‘বিগ বস বাংলা’র বাড়ি থেকে শেষ পর্যন্ত বিদায় নিতে হয়েছে অভিনেত্রী নন্দিনী দত্তকে। সহ-প্রতিযোগী তথা তাঁর ঘনিষ্ঠ রাজবীর দে-র গায়ে বারবার হাত তোলার ঘটনায় এবার কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সঞ্চালক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। শনিবারের ‘দাদার দরবারে’ নন্দিনীর আচরণ নিয়ে রীতিমতো ক্ষোভ প্রকাশ করেন সৌরভ। শুধু রাজবীরের সঙ্গে অশান্তিই নয়, বিগ বসের বাড়ির নিয়ম ভেঙে শারীরিকভাবে আক্রমণ করার বিষয়টিও ভালোভাবে নেননি তিনি। অন্য প্রতিযোগীদের কাছেও নন্দিনীর আচরণ সম্পর্কে জানতে চান সৌরভ। কিন্তু কেউই সেভাবে তাঁর হয়ে কথা বলেননি। এরপরই সঞ্চালক স্পষ্ট জানিয়ে দেন, কোনও প্রতিযোগীর গায়ে হাত তোলার অধিকার কারও নেই। এমন আচরণ কোনও পুরুষ প্রতিযোগী করলে তাঁকেও একই শাস্তি দেওয়া হত। ফলে দ্বিতীয়বার সুযোগ পেয়েও শেষরক্ষা হল না নন্দিনীর। কান্নায় ভেঙে পড়ে আরও একটা সুযোগ চাইলেও সৌরভ নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন।
নন্দিনীর আচরণ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সৌরভের রাগ যে কতটা বেড়েছিল, তা তাঁর বক্তব্যেই স্পষ্ট হয়ে যায়। তিনি বলেন, “দুর্নিবার, সৌরভ দাস, জিতু বা রাজবীর, এদের মধ্যে কেউ যদি এমন কাজ করত, তবে আমি বিগ বসকে বলে সোজা কলার ধরে বাড়ি থেকে বের করে দিতাম। ট্রেনের টিকিট ধরিয়ে দিতাম, প্লেনেরও ব্যবস্থা করতাম না!” সঞ্চালকের মুখে এমন কথা শুনে বাড়ির অন্যান্য প্রতিযোগীরাও কার্যত ভয় পেয়ে যান। এরপর নন্দিনী বুঝতে পারেন, তাঁর বিগ বসের সফর এখানেই শেষ। বারবার ক্ষমা চেয়ে সিদ্ধান্ত বদলানোর অনুরোধ করলেও কোনও লাভ হয়নি। শেষ পর্যন্ত রাজবীরকে জড়িয়ে ধরে তাঁর কাছেও ক্ষমা চান অভিনেত্রী। চোখের জল ফেলতে ফেলতেই বিগ বসের বাড়ি ছাড়তে হয় তাঁকে। অন্যদিকে, বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসার পর সমাজমাধ্যমেও নিজের আচরণের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন নন্দিনী। তবে এই ঘটনার পরেও তাঁর পরিবারের তরফে কী প্রতিক্রিয়া আসে, তা নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছিল দর্শকদের মধ্যে।
এদিকে কলকাতা বিমানবন্দরে নন্দিনীকে নিতে হাজির হয়েছিলেন তাঁর বাবা সন্দীপ দত্ত। মেয়েকে বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন তিনি। সেখানে রাজবীরের গায়ে নন্দিনীর হাত তোলার ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মেয়ের পক্ষেই সওয়াল করেন সন্দীপবাবু। তাঁর বক্তব্য, এই ধরনের ঘটনা স্বামী-স্ত্রী কিংবা বন্ধুদের মধ্যে হয়ে থাকে। বিষয়টিকে অস্বাভাবিক বলে মনে করেন না তিনি। সন্দীপ দত্ত বলেন, “এটা স্বামী-স্ত্রী, বন্ধুদের মধ্যে হয়েই থাকে। এটা এমন কিছু অস্বাভাবিক ব্যাপার নয়। নন্দিনী বাড়িতেই ওর ভালবাসার মানুষদের সঙ্গে এই রকম ব্যবহার করে।” মেয়ের আচরণ বোঝাতে গিয়ে বাড়ির একটি ঘটনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। জানান, অনেকবার নন্দিনী তাঁর মায়ের হাত থেকে খাবারের থালা ফেলে দিয়েছে। কারণ, এত খাবার খাওয়া সম্ভব নয় বলে মনে করত সে। বাবার মতে, বাড়িতেও কাছের মানুষদের সঙ্গে এমন আচরণ করে নন্দিনী।
