গড়তে চান আত্মবিশ্বাসের নতুন পরিচয়! স্বপ্ন ছিল উদ্যোক্তা হওয়ার! অভিনয়ের অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে ‘Margot L’Ane’ ব্র্যান্ড লঞ্চ করে, স্বপ্ন পূরণের পথে অভিনেত্রী প্রান্তিকা দাস!

অভিনয়ের উজ্জ্বল দুনিয়ায় নিজের পরিচিতি তৈরি করার পর এবার সম্পূর্ণ নতুন এক অধ্যায় শুরু করলেন অভিনেত্রী প্রান্তিকা দাস। ক্যামেরার সামনে সফলতার পাশাপাশি এবার তিনি পা রাখলেন ব্যবসার জগতে। নিজের ফ্যাশন ব্র্যান্ড Margot L’Ane এর মাধ্যমে মেয়েদের জন্য স্টাইলিশ এবং সাশ্রয়ী মূল্যের প্রোডাক্ট নিয়ে আসার উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। অনেকদিন ধরেই নিজের একটি আলাদা পরিচয় তৈরি করার স্বপ্ন দেখছিলেন প্রান্তিকা, আর সেই স্বপ্নই ধীরে ধীরে বাস্তব রূপ পাচ্ছে এই নতুন ব্র্যান্ডের মাধ্যমে। তাঁর লক্ষ্য শুধু একটি ব্র্যান্ড তৈরি করা নয়, বরং এমন একটি পরিচিত নাম গড়ে তোলা যা মেয়েদের আত্মবিশ্বাস ও ব্যক্তিত্বকে আরও উজ্জ্বল করে তুলবে।

প্রান্তিকা দাসের অভিনয় জীবনের অভিজ্ঞতা বেশ বৈচিত্র্যময়। বলিউড, তামিল, তেলেগু, নর্থ ইস্ট এবং বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। বিভিন্ন ভাষা ও সংস্কৃতির মানুষের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে তিনি ফ্যাশন ও লাইফস্টাইল নিয়ে অনেক নতুন ভাবনা পেয়েছেন। সেই অভিজ্ঞতাই তাঁকে নিজের একটি ব্র্যান্ড তৈরির সাহস দিয়েছে। প্রান্তিকার কথায়, ছোটবেলা থেকেই তিনি এমন কিছু করতে চেয়েছিলেন যা শুধু অভিনয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পনা, গবেষণা এবং ভাবনার পর অবশেষে তিনি শুরু করেছেন Margot L’Ane এর পথচলা।

এই ব্র্যান্ডের যাত্রা শুরু হয়েছে মেয়েদের জুতো দিয়ে। প্রান্তিকার পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে এমন জুতো বাজারে আনা হচ্ছে যা দেখতে প্রিমিয়াম হলেও দাম থাকবে সবার নাগালের মধ্যে। তাঁর বিশ্বাস, ফ্যাশন শুধুমাত্র বিলাসবহুল কিছু নয়, বরং এমন কিছু হওয়া উচিত যা প্রতিটি মেয়েই নিজের দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহার করতে পারে। তাই Margot L’Ane এর জুতোগুলোতে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে আরাম, ডিজাইন এবং মানের উপর। ভবিষ্যতে ধীরে ধীরে আরও বিভিন্ন ধরনের মেয়েদের প্রোডাক্ট এই ব্র্যান্ডের মাধ্যমে বাজারে আনার পরিকল্পনাও রয়েছে।

Margot শব্দটির মধ্যেও রয়েছে এক বিশেষ ভাবনা এবং ইতিহাস। নাইন্টিন্থ সেঞ্চুরিতে সেই সব মহিলাদের Margot বলা হতো যারা আত্মবিশ্বাসী, শক্ত মনের এবং নিজের মতামত স্পষ্টভাবে প্রকাশ করতে পারতেন। এই ধারণা থেকেই ব্র্যান্ডের নাম বেছে নিয়েছেন প্রান্তিকা। তাঁর মতে, একজন Margot মানে এমন একজন নারী যিনি সাহসের সঙ্গে নিজের মতো করে জীবন যাপন করেন। প্রান্তিকা জানান, তাঁর নিজের জীবনের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা তাঁর মা এবং দিদিমা, যাঁদের তিনি সত্যিকারের Margot বলে মনে করেন। তাঁর বিশ্বাস পৃথিবীর প্রতিটি নারীই নিজের শক্তি ও আত্মবিশ্বাসে একজন Margot

আরও পড়ুনঃ “সিস্টেম আমরা কেউই আর বদলাতে পারব না, নেতা আর মন্ত্রীরা যা খেল দেখাচ্ছেন!” অন্তর্ঘাতের স্বপ্নটা বাঁচিয়ে রাখতে চান অভিনেতা! অভিনেতা সত্ত্বার উপরে অনিশ্চয়তার কালো মেঘ, তবুও অনির্বাণের কথায় বাস্তব আর প্রতিবাদের তীব্র সুর!

ভবিষ্যতের পরিকল্পনা নিয়েও বেশ আশাবাদী প্রান্তিকা দাস। তিনি চান Margot L’Ane শুধু ভারতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে একদিন আন্তর্জাতিক বাজারেও জায়গা করে নিক। তাঁর লক্ষ্য একটি বিশ্বাসযোগ্য এবং জনপ্রিয় ব্র্যান্ড তৈরি করা, যা প্রতিটি মেয়ের কাছে পরিচিত হয়ে উঠবে। সাশ্রয়ী দামে প্রিমিয়াম লুক এবং উন্নত মানের প্রোডাক্ট দেওয়ার প্রতিশ্রুতিই এই ব্র্যান্ডের মূল শক্তি। প্রান্তিকার আশা, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে Margot L’Ane এমন একটি নাম হয়ে উঠবে যা প্রতিটি মেয়ের আলমারিতে জায়গা করে নেবে এবং আত্মবিশ্বাসের প্রতীক হয়ে দাঁড়াবে।

You cannot copy content of this page