“ছোট বোন মনে করতাম, কিন্তু ওর ব্যবহার আর ওর অ্যাটিটিউড…” নন্দিনী দত্তের কাণ্ডে ক্ষু’ব্ধ পর্দার দাদা, ভিভান ঘোষ! বিগ বস বাংলা থেকে অপমানিত হয়ে বহিষ্কারের পর কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তকে নিয়ে কী বললেন তিনি? অভিনেত্রীর উদ্দেশেই বা কী বার্তা তাঁর?

সিক্রেট রুম থেকে ‘বিগ বস বাংলা’র মূল বাড়িতে ফিরেই নিজের আচরণে একের পর এক বিতর্ক তৈরি করেছিলেন নন্দিনী দত্ত। বিশেষ করে সহপ্রতিযোগী রাজবীর দের সঙ্গে তাঁর ব্যবহার নিয়ে শুরু হয়েছিল তুমুল আলোচনা। কথায় কথায় রাজবীরের গায়ে হাত তোলার ঘটনায় ক্রমশ বাড়ছিল দর্শকদের অসন্তোষ। শেষ পর্যন্ত শনিবারের ‘দাদার দরবার’ পর্বে বিষয়টি নিয়ে মুখ খোলেন সঞ্চালক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। নন্দিনীর এমন আচরণে প্রকাশ্যেই বিরক্তি প্রকাশ করেন তিনি। এমনকী তাঁকে বিগ বসের বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার নির্দেশও দেন সৌরভ। নন্দিনী বারবার নিজের ভুলের জন্য আর একটি সুযোগ চাইলেও শেষ পর্যন্ত তাঁর অনুরোধে সাড়া মেলেনি। ‘বিগ বস বাংলা’র নিয়ম অনুযায়ী এ দিনই তাঁকে বাড়ি থেকে বহিষ্কার করা হয়। আর নন্দিনীর এই শাস্তির পরেই সমাজমাধ্যমে বিশেষ প্রতিক্রিয়া জানালেন অভিনেতা ভিভান ঘোষ।

নন্দিনীর সঙ্গে আগে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে ভিভানের। শুধু সহকর্মী হিসেবেই নয়, অভিনেত্রীকে ছোট বোনের মতো স্নেহ করতেন বলেও জানিয়েছেন তিনি। কিন্তু বিগ বসের বাড়িতে নন্দিনীর সাম্প্রতিক আচরণ তাঁর সেই ধারণা বদলে দিয়েছে। এ দিন নিজের ফেসবুকের পাতায় নন্দিনীকে নিয়ে একটি পোস্ট করেন অভিনেতা। সেখানে তিনি লেখেন, ‘বিগ বস এই ডিসিশনটা দরকার ছিল। ওর প্রথম কাজ এ আমিও ছিলাম। ওকে খুব পছন্দ করতাম। ছোট বোন মনে করতাম। কিন্তু ওর ব্যবহার এবং attitude ওকে ভিন্ন মানুষ হিসেবে আমার সামনে আনলো।’ অর্থাৎ, এক সময় যাঁকে স্নেহ করতেন, তাঁর এমন আচরণ দেখে যে ভিভান নিজেও হতাশ, তা তাঁর বক্তব্যেই স্পষ্ট। নন্দিনীর প্রতি ব্যক্তিগত ভাল লাগা থাকলেও তাঁর সাম্প্রতিক ব্যবহারকে সমর্থন করতে নারাজ অভিনেতা। বরং বিগ বস কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তকেই প্রয়োজনীয় বলে মনে করছেন তিনি।

নন্দিনীর বহিষ্কার প্রসঙ্গে নিজের বক্তব্য আরও স্পষ্ট করে দিয়েছেন ভিভান। অভিনেতার কথায়, কোনও অন্যায় হলে তার শাস্তি হওয়াও জরুরি। তাঁর মতে, বিগ বস শুধুমাত্র কয়েকজন প্রতিযোগীর খেলা নয়, এই অনুষ্ঠানের সঙ্গে বহু মানুষের আবেগ জড়িয়ে রয়েছে। তাই প্রতিযোগীদেরও নিজেদের আচরণের বিষয়ে সচেতন থাকা উচিত। নিজের পোস্টে ভিভান লেখেন, ‘যাইহোক অন্যায়ের শাস্তি হয়েছে। ভুলে গেলে চলবে না এটা bigg boss শো এর সাথে অনেক মানুষের আবেগ জড়িয়ে।’ অর্থাৎ, নন্দিনীর সঙ্গে ব্যক্তিগত পরিচয় ও স্নেহের সম্পর্ক থাকলেও তাঁর ভুল আচরণের ক্ষেত্রে কোনও ছাড় দিতে রাজি নন অভিনেতা। অন্যদিকে, বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসার পর নন্দিনীও সমাজমাধ্যমে নিজের বক্তব্য জানিয়েছেন। সেখানে তিনি নিজের আচরণের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন এবং পুরো ঘটনাটি নিয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন। বিগ বসের বাড়িতে তাঁর আচরণ যে অনেকের মনে আঘাত দিয়েছে, তা তিনি স্বীকার করেছেন।