এরপর সন্দীপ দত্ত আরও একটি প্রশ্ন তোলেন। তাঁর কথায়, “নন্দিনী কী হাউজে আর কারও গায়ে হাত তুলেছে? রাজবীরকে ও ওই ঘরের সবচেয়ে কাছের মানুষ বলে মনে করেছিল। তাই হয়তো ওর হাতেই হাত তুলে ফেলেছে।” অর্থাৎ রাজবীরের সঙ্গে নন্দিনীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণেই এমন আচরণ হয়েছে বলে মনে করছেন অভিনেত্রীর বাবা। তবে এখানেই শেষ নয়, সাংবাদিকদের কাছে পাল্টা প্রশ্নও করেন তিনি। তাঁর প্রশ্ন, জিতু কমল কী ভাবে আগে থেকেই জানতে পেরেছিলেন যে নন্দিনী বিগ বসের বাড়ি থেকে বাদ পড়বেন? অন্যদিকে, নন্দিনীর মা-ও মেয়ের এই পরিণতি নিয়ে বিশেষ দুঃখ প্রকাশ করেননি। বরং মেয়েকে নিয়ে গর্বের কথা জানিয়েছেন তিনি। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, “আমার মেয়ে জয়ী হয়ে ফিরেছে, আমি ওর জন্য গর্বিত।” পরিবারের এই প্রতিক্রিয়া প্রকাশ্যে আসতেই নন্দিনীর আচরণ এবং তাঁর বিগ বসের সফর নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ “ছোট বোন মনে করতাম, কিন্তু ওর ব্যবহার আর ওর অ্যাটিটিউড…” নন্দিনী দত্তের কাণ্ডে ক্ষু’ব্ধ পর্দার দাদা, ভিভান ঘোষ! বিগ বস বাংলা থেকে অপমানিত হয়ে বহিষ্কারের পর কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তকে নিয়ে কী বললেন তিনি? অভিনেত্রীর উদ্দেশেই বা কী বার্তা তাঁর?
অন্যদিকে, নন্দিনীর বিদায়ের পর এবার রাজবীরের খেলা কোন দিকে এগোয়, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। বিগ বসের বাড়িতে রাজবীর ও নন্দিনীর সম্পর্ক প্রথম থেকেই দর্শকদের নজরে ছিল। কখনও তাঁদের ঘনিষ্ঠতা, আবার কখনও সামান্য বিষয় নিয়ে তুমুল ঝগড়া, সব মিলিয়ে তাঁদের সমীকরণ বারবার চর্চায় এসেছে। নন্দিনী চলে যাওয়ার পর রাজবীর কি আবার নিজের পুরনো গেম প্ল্যানে ফিরে যাবেন, নাকি তাঁর খেলায় নতুন কোনও পরিবর্তন আসবে, সেটাই এখন দেখার। উল্লেখ্য, এর আগেও দর্শকদের ভোটে একবার বিগ বসের বাড়ি থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল নন্দিনীকে। কিন্তু পরে তাঁকে সিক্রেট রুমে রাখা হয় এবং বিশেষ ক্ষমতা দিয়ে ফের বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল। দ্বিতীয়বার ফিরে এসে নতুন করে খেলার সুযোগ পেলেও রাজবীরের সঙ্গে অশান্তি এবং শারীরিক আচরণের বিতর্কে সেই সুযোগ আর কাজে লাগাতে পারলেন না তিনি।






“রামচন্দ্রকে আমি একদম পছন্দ করি না!” “লোকের কথায় নিজের স্ত্রীকে অগ্নিপরীক্ষা দিতে বাধ্য করেছিলেন! বলতে পারতেন না, আমার স্ত্রী, তাতে তোমাদের কী?” সীতাকে সবচেয়ে বড় অপমান করেছেন রাবণ না রাম? সতীত্বের প্রমাণ চেয়ে চরম সিদ্ধান্ত, প্রশ্ন তুলে ‘আদর্শ পুরুষ’ রামকে কাঠগড়ায় দাঁড় করালেন মানসী সিনহা! অভিনেত্রীর যুক্তিতে সহমত দর্শক?