বাংলা চলচ্চিত্র জগতের পরিচিত মুখ অভিনেতা কৌশিক বন্দ্যোপাধ্যায়। দীর্ঘ অভিনয় জীবনে উৎপল দত্ত, তরুণ মজুমদার, ঋতুপর্ণ ঘোষ, মিঠুন চক্রবর্তীর মতো বিশিষ্ট শিল্পী ও পরিচালকদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। অভিনয়ের পাশাপাশি বাংলা সিনেমার বিবর্তন, পরিচালকদের কাজের ধরন এবং চলচ্চিত্র নির্মাণের নানা দিকও খুব কাছ থেকে দেখেছেন তিনি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের অভিনয়জীবনের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার পাশাপাশি বাংলা সিনেমা নিয়ে একটি তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেছেন অভিনেতা।
বাংলা চলচ্চিত্রে মেইনস্ট্রিম সিনেমার গুরুত্ব এবং তার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা মতবিরোধ রয়েছে। একদিকে বাণিজ্যিক ছবির জনপ্রিয়তা, অন্যদিকে বিষয়নির্ভর ও বিকল্প ধারার সিনেমা দুইয়ের মধ্যেই রয়েছে নিজস্ব দর্শক এবং আলাদা পরিচিতি। কিন্তু মেইনস্ট্রিম সিনেমাকে সরাসরি ‘গারবেজ’ বা আবর্জনার সঙ্গে তুলনা করা কতটা যুক্তিযুক্ত? সাক্ষাৎকারে কৌশিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যে উঠে এসেছে এই বিতর্কেরই প্রসঙ্গ। তাঁর কথায়, বর্তমান সময়ের একজন অত্যন্ত ভালো পরিচালক ও অভিনেতার এমন মন্তব্য তাঁকে ভাবিয়েছে। যদিও সেই ব্যক্তির নাম সরাসরি উল্লেখ করেননি অভিনেতা, তবে তাঁর বক্তব্যে এই তুলনার বিরোধিতার ইঙ্গিত স্পষ্ট।
এরপরই পরিচালকদের কাজের ধরন বোঝাতে ঋতুপর্ণ ঘোষের প্রসঙ্গ টেনে আনেন কৌশিক। তাঁর মতে, ঋতুপর্ণ ব্যক্তিগত সম্পর্কের ক্ষেত্রে অত্যন্ত আপন করে কথা বললেও সিনেমা তৈরির সময় ছিলেন ভীষণ কঠোর। ছবির প্রয়োজনে কাউকে চরিত্র থেকে সরিয়ে দিতে কিংবা কাস্টিং পরিবর্তন করতেও পিছপা হতেন না তিনি। নিজের বক্তব্যের সমর্থনে ‘চোখের বালি’ ছবির উদাহরণ দেন অভিনেতা। তাঁর দাবি, প্রথমে এক অভিনেত্রীকে চূড়ান্ত করে চিত্রনাট্য দেওয়া হলেও পরে সঞ্জয় লীলা বনশালীর মাধ্যমে ঐশ্বর্য রাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ হওয়ার পর তাঁকেই ছবিতে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। অর্থাৎ, পরিচালকের কাছে ব্যক্তিগত সম্পর্কের চেয়ে ছবির স্বার্থ এবং চরিত্রের উপযুক্ত নির্বাচনই ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
এখানেই শেষ নয়। ‘বাড়িওয়ালি’ ছবিতে চিরঞ্জিতের অভিনয়ের পর অন্য শিল্পীকে দিয়ে ডাবিং করানোর প্রসঙ্গও তোলেন কৌশিক। তাঁর ব্যাখ্যা, চরিত্রের সঙ্গে কণ্ঠস্বরের সামঞ্জস্য না থাকায় ঋতুপর্ণ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। প্রতিষ্ঠিত অভিনেতা হলেও ছবির প্রয়োজনের সঙ্গে আপস করেননি পরিচালক। কৌশিকের মতে, ঋতুপর্ণের এই কঠোরতা কোনও ব্যক্তিগত বিরোধ থেকে নয়, বরং নিখুঁত সিনেমা তৈরির তাগিদ থেকেই আসত। তাঁর কাছে ছবির মানই ছিল শেষ কথা। ব্যক্তিগত সম্পর্ক, জনপ্রিয়তা কিংবা প্রতিষ্ঠা কোনও কিছুই সৃষ্টির স্বার্থের উপরে জায়গা পেত না।
আরও পড়ুনঃ ‘ঘৃণা নয়, ভালোবাসা’, দুর্গা-কালীর বন্দনার পর এবার যিশুর জয়গান কবীর সুমনের! প্রয়াত বাবার কোন ইচ্ছেপূরণ করলেন শিল্পী?
তাহলে কি বর্তমান সময়ের কোনও পরিচালকের মেইনস্ট্রিম সিনেমা নিয়ে মন্তব্যের বিরুদ্ধেই ঋতুপর্ণ ঘোষের কাজের উদাহরণ টেনে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন কৌশিক বন্দ্যোপাধ্যায়? কে সেই পরিচালক, যাঁর বক্তব্যকে ঘিরে এই প্রসঙ্গের অবতারণা? নাম না করেই কি বিশেষ কাউকে নিশানা করলেন অভিনেতা? উত্তর খুঁজছে দর্শক মহল।