নিজের সমাজমাধ্যমের পোস্টে নন্দিনী লিখেছেন, ‘আমার এই সফরের যাঁরা অংশ ছিলেন তাঁদের জন্য, বিগ বস বাংলার ঘরে যা ঘটেছে সেটা নিয়ে কথা বলতে চাই। ব্যাপারগুলো অত্যন্ত ইন্টেনস হয়ে ওঠে, উত্তেজিত হয়ে পড়ি, এবং পরিস্থিতি এতটাই বাড়াবাড়ি পর্যায়ে পৌঁছয় যা হওয়ার কথা ছিল না। আমি সেটা বুঝেছি এবং তার জন্য মন থেকে ক্ষমা চাইছি।’ পাশাপাশি নিজের স্বভাবের কথাও তুলে ধরেছেন অভিনেত্রী। তাঁর বক্তব্য, তিনি সব সময় মনের কথা শুনে চলেন এবং মাথায় যা আসে, তা-ই বলে ফেলেন। নিজের অধিকারের জন্য প্রতিবাদ করতে এবং লড়াই করতেও পিছপা হন না। তবে সেই সঙ্গে তিনি এটাও বুঝেছেন যে, কিছু সীমা কখনও অতিক্রম করা উচিত নয়। নন্দিনীর কথায়, ‘আমি এমন একজন মানুষ যে সবসময় তাঁর মনের কথা শুনে চলে। মাথায় যা চলে সেইটাই বলে। আর নিজের জন্য রুখে দাঁড়াতে পারে, লড়াই করতে জানে। কিন্তু আমি এটাও জানি, কিছু লাইন কখনও ক্রস করা উচিত নয়।’ তাঁর আচরণে কেউ আঘাত পেয়ে থাকলে সহপ্রতিযোগী এবং সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ “বনির পর আর কোনও কমার্শিয়াল নায়ক তৈরি হয়নি, আমার ছেলেই শেষ হিরো!” ছেলের প্রশংসায় পঞ্চমুখ মা, পিয়া সেনগুপ্ত! ‘ঠিক, আপনার পরেও যেমন আর কোনও নায়িকা আসেনি, রাণু মণ্ডলের পর যেমন আর কোনও গায়িকা আসেনি!’ হাসির রোল নেটপাড়ায়, ছেলের হয়ে ব্যাট ধরতে গিয়ে নিজেই ট্রোলড পিয়া!

পাশাপাশি নিজের এই অভিজ্ঞতাকে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হিসেবেও দেখছেন নন্দিনী। তিনি জানিয়েছেন, ‘বিগ বস বাংলা’র সফর তাঁর কাছে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দর্শকদের কাছ থেকে যে ভালবাসা ও সমর্থন পেয়েছেন, তার জন্য সকলের প্রতি কৃতজ্ঞ তিনি। নিজের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে মাথা উঁচু করে সামনে এগিয়ে যেতে চান অভিনেত্রী। তবে নন্দিনী যে বিগ বসের বাড়ি ছেড়ে চলে যাচ্ছেন, তার ইঙ্গিত এ দিনের ঘটনার আগেই পাওয়া গিয়েছিল। তাঁর বাবার সমাজমাধ্যমের একটি স্টোরি থেকেই প্রথম এই সম্ভাবনা সামনে আসে। উল্লেখ্য, গত সপ্তাহেই বিগ বসের বাড়ি থেকে এভিকটেড হয়েছিলেন নন্দিনী। কিন্তু সাধারণ নিয়মে বাড়ি থেকে বেরিয়ে না গিয়ে তাঁকে বিশেষ ক্ষমতা দিয়ে সিক্রেট রুমে রাখা হয়েছিল। সেখান থেকে চলতি সপ্তাহের মাঝামাঝি আবার মূল বাড়িতে ফেরেন তিনি। তাঁর প্রত্যাবর্তনের পর থেকেই বাড়ির সদস্যদের সঙ্গে সম্পর্ক ও সমীকরণে বদল আসতে শুরু করে। কিন্তু রাজবীরের সঙ্গে সংঘাত এবং পরবর্তী ঘটনাগুলির জেরে শেষ পর্যন্ত প্রতিযোগিতা থেকে বহিষ্কৃত হতে হল তাঁকে।

You cannot copy content of this page