে দেওয়া হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এই পরিস্থিতির সঙ্গে লড়াই করলেও নিজের অবস্থান থেকে সরে আসতে নারাজ অভিনেত্রী।
সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করে নিজের সমস্যার কথা আরও একবার সামনে এনেছেন প্রিয়া পাল। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, তিনি পথকুকুরদের খাওয়ার জল দেওয়ার জন্য পাত্র রাখছেন। কিন্তু তাঁর অভিযোগ, যতবারই তিনি জল রাখছেন, প্রতিবেশীদের মধ্যেই কেউ সেই পাত্রের জল ফেলে দিচ্ছেন। শেষ পর্যন্ত বাধা এড়াতে স্টিলের বাটি শিকল দিয়ে বেঁধে রাখার ব্যবস্থা করেছেন অভিনেত্রী। যাতে কেউ সহজে সেটি সরিয়ে দিতে বা ফেলে দিতে না পারে। এই ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ “নামী নারীর কাছে সিঁদুর মনে শখ বা ফ্যাশন, দরিদ্রের কাছে নিরাপত্তার বর্ম আর মধ্যবিত্তের কাছে নিয়মের শৃঙ্খল!” স্বামী ছাড়াই সিঁদুর পরা নিয়ে বিতর্কে রূপা গঙ্গোপাধ্যায় ও পল্লবী চট্টোপাধ্যায়, পরোক্ষ জবাবে সমাজের দ্বিচারিতা নিয়ে সরব তসলিমা নাসরিন কী বললেন?
ভিডিওর শেষেও যাঁরা এই কাজ করছেন, তাঁদের উদ্দেশে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন অভিনেত্রী। তাঁর বক্তব্য, যাঁরা বারবার পথকুকুরদের খাবার ও পানীয় জলের ব্যবস্থা নষ্ট করার চেষ্টা করছেন, তাঁরা নিশ্চয়ই তাঁর ভিডিও দেখছেন। তবে যতবারই তাঁরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করবেন, ততবারই তিনি অন্য কোনও উপায় খুঁজে এই লড়াই চালিয়ে যাবেন। অর্থাৎ, বাধা বা হেনস্থার মুখেও পথকুকুরদের পাশে থাকা থেকে সরে আসতে রাজি নন প্রিয়া পাল। পশুদের প্রতি ভালোবাসা আর প্রতিবেশীদের আপত্তির এই সংঘাত এবার কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর।






