রাজনীতি তাঁর পেশা হতে পারে, কিন্তু সঙ্গীতই তাঁর স্বস্তির জায়গা। আর এই পরিচয় থেকেই আজও নিজেকে আলাদা করে দেখেন ‘বাবুল সুপ্রিয়’ (Babul Supriyo)। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে কেন্দ্র ও রাজ্য, দু’জায়গাতেই দায়িত্ব সামলেছেন। সাংসদ থেকেছেন, মন্ত্রিত্বও করেছেন একাধিক বার। সামনে রাজ্যসভা নির্বাচন, আর সেই প্রেক্ষিতে তাঁকে প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, মাননীয়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)।
রাজনৈতিক সমীকরণ যতই জটিল হোক, তাঁর কথাবার্তায় বারবার ফিরে আসে শুধুই গান। যা ছাড়া তিনি নিজেকে কল্পনাই করতে পারেন না। সম্প্রতি তাই এক সাক্ষাৎকারে সংসদের দুই কক্ষ নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই নিজের অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করান তিনি। লোকসভা এবং রাজ্যসভার কার্যপ্রণালীর পার্থক্য বোঝাতে গিয়ে জানান, মন্ত্রী থাকার সুবাদে অতীতে দুই কক্ষেই কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন। তাই ভবিষ্যতে নতুন দায়িত্ব নিলেও তা তাঁর কাছে অচেনা হবে না।
সংসদীয় পরিসরে উপস্থিত থাকার অভিজ্ঞতা তাঁকে আত্মবিশ্বাসী করে বলেই মনে করেন তিনি। তবে, তাঁর কথার বড় অংশ জুড়ে ছিল সঙ্গীত। রাজ্যের দায়িত্ব সামলানোর সময় তিনি যে স্বাধীনভাবে গান গাইতে পেরেছেন, সেটিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর মতে, কাজের চাপের মধ্যেও গান তাঁকে মানসিকভাবে সুস্থ রাখে। মুখ্যমন্ত্রী নিজেও সৃজনশীল মানুষ হওয়ায় বিষয়টির গুরুত্ব বুঝেছিলেন।
আর এই উপলব্ধিই তাঁকে স্বচ্ছন্দে কাজ করতে সাহায্য করেছে। প্রশাসনিক ব্যস্ততার মাঝেও শিল্পীসত্ত্বাকে বাঁচিয়ে রাখা তাঁর কাছে অমূল্য। এই প্রসঙ্গে অতীতের এক অধ্যায়ের কথাও উঠে এসেছে। কেন্দ্রীয় দায়িত্বে থাকার সময় ধীরে ধীরে তাঁর গাওয়া কমে গিয়েছিল। আনুষ্ঠানিক সফর বা অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করা নিয়ে নাকি দলে অস্বস্তির পরিবেশ তৈরি হয়েছিল বলে তিনি ইঙ্গিত দেন। সেই সময়ের সিদ্ধান্ত এবং পদত্যাগের প্রসঙ্গও টেনে আনেন তিনি।
তিনি বলেন, শিল্পীসত্ত্বাকে দমিয়ে রেখে দীর্ঘ পথ চলা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। রাজনীতি আর সঙ্গীত, এই দুই জগতের টানাপোড়েনের মধ্যেই তাঁর পথচলা। অধিবেশন শেষে সহকর্মীদের অনুরোধে রবীন্দ্রসঙ্গীত শোনানোর অভ্যাস আজও তাঁর মনে গেঁথে আছে। জনজীবনের ব্যস্ততার ভিড়েও তিনি গানকে আলাদা করে সরিয়ে রাখেন না। বরং রাজনীতির মঞ্চেই কখনও কখনও শিল্পীর উপস্থিতি টের পাওয়া যায়, যেখানে দায়িত্বের পাশাপাশি থেকে যায় সুরের অবিচ্ছেদ্য সঙ্গ।






