“অসামান্যা রূপ, খ্যাতির শিখর থেকে হঠাৎ উধাও!” বিয়ের সিদ্ধান্তই, অভিনয় জীবনে সর্বনাশ ডেকে এনেছিল অদিতি চ্যাটার্জির? সব ছেড়ে বিদেশে পাড়ি, তবু কেন টিকল না দাম্পত্য? বিচ্ছেদের পর একাকীত্বর যন্ত্রণার মাঝেও, কীভাবে নিজেকে সামলেছেন অভিনেত্রী?

বাংলা চলচ্চিত্র ও ধারাবাহিকের দুনিয়ায় এমন কিছু মুখ আছে, যাদের উপস্থিতি পর্দায় মানেই এক আলাদা আবেগ। সময়ের সঙ্গে চরিত্র বদলেছে, বদলেছে পর্দার অবস্থান—কিন্তু ম্লান হয়নি তাদের ব্যক্তিত্ব। অদিতি চ্যাটার্জি সেই বিরল অভিনেত্রীদের একজন, যিনি একসময় বড় পর্দার নায়িকা ছিলেন, আর আজ ছোট পর্দায় মায়ের চরিত্রে সমান স্বাচ্ছন্দ্যে দর্শকের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। তার জীবনের উত্থান-পতনের গল্প ঠিক যেন সিনেমার চিত্রনাট্য—যেখানে আছে সাফল্য, বিরতি, ভাঙন এবং আবার ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই।

অদিতির অভিনয় যাত্রা শুরু হয় ছোটবেলায়। ১৯৭৬ সালের ২৬শে সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করা অদিতি সাউথ পয়েন্ট স্কুলে ক্লাস ফাইভে পড়াকালীন মীনাক্ষী গোস্বামীর নজরে আসেন। তখন তিনি ইন্ডিয়ান লাইফ সেভিং সোসাইটি বা অন্ডারসন ক্লাবের একজন শিক্ষার্থী ছিলেন। মীনাক্ষী দেবীর পরিচালনায় ওয়াটার ব্যালেটে অংশগ্রহণ করার পর অদিতির ছোট্ট প্রতিভা সকলকে মুগ্ধ করেছিল। এরপর ১৯৮৭ সালে ধারাবাহিক গিরিবালাতে ছোট্ট একটি রোলে অভিনয় করে তিনি প্রথমবার দর্শকের সামনে আসেন।

ছোট্ট বয়স পার হতেই অদিতি চলচ্চিত্র জগতে পা রাখেন। ১৯৯৪ সালে “ভালোবাসার আশ্রয়” ছবিতে কবিতার চরিত্রে অভিনয় দিয়ে তিনি প্রথমবার বড় পর্দায় পরিচিতি পান। এরপরে দহন, লবকুশ, মাটির মানুষ, মৃত্তির বাড়ির ছোট বউ, কলঙ্কিনী বধুসহ নানা ছবিতে কাজ করে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। ১৯৯৭ সালে তোমাকে চাই ছবিতে মুক্তার ভূমিকায় অভিনয় করে বিশেষ নজর কেড়েছিলেন। ১৯৯৮ সালের নয়নের আলোতে প্রসেনজিতের সঙ্গে জুটিবদ্ধ অভিনয়ও দর্শক মনে রয়ে যায়। তখন তিনি চলচ্চিত্র জগতে শীর্ষে।

কিন্তু ক্যারিয়ারের সঙ্গে ব্যক্তিগত জীবনও তার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। ২০০০ সালে কলঙ্কিনী বধু ছবির পর অদিতি অভিনয় ছেড়ে বিদেশে বিয়ের জন্য চলে যান। শুরু হয় ঘর সংসার, কিন্তু কয়েক বছরের মধ্যেই দাম্পত্য জীবন ভেঙে যায়। দীর্ঘ সময় একাকিত্ব ও মানসিক চাপের মধ্যে দিয়ে যেতে হয় তাকে। পরিশেষে ফিরে আসেন কলকাতায়, এবং চেষ্টা শুরু করেন কাজ পাওয়ার।

আরও পড়ুনঃ “৩৯৪টা ইঞ্জেকশন…হাল ছাড়িনি একদিনও, মানসিক শক্তিটাই আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছিল!” অসীম যন্ত্রণার পর পূর্ণতা পেল স্বপ্ন! ভয়, অপমান আর শারীরিক কষ্ট জয়ের গল্প শোনালেন সুদীপা চট্টোপাধ্যায়!

দীর্ঘ ১০ বছর পর ধারাবাহিক রাশিতে পরমার ভূমিকায় ফিরে আসেন অদিতি। এক সময়ের প্রধান নায়িকাকে এখন মায়ের চরিত্রে দেখার অভিজ্ঞতা দর্শকের কাছে নতুন হলেও প্রশংসার যোগ্য। বর্তমানে সিনেমায় কাজ কম হলেও ধারাবাহিকে তিনি একচেটিয়া আধিপত্য বজায় রেখেছেন। কাজের মধ্য দিয়ে নিজের একাকিত্ব এবং মানসিক চাপকে জয় করেছেন এই প্রতিভাবান অভিনেত্রী।

You cannot copy content of this page